সর্বশেষ

বঙ্গবন্ধুর খুনী মাজেদের কাছ থেকে অজানা তথ্য বের হোক

বঙ্গবন্ধুর খুনী বরখাস্ত ক্যাপ্টেন মাজেদ ২৩ টা বছর ভারতের কলকাতায় ছিলো কীভাবে? কী পরিচয়ে? আমার একটা হাইপোথিসিস যে, CIA, ISI, RAW এরা সবাই কোন না কোনভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। 

সিআইএ খুব সম্ভবত তাহের গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলো। দেখবেন মার্কিন একচোখা ইতিহাসে (লরেন লিফসুৎজ এর বই) তাহেরের মত ঠাণ্ডা মাথার খুনীকেও 'অসম্পূর্ণ বিপ্লবের' হোতা হিসেবে লেখে যে তাহের বলেছিলো, '...বঙ্গবন্ধুর লাশ সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়া উচিত ছিল'(১৫ আগস্ট,২০১৬, ২০১৫, দ্যা ডেইলি স্টার)।

আর পাকিস্তানের আইএসআই-এ এক সময়ে কর্মরত জিয়াসহ পাকিস্তানপন্থী সামরিক অনেক কর্মচারীই বঙ্গবন্ধুর স্বনির্ভর রাষ্ট্রনীতি যা অনেকটা সোভিয়েতঘেঁষা তা পছন্দ করেনি। যদিও বঙ্গবন্ধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো করেছিলেন কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ভালো করে জানতো, বঙ্গবন্ধুর মত তীব্র আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন জাতীয়তাবাদী নেতা কখনোই তাবেদার হবেনা।

আবার, বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার কিছুদিন পরেই খন্দকার মুশতাককে ভারত সরকার বেশ ভালোভাবে স্বীকৃতি দেয়। এই আচরণের কারণ ইতিহাসে কেন খোঁজা হয়না? ভারতের সঙ্গে তাজ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ইতিহাসে যে একটি প্রতিবয়ান আছে যে, বঙ্গবন্ধু এসে ভারতঘেঁষা নীতি থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন স্বকীয় বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন, যেটি ভারতেরও হয়তো পছন্দ ছিলোনা। কারণ জাতীয়তাবাদী নেতাদের দূর কিংবা পার্শ্ববর্তী কেউই পছন্দ করেনা।

তো মাজেদ কলকাতায় কোথায় ছিলো? কাদের আশ্রয়ে ছিলো? কে তাকে এ যাবৎ খাওয়ালো ও পরালো? কীভাবে এই লক ডাউনের মধ্যেও সে বাংলাদেশে এলো? করোনার এই মহাদুর্যোগে ঠাস করে তাকে ফাঁসি দেয়ার আগে ডান্ডা মেরে এসব তথ্য বের করে রাখা উচিত। এর আগে বঙ্গবন্ধু ও জিয়া হত্যার সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী এরশাদ ইতিহাসের অনেক না বলা কথা প্রকাশ না করে অক্কা পেয়েছে। এই মাজেদ খুনী জানোয়ার যেন কোন একটি তথ্য যা গোপন রয়েছে তা সঙ্গে করে নিয়ে যেতে না পারে।

জেলহত্যার নির্দেশ কে দিয়েছিলো? জিয়াউর রহমান, যিনি মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য বঙ্গবন্ধু সরকার থেকেই বীর উত্তম খেতাব পেয়েছিলেন, তিনি কতটুকু সম্পৃক্ত ছিলেন জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যায়? কেন তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার না করে নানা সম্মানজনক পদে আসীন করেছিলেন? কী দায় ছিল তার এই খুনী অসভ্যদের প্রতি? যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্নেল তাহের, যার ভাইয়েরা ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে অপহরণ করতে চেয়েছিলো, সেই তাহের গংয়ের নেতৃত্বে কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে? তাহেরের ব্যাকআপ কারা ছিলো? তাহের কেন জিয়াকে মুক্ত করলো? খালেদ মোশাররফ কেন বঙ্গবন্ধুর এসব খুনীদের দেশত্যাগের শর্ত মানলো? ভারত যদি এতোই বঙ্গবন্ধুর গুণমুগ্ধ থাকতো তবে কেন তখন এই হত্যাকাণ্ডের পর নিন্দা জানালোনো? আন্তর্জাতিক নানা প্লাটফর্ম থেকে সামরিক শোষকদের কেন চাপ প্রয়োগ না করে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করলো? এরশাদ ও ভারতের সঙ্গে কেন এমন মধুর স্বপ্ন ছিলো? এইসব প্রশ্ন করে এর উত্তর খুনীর কাছ থেকে বের করা উচিত।

মনে রাখা উচিত, কোনো একটি তথ্য যা ইতিহাসের অজানা অধ্যায় উন্মোচন করে তা প্রকাশ না করে কেউ চলে গেলে সেই গোপনকারীররই বিজয় হয়! মাজেদ নামের এই নরপিচাশের কাছে থাকা সকল তথ্য বের করে জনগণকে জানানো হোক। কারণ, জাতির পিতার ব্যাপারে যেকোনো তথ্য জানা জাতির সকলের ভালবাসার অধিকার।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments