সর্বশেষ

আইএস-ইসরাঈল বনাম সিরিয়া-ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে নয়া যুদ্ধের দামামা


সন্তানের বিপদে বাবা ঘরে বসে থাকতে পারে? মৃতপ্রায় খুনী সন্তান আইএস কে বাঁচাতে তাই সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে অবৈধ ইসরাঈল। যুদ্ধের নয়া ফ্রন্ট মধ্যপ্রাচ্যে চাইই চাই অবৈধ ইসরাঈলের সেনাবাহিনী। ইসরাঈল হচ্ছে জন্মদাতা, আর আইএস তার অবৈধ সন্তান। অবৈধ পিতার অবৈধ সন্তান। মানবতা ও বিশ্বের শত্রু, কলঙ্ক। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের এখন আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। ইহুদীদের সন্তান আই্এসের পরাজয়ে সন্ত্রাসী ইসরাঈল নতুন যুদ্ধের পাঁয়তারা করছে। মসুল থেকে গলাধাক্কা খাচ্ছে, পালমিরা থেকে পিছু হটেছে, মানবিজ ও আল বাবে টিকতে পারেনি দায়েশ সন্ত্রাসীরা। ফ্রন্টলাইনে না পেরে মনে হয় ওদের বাপ ইহুদীবাদী ইসরাঈলের কাছে আসাদ ও সিরিয়ান আরব আর্মির বিরুদ্ধে নালিশ দিয়েছে আইএস টেররিস্টরা। ফলে সন্তানের রক্ষা কবচ হিসেবে সিরিয় বাহিনীর উপর হামলা চালাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার। কিন্তু পাঁচ বছর বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকা সিরিয়ানরা মনে হয়না ছেড়ে কথা বলবে ইহুদী সন্ত্রাসীদের। তার প্রমাণ গতকাল ২ টি ইসরাঈলী বিমান ভূপাতিত করেছে সিরিয়ান বাহিনী। আজ ফের আক্রমণ চালাচ্ছে ইসরাইর। কি দারুন একটা মিল এই শেষ বেলায়। সেই পুরোনো হিসেব। হিসেবে চোখে বুলাই চলুন:

১। একপাশে সিরিয়া, ইরান, রাশিয়া আর অন্য পাশে ইসরাঈল, আমেরিকা ও সেীদি আরব

২। ইসরাঈলের স্বার্থের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতিকে সে কেয়ার করেনা। না হলে মানবিজে ৪০০ মার্কিন সেনা (আরটি) থাকলেও ইসরাইল কিভাবে সিরিয়ায় আক্রমণ করে?

৩। আঞ্চলিক পরাশক্তি থেকে বৈশ্বিক পরাশক্তি হতে বদ্ধপরিকর তুরস্ক বরাবরের মত ইসরাঈলের আগ্রাসনের ব্যাপারে নীরব। সে অপেক্ষা করছে রাশিয়া ও আমেরিকার সঙ্ঘাতের জন্য। ঠিক একই জিনিসের অপেক্ষায় আছে ইসরাঈলৈ

৪। ওয়াহাবী খুনী মতাদর্শ জন্ম দিয়েছে ইবনে তাইমিয়া নামক এক মধ্যযুগীয় ইনটেলেকচুয়াল বর্বর। তার মতটাকে সৌদি আরবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল ওয়াহাব ধারণ করে। সেটিকে প্রচারের ব্যবস্থা করে ইহুদী বংশোদ্ভূত আল সেীদ ও তার বংশধররা। শান্তিপূর্ণ ইসলাম ধর্মকে কলঙিকত করা এই মতবাদের ব্যাপারে ইসরাঈলের কোন চিন্তা নেই কেন? এটা মুসলমানদের মধ্যে সঙ্ঘাত তৈরি করে। এমন কি এই মতবাদ ধারণ করা সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের বেস্ট ফ্রেন্ড কান্ট্রি। কি আজব ব্যাপার।

৫। একটি এপোক্যালিপ্টিক পয়েন্ট অব ভিউ রয়েছে থিওলজিতে। সেটা গোঁড়া আব্রাহামিক ধর্ম বিশ্বাসী ইহুদী, খ্রীষ্টান ও ইসলামের অনুসারীরা বিশ্বাস করে। আইএস তথা ওয়াহাবী নোংরামী থেকে এই এপোক্যালিপ্টিক ভিউতে বিশ্বাসী শিয়াদের ব্যাপারে শঙ্কিত জায়োনিস্টরা। শিয়াদের মতে, তাদের শেষ ইমাম মাহদী এসে পৃথিবী থেকে ইসরাইল নামের অবৈধ রাষ্ট্রটিকে মুছে ফেলবে। এ কথা ইরানের বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাস থেকেই আহমেদিনেজাদ বা হাসান রুহানি ইসরাঈলকে পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা দিতে চাননা। অন্য দিকে আইএস নামের ইহুদীদের পুতুলদের কাছে ইসরাঈলের বিরোধীতা করার চেয়ে মজলুম শিয়া হত্যা করাটা পূণ্যের কাজ। ইবনে তাইমিয়া ও ওয়াহাবের সাইকোপ্যাথিক ফতোয়াকে ভিত্তি করে লাখ লাখ নিরীহ শিয়া মুসলমানদের হত্যা করেছে এই ইহুদীবাদী আইএস খারেজীর দল। সুতরাং তাদের পরাজয়ে প্রভু ইসরাঈল এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ প্রতিটি শিয়া মুসলমান শ্লোগান দেয়:
আমেরিকার পতন হোক
ইসরাঈলের পতন হোক।
সে কারণে মধ্যপ্রাচ্যে আইএস নামের বিষফোঁড়া তৈরি করতে ইসরাঈলের হাত ছিল বলে খবর বেরোয় (যুগান্তর)। কারণ আইএস এসে শিয়া তথা অবৈধ ইসরাঈল বিরোধী ব্লকের বিরুদ্ধে কথিত জিহাদ করতেছিল। তাই ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মজলুম জনতাও কখনো এই সন্ত্রাসী আইএসের পক্ষে ছিলোনা।

এখন সিরিয়ার পরিস্থিতি কি দাঁড়ায় তা বলা যাচ্ছেনা। একটি নৈরাজ্য তৈরি হতে পারে। কারণ পৃথিবীর সব কটি পরাশক্তি সিরিয়া ও ইরাকে অবস্থান করছে। সামান্য একটি ভুল ফায়ার হলেও পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে। আমার ভয় হচ্ছে, অবৈধ ইসরাঈলের ডিফেন্স ফোর্স আইডিএফ রাশিয়া ও আমেরিকার যে কারো সৈন্যবহরে হামলা করে এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দিতে পারে। অথবা সরাসরি ইরানে হামলা করতে উস্কে দিতে পারে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে। মনে রাখতে হবে, কুখ্যাত আইএস মানবতা বিরোধী একের পর এক হত্যাযজ্ঞ চালালেও ইসরাঈল একটিবার সিরিয়া বা ইরাকে আইএসের উপর বোমা হামলা চালায়নি। সে চেষ্টা করেছে ইরানকে দুর্বল করতে। কারণ ইসরাঈল জানে, আইএস তার বন্ধু, আর ইরান ও ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী জনতা তার শত্রু। 
ইসরাঈলের ভয় এখন বাশার আল আসাদকে নিয়ে। এতো চড়াই উৎরাই পেরিয়েও সে শক্তভাবে সিরিয়ার ক্ষমতায় রয়েছে। গৃহযুদ্ধ শেষ হলে বাশার আল আসাদের প্রতি ইরান ও রাশিয়ার চমৎকার সম্পর্ক তাকে আরে বেশি পপুলার করবে। তুরস্ক ও রাশিয়ারে মধ্যেও এখন ভাল সম্পর্ক। এমন পরিস্থিতিতে ঘরের পাশে ইসরাঈলের উপর নিঃশ্বাস ফেলবে সিরিয়া ও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো। সে কারণে যেমনে হোক ইসরাইল চায়না, সিরিয়ায় কোন স্থিতিশীল সরকার থাকুক। তাই আই্‌সিস ও আল কায়েদার সিরিয় শাখা জাভাত আল নুসরাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়েছে এই অভিশপ্ত ইসরাইল। তো কি হয় সিরিয়ায় সেটি দেখতে ২০১৭ সালের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথা গরম অবস্থা খুব শিগগিরই অবৈধ ও দখলদার ইসরাঈলকে পৃথিবীর প্রধান ক্ষমতাধর রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরান বনাম ইসরাঈল যুদ্ধের দামামা এখন সময়ের ব্যাপার...। আর ইসরাঈলের মিত্র সেীদি আরবের নাকের ডগায় লাফাচ্ছে হুথি বিদ্রোহীরা। সেীদি আরব ৩৪ জাতি সামরিক জোটও গঠন করেছে। অচিরেই সরাসরি সেীদি-ইসরাইল সামরিক জোট গঠিত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। সে ক্ষেত্রে দজলা-ফোরাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রটি পারস্য উপসাগরে চলে আসতে পারে। দেখা যাক কি হয়...
পাঠ অনুভূতি