এই যে সেদিনো তুমি কোরোসে করে আম কুড়ালে-
কলইয়ের ক্ষেত মাড়িয়ে গেড়ো ভরা শাক,
ঝাঁপ দিয়ে পানিতে ডুবাডুবি ঘন্টাখানেক,
সন্ধ্যায় হৈচৈ পালাপালি উন্মাতাল উঠান,
সরলতা কথা,কাজ,হাঁটাচলায় সবচোখে
আর আজ তুমি এক লাফে বালিকা ?
পাড়াতো ছেলেগুলোর উঠতি গোঁফ ভীত করে দেয়-
রাস্তায় হেঁটে চলা অচেনা পথিক পিছ ফিরে তাকায়,
উপরের ক্লাসের বখাটের দল উঁকিঝুঁকি দেয় দরজায়,
উল্লুক বয়স্ক লম্পটগুলোও 'মেয়েতো ডাঙর' হয়েছে বলে পৈশাচিক সুখ নেয়,
আর মা বলে,'শোনো মেয়ে,বেশ বড় হয়েছো,ওদিকে যেওনা,সাবধানে থেকো...'
মেয়েতো অবাক!ঠিকই তো আছি,'বালিকা হয়েছি' বললেই হলো ?
দিন যেতে না যেতে আমূল পরিবর্তন,পোশাকে আশাকে
মেয়েটা এখন আয়না দেখে,কপালের মাঝে টিপও পরে,
চুলগুলো তার বড় রেখে দেয়,কত যে বাহার চুল যে বাঁধার,
ওদিকে পরিচিত পুরুষেরা হঠাত্ পশু হয়ে যায়,
'ও পরী,তোকে লাগছে যে বেশ,কোথায় যাবি বুনডি?'
মেয়ে ভেবে চমকিত,এ কী হচ্ছে,দুনিয়া কেন তাকেই দেখছে,
পরিচিত কিছু চোখের দিকে তাকাতে কেন লজ্জা হচ্ছে?
চিন্তায় চিন্তায় বিনিদ্র রাতগুলো স্বপ্নের কারিগর করে তাকে,
ওপাশের ধ্যাড়ধ্যাড়ে এক ছেলের কেন সে ছবি আঁকে?
মেয়ে কিছু শোনেনা,মেয়ে কিছু খোঁজেনা
প্রাণপন চেষ্টায় বলে কিছু বোঝেনা
পৃথিবী রঙ করে,শঙ্কাতে লেখে মন দেয়ালিকা
বিজলী চারদিকে,উত্সব অদেখা, মেয়ে আজ বালিকা।
৫ মাচূ , ২০১৪