জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে আমাদের মধ্যেই অনেকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এবং তারা আবার দাবিও করেন জাবি তাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। ফ্যাক্ট নেই, এভিডেন্স নেই, প্রত্যেক বছর এই নতুন ব্যাচ আসলেই ঢালাওভাবে জাবিতে র্যাগিং হচ্ছে, অমুক হচ্ছে, তমুক হচ্ছে অপপ্রচার শুরু করে এঁরা। একটি নতুন আবর্তন জাবিতে পড়তে আসলেই ভাবখানা জাবি বিদ্বেষীদের এমন যে, Let's Start Propaganda against Jahangirnagar University । দু:খজনক হলেও সত্য যে ৩ বছর আগেকার বাসি হয়ে যাওয়া পিটিশনও হালে পানি পায় জাবির মানহানি করতে। নতুন শিক্ষার্থীদের না, যে কোন বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই হয়রানীমূলক, ক্ষমতার দাপট প্রদর্শনমূলক, অবজ্ঞাসূচক আচরণের আমি ঘোরতর বিরোধী। কিন্তু একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা কমপক্ষে পাঁচ বছর একসাথে থাকবে তাদের পরস্পরের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগটাকেও যেন আমরা কঠিন থেকে কঠিনতর করে ফেলছি এবং জাবির ভ্রাতৃত্ববোধকে বিরল করে তুলছি। তাই এখন একটি শিক্ষার্থী থার্ড ইয়ারে উঠে গেলেও পাশের রুমের আপু বা ভাইয়ার সাথে পরিচিত নয়, সম্মান তো দূরের কথা। ফলাফল দাঁড়িয়েছে, বেয়াদবী এখন খুব সহজলভ্য। চৌরঙ্গী থেকে ক্যান্টিন, ট্রান্সপোর্ট থেকে মুক্তমঞ্চ, শহীদ বেদী থেকে মুরাদ কোথাও গিয়ে সিনিয়ররা নিশ্চিন্তে গল্প করতে বা চা খেতে চায়না মানহানির ভয়ে। কারণ যারা মানহানি করবে তারা তো অপরিচিত। তাদের দোষ নেই। দোষ হচ্ছে পরিচয়ের সুযোগটা এখন আর নেই।
২।
আত্মকেন্দ্রীক একটি প্রজন্ম জাবিতে দাবড়ে বেড়ায় প্রায়শ। তাদের পৃথিবীতে নিজে এবং বয়/গার্লফ্রেন্ড ছাড়া কারো কোন মূল্য নেই। নেই তো নেই। এইটা সাংস্কৃতিক রাজধানীর কোন সংস্কৃতি না। জাবি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক্সক্লুসিভ যেকটি কারণে তার মধ্যে অন্যতম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বর্গীয় আন্তঃসম্পর্ক। সেটি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এটি জাবিতে যারা থাকেন তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। জাবিতে সেই দিন মনে হয় বেশি দূর নাই যে, পাঁচ বছর এক কক্ষে থেকে চলে যাওয়ার আগের দিন রুমমেটকে বলবে, ‘ভাইয়া/আপু চলেন পরিচিত হই। আমি .এই পাঁচ বছর আপনার সাথে কথা বলে আপনাকে বিরক্ত করতে চাইনি। তাছাড়া র্যাগেরও একটা ভয় ছিল। বাই দ্যা ওয়ে, ডিউড..ইউ আর খুল।‘’
৩।
যাহোক, এ বছর ভাবছিলাম, জাবির সম্ভ্রমহানী করা থেকে নিন্দুকরা ক্ষ্রান্ত দিয়েছে। ভাবছিলাম, র্যাগিং বিষয়ক বাৎসরিক সম্ভ্রমহানিরি প্রোপাগাণ্ডা বুঝি এ বছর শেষ হলো। কিন্তু না, তারা ফের জেগেছে। চলুন যৌক্তিক উপায়ে তাঁদের প্রতিহত করি।আমার তো আবার টেনশন শুরু হইছে, জাবির জাহানারা হলের সেই অসহায় মেয়েটি এই বছর কেমন আছে, ফেরেন্ট? তাকে সাহায্য করতে কেউ কি এগিয়ে আসবেন না এ বছরও? প্লিজ হেল্প হার এন্ড রেইপ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি !
৪।
আমি আবারো বলছি, যে কোন ধরনের নিপীড়ণের বিরুদ্ধে আমার জোরালো অবস্থান। কিন্তু কারো বিরুদ্ধে বা কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগেরও আমি বিরুদ্ধে। আমি মনে করি, যে গুটিকয়েক মানুষ নিপীড়ণ করে এবং যে গুটিকয়েক মানুষ ঢালাওভাবে গুটিকয়েকের দায় পুরো জাহাঙ্গীরনগরের উপর চাপিয়ে দেয় এই উভয় পক্ষই একটি সাইকোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার থেকে এটি করে। ব্যতিক্রম উদাহরণ হয়না। একটি ঘটনাকে ফোকাস করে পুরো নতুন বর্ষকে আতঙ্কিত করে যারা এরা দীর্ঘকাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর সম্পর্কে একটি নেতিবাচক সম্পর্ক মগজে তৈরি করেছে। সেই জাবি বিদ্বেষী ট্রমাটি প্রতিটি নতুন বর্ষ জাবিতে আসলেই জেগে ওঠে নিন্দকুদের। ঢাকায় সংবাদমাধ্যমে কাজ করা অনেকেই জাবি সম্পর্কে নেতিবাচক রসালো বাজে ধারণা নিয়ে নিউজ মিডিয়ায় আসে। ফলে তারাও জাবির মানহানি করতে উঠে পড়ে লাগে। তিলকে বানা তাল। র্যাগিংকে ইনটেলেকচুয়াল এলিমেন্ট করে কেউ কেউ আবার জ্ঞান জাহিরের সুযোগ পায়। ছাঁচিকরণ করে পুরো জাহাঙ্গীরগরকে নেতিবাচকতার মোড়কে ঢেকে ফেলে। এটি জাবির প্রতি অবিচার। এটি জাহাঙ্গীরনগরের প্রতি ঈর্ষান্বিত মানুষদের অসুস্থ আচরণের প্রকাশ।
৫।
আশা করি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে বিচার করতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ স্বপ্নালয়ে বেড়াতে আসবেন। ঘরে বসে শোনা কথা কান দিয়ে নিজের বিবেকের প্রতি অবিচার করবেন না। নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলবো, ভাইয়া/আপু, তোমাদের কোন ভয় নেই। ক্যাম্পাসে তোমরা হচ্ছো সবার ভালবা্সা ও স্নেহের পাত্র ও পাত্রী। ক্যাম্পাসের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে তোমাদের চলাচলে বাঁধা আছে, তোমরা নিন্দুকদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেনা। জাহাঙ্গীরনগর তোমার দ্বিতীয় জন্মের আঁতুরঘর। তোমার ঘরে কেউ নেই তোমাকে পর করবে, তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করবে। তুমি নিশ্চিত থেকো, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তোমাকে মেধা,ভালবাসা ও সৃজনশীলতার এক নতুন আলোয় উদ্ভাসিত করবে। তুমি বাংলাদেশে এক অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ত্বেরি অধিকারী হবে। তোমার দিকে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মানুষ বাঁকা চোখে তাকাবে। সেই বাঁকা দৃষ্টিকে মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জয় করেই তুমি বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করে যাবে। জয় হোক জাহাঙ্গীরনগরের। জয় হবেই। আমরািএক হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চলমান সকল মিথ্যাচার, অবমূল্যায়ন ও অপপ্রচারকে রুখে দেবো। কারণ, আমরাই জাহাঙ্গীরনগর।
২ এপ্রিল, ২০১৭।
২ এপ্রিল, ২০১৭।
