এই রিপোর্ট যখন লিখছি তখন আমার চারপাশে মাইকের উচ্চস্বর আর স্লোগানে মুখরিত।গোপালগঞ্জের টুংগীপাড়া উপজেলার সবচেয়ে আলোচিত ইউনিয়ন পাটগাতী তে প্রায় ৮ বছর পর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।স্বাভাবিকভাবেই পুরো ইউনিয়নের সব অধিবাসী এই নির্বাচন নিয়ে বিপুল উত্‍সাহ প্রদর্শন করছে।এবার এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী চারজন।এরা হচ্ছেন:টুংগীপাড়া ছাত্রলীগের সভাপতি(ভারপ্রাপ্ত)তৌফিক বিশ্বাস,সাধারণ সম্পাদক মাসুদ গাজী,মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার জাহাঙ্গীর হোসেন ও শেখ কবির হোসেন।এদের মধ্যে কে কেমন অবস্থায় আছে তার পূর্বে একটা সহজ সমীক্ষা দেয়া প্রয়োজন।স্বাধীনতার পর থেকে এবারের নির্বাচন পর্যন্ত টুংগীপাড়ার প্রধান গ্রাম গিমাডাংগার সবচেয়ে আলোচিত পাড়া পূর্বপাড়া থেকে একজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী থাকেন।এমনকি পাটগাতী ইউপির সর্বপ্রথম চেয়ারম্যান প্রয়াত মোস্তাইন বিল্লাহ টুকু বিশ্বাস ও এই পূর্বপাড়ার এবং তিনি এই পাড়াকে রাজপাড়া বলে ঘোষণাও দিয়েছিলেন যা আজ অবধি মানুষ জেনে আসছে।এছাড়া বর্তমান টুংগীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস ও এই পূর্বপাড়ার গর্বিত সন্তান।আরো বলা প্রয়োজন গোপালগঞ্জ পৌরসভার সর্বপ্রথম চেয়ারম্যান পান্না বিশ্বাস ও এই রাজপাড়ার সন্তান। সুতরাং সাধারণ বুদ্ধিতেই বোঝা যায় এই পাড়ার প্রভাব পুরো টুংগীপাড়ায় কত বিস্তৃত ।এবারে মূল প্রসঙ্গ,যে চারজন প্রার্থীর নাম উপরে লিখলাম এদের মধ্যে বর্তমানে জাহাঙ্গীর হোসেন ও মাসুদ গাজী প্রায় সমান পর্যায়ে রয়েছেন,তৌফিক বিশ্বাস তৃতীয়তে এবং দিনে দিনে মাসুদ গাজীর তীব্র প্রতিদ্বন্ধী হয়ে উঠছেন।অপরজন সম্পর্কে কিছু বলার নেই।সার্বিকভাবে মাসুদ গাজীর জনপ্রিয়তা ইউনিয়ন জুড়ে প্রশংসা করার মত এবং এ জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হতে পারতেন এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।তবে তার অদূরদর্শীতা ও সুপরিকল্পনাহীনতার কারণে তিনি রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছেন বলেই আমার অভিমত।কারণ গিমাডাংগার ঐতিহ্য হিসেবে স্থানীয় গিমাডাংগা মাদরাসায় একটি বিশেষ সভা ডেকে গিমাডাংগার সকল বর্ষিয়ান নেতা ও মুরব্বিরা একজন প্রার্থী মনোনীত করেন।এবার এই সভায়(যদিও তীব্র সমালোচনার পরে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর এই বিতর্কিত সভা ডাকা হয়) স্থানীয় সকল পাড়ার মুরব্বিরা উপস্থত হলেও পূর্বপাড়ার মুরব্বি ও নেতারা ছিলেন অনুপস্থিত।কারণ তাদের অভিযোগ তাদের পাড়া ও তাদেরকে অসম্মান করে উক্ত সভা ডাকা হয়েছে।তাদের অকাট্য যুক্তি হল :'স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কেবল এইবার আমরা প্রার্থী দেইনি বলে মাসুদ গাজী ও অন্যান্য পাড়ার মানুষ আমাদের উপযুক্ত সম্মান না করে,আমাদের অনুমতিবিহীন নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে যা এই পূর্ব পাড়ার ঐতিহ্য ও এই পাড়ার সম্মানিত প্রয়াত ও জীবিত নেতাদের অবমাননা ও অপমানের শামিল বলে আমরা মনে করি।"তাই এসকল নেতা ও মুরব্বিরা নিজ পাড়ার ঐতিহ্য ও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে তৌফিক বিশ্বাসকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরূপে মনোনীত করে। এমতাবস্থায় ও যদি মাসুদগাজী পূর্বপাড়ার এসব নেতাদের কাছে ক্ষমা চাইতেন তবে তৌফিক বিশ্বাস সমঝোতায় বসতেন।কিন্তু মাসুদ গাজী তা করলেননা।যার ফলে একই গ্রাম থেকে সমমানের দুইজন প্রার্থী নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছে,অপরদিকে শ্রীরামকান্দি ও পাটগাতী এই দুই গ্রাম থেকে একজন মাত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন এখন তুলনামূলক সুবিধাজনকস্থানে রয়েছেন যা গিমাডাংগার অধিবাসী হিসেবে মেনে নেওয়া খুবই কষ্টের।আরমাত্র পাঁচদিন,৩১মে যে ফলাফল বের হবে তার থেকে আমরা একজন সত্‍ চেয়ারম্যান পেতে চাই যিনি গ্রাম-মত নির্বিশেষে নি:স্বার্থভাবে গরীব,নিরীহ,খেটেখাওয়া মানুষের সেবা করবেন।উল্লখ্য এবারের ইউপি নির্বাচনে মিছিল নিষিদ্ধ,মাইক দিয়ে প্রচারণা চালানো যাবে;তবে বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত । আর যে কয়টা দিন নির্বাচন রয়েছে সেই কয়দিন সকল প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের শান্তিপূর্ণ সহবস্থানের জন্য অনুরোধ করছি।