সর্বশেষ

৭ মার্চের আগের দিন

টানা ষষ্ঠদিনের মত পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ জুড়ে হরতাল ও অসহযোগ আন্দোলন পালিত হয়।বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ২ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকে যাতে এদেশের মানুষ বেতন ভাতা তুলে জীবনধারন করতে পারে।
(এ যুগের হরতাল যদি এমন হতো!)

৬ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় নামে জনতা। দাবি একটাই,নির্বাচনে আমরা জিতেছি-পাকিস্তান শাসন করবো আমরা।পরিস্থিতি অনুকূলে নাই দেখে গোমূর্খ ও ক্ষমতালোভী ইয়াহিয়া বেতারে শেখ মুজিবকে আলোচনার প্রস্তাব দেন।বঙ্গবন্ধু ঐ দিন সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন,শহীদের রক্ত মাড়িয়ে মুজিবুর রহমান ইয়াহিয়ার সাথে আলোচনায় বসতে পারেনা। (৬ মার্চ,২০১৫,ইত্তেফাক)

এ ঘোষণায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও সাধারণ জনতা উদ্বেলিত হয়। সেই আলোড়ন ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারের রাজনৈতিক ও সাধারণ বন্দিদের কাছেও পৌঁছে যায়। সকাল ১১ টায় কারাগার ভেঙে ৩৪১ জন কয়েদি বেরিয়ে যায়।পাক দালাল পুলিশের গুলিতে ৭ জন শহীদ ও ৩০ জন আহত হয়।এদিকে খুলনায় উত্তেজিত জনতার মিছিলে গুলি চালিয়ে পাক হানাদার সেনাবাহিনী ১৮ জনকে শহীদ করে এবং আহত হয় ৬৪ জন।(ইত্তেফাক)

এসব ঘটনা ৭ মার্চের মহাসমাবেশকে আরো বেশি গ্রহণযোগ্য করে তোলে।দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাল ডাল,বাঁশের লাঠি,মানচিত্রখচিত দেশের পতাকা নিয়ে মুক্তিকামী জনতা ঢাকায় আসতে থাকে।রেসকোর্স ময়দান প্রস্তুত হতে থাকে এক অপ্রস্তুত ঐতিহাসিক ভাষণের অপেক্ষায়-যে ভাষণ ৭ কোটি মানুষকে একটি বন্ধনে বাঁধে ।
পাঠ অনুভূতি