সর্বশেষ

হিটলার : ইতিহাসের আড়ালের কিছু

হিটলার
~~~


একজন ব্যক্তি। একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে শুধু একটি জাতির ত্রাতা হয়ে উঠলো তা নয়, সে সেসময়ের পুরো পৃথিবীটাকে নাড়িয়ে দিল। হিটলার। এডলফ #হিটলার। Adolf Hitler। জার্মান তৃতীয় রাইখের প্রাণ পুরুষ।

সেসময়ের সুদখোর, কুচক্রী ও ভোগবাদী জায়োনিস্ট ইহুদী, বর্বর বলশেভিক মার্কসবাদী লেনিনপন্থী এবং তৎকালীন পশ্চিমা ও আমেরকিান সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য এক আতঙ্ক হয়ে তার উত্থান। তারপর আত্মসমর্পণ না করে নিজের মাথায় নিজেই গুলি করে তার পতন। পতনের আগে পৃথিবীটাকে ভাল রকমের জ্বালিয়ে গিয়েছিল এই লোক। আজো সেই জ্বালার প্রতিক্রিয়ায় পুড়ছে বিশ্ব। রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে দখলদার ইহুদী ফিলিস্তিনে।

আজকে বিশেষ কারণে হিটলারের কথা মনে পড়ছে। সে কারণ পরে বলছি।
২।
১৯১৭ সালে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হয়। সেই বিপ্লবের পর লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করে কমিউনিস্ট বলশেভিকরা। হত্যার নেতৃত্ত্ব দেয় আমাদের কমরেড লেলিন, সাথে ছিলেন ইহুদী কমরেড লিও ট্রটস্কি।

কথিত রক্তখেলার বিপ্লবের পর কম্যুনিস্ট সামাজ্যবাদ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নেয় কমরেটগণ। সেই ধারাবাহিকতায় পোলান্ড, জার্মানী সব জায়গায় সোভিয়েত রাশিয়া নিয়োজিত বেতনভুক্ত কমরেড তৈরি হয়। এরা আবার জার্মান সাম্রাজ্যটাও বিলুপ্ত করে দেয় ষড়যন্ত্র করে।

জার্মান দেশে যারা রাশিয়ান সমাজতন্ত্র এর তাত্ত্বিক নেতা ছিল এদের মধ্যে প্রধান ছিলেন কার্ল লিবনেক্ট( Kar Liebknecht ) এবং রোজা লুক্সেমবুর্গ (Rosa Luxemburg)। এরা উভয়েই ছিল জায়োনবাদী ইহুদী।

তারা জার্মান দেশে জার্মানদের নীতি ও মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ইত্যাদিকে নাকচ করে রাশিয়া থেকে আগত কার্ল মার্ক্সের ইউটোপিয়ান তত্ত্ব প্রচার করে এবং বার্লিন, বাভারিয়া, মিউনিখে জাতীয়তাবাদী জার্মানসহ সাধারণ জার্মানদের হত্যা করায় নেতৃত্ত্ব দেয়।

পুরো জার্মানি জুড়ে এসময় অরাজকতা তৈরি করে ইহুদী ও সোভিয়েতপন্থীরা।

এদিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর দেশে ফিরতে থাকে জার্মানির সৈন্যরা। হিটলারও তাদের মধ্যে ছিলেন। দেশে #মিত্রশক্তির লুটপাট ও তাদের দোসরদের অরাজকতা হিটলার নিজ চোখে দেখলেন। দেখলেন জার্মানরা না খেয়ে ফুটপাথে খাবার খাচ্ছে বা খুঁজছে আর ইহুদী সুদখোররা তাদের রাশিয়ান কমিউনিস্ট মিত্রদের পাশে নিয়ে মজা করছে, কুকুরকে খাওয়াচ্ছে, ইত্যাদি। এ ঘটনা হিটলারের মনে ভীষণ দাগ দেয়!

এই কথা হিটলার তার আত্মজীবনীতে একাধিক জায়গায় লিখেছেন। দেশের মানুষের এই অবস্থা দেখে একজন যোদ্ধার যা হয় তা-ই হলো হিটলারের। এর সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হলো হিটলারের আর্যবাদী জঘন্য শ্রেষ্ঠত্ববাদ! হিটলারের মনে হলো জার্মানরাই হচ্ছে পৃথিবীর বিশুদ্ধ রক্তবাহী, ডমিনেন্ট রেস ইত্যাদি। এক ইহুদী মার্ক্সকে হিটলার অপছন্দ করলেও জেনে বা না জেনে হিটলার আরেক ইহুদী ডারউইনের ইউজেনিক্স দ্বারা প্রভাবিত হলো। আজকে ভারতের বিজেপী সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠীর বুদ্ধিবৃত্তিক শিকড় আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংস্থাও হিটলারের নাজি পার্টির মতাদর্শে বিশ্বাসী, তাদের প্রতীকও হিটলারের সেই স্বস্তিকা, যদিও হিটলার এই হিন্দুত্ববাদীদেরও অনার্য ভাবতেন!

ইহুদীদের প্রতি তীব্র অসন্তোষ জন্ম নিল। সেই সাথে সমাজতন্ত্রের নামে লাখ লাখ মানুষ হত্যাকারী #বলশেভিক রেডদের (লাল পতাকাবাহী) প্রতিও। হিটলারের যুক্তি ছিল, মার্ক্স একজন ইহুদী, এর তত্ত্বের মাথার সমর্থকও ইহুদীরা। অতএব কমিউনিজম ও ইহুদীবাদ এক, সমান। হিটলার মেইন কেম্পফে লেখেন,'... সুতরাং এ ইহুদীরা যদি তাদের সমাজতন্ত্র নামের বিষ বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করে তবে সেদিনই হবে মানব সভ্যতার শেষ দিন।'
৩।
হিটলারের পার্টি সমাজবাদী ছিল। এটা আমরা অনেকেই জানিনা। শুধু তাই নয় হিটলার সরাসরি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন, আজকের হিন্দুত্ববাদী বিজেপীর মতই তার দল ভীষণ জনপ্রিয় ছিলো পপুলার ভোটে।

জার্মান সাম্রাজ্যবাদী বয়ান ও শ্বেতাঙ্গ আর্য শ্রেষ্ঠত্ত্ববাদের পাশাপাশি ইহুদী ও মার্ক্সবাদীদের গণবিচ্ছিন্ন ফ্যাসিস্ট ভোগবাদ নাৎসি পার্টিকে অল্প সময়ের মধ্যেই ভীষণ জনপ্রিয় করে। বিশেষ করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সব দায় তুর্কি সাম্রাজ্যের বাটোয়ারা করে আর জার্মানির উপর অন্যায় ভার্সাই চুক্তি চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে হিটলার ও তার দলের শক্ত জাতীয়তাবাদী অবস্থান তার ভিত্তিকে শক্ত করে।

১৯৩৩ সালে নাৎসি বা নাজি পার্টি ক্ষমতায় বসে সরকার গঠন করে। জার্মানদের থার্ড রাইখ এটি। জার্মানদের উপর অন্যায্য ভার্সাই চুক্তি নামের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে হিটলার ও তার সরকার বা সেনাবাহিনীর  কাছে গান্ধীবাদী আচরণ যারা প্রত্যাশা করেছিল মূল ঝামেলাটিও তারা শুরু করেছিল।

পোল্যান্ড, এমনকি জার্মানীর অভ্যন্তরেও সোভিয়েত ইউনিয়নপন্থী ইহুদী জায়োনিস্টরা জাতীয়তাবাদীদের উপর হামলা শুরু করলো। এমনকি ৭ নভেম্বর ১৯১৮ জার্মানির শহর বাভারিয়াকে সোভিয়েত রিপাবলিকের অংশ ঘোষনা করে বলশেভিক নেতা কুর্ট আইজেনার (Kurt Eisener)। এই কুর্টও ছিল একজন ইহুদী। তার অত্যাচারে বাভারিয়ার মানুষ এতোই অতিষ্ঠ ছিলো যে, হিটলারকে তাদের ত্রাতা মনে হলো!

হিটলারের যে অকারণে #ইহুদী বিদ্বেষ এসেছিল এটা সত্য না। লিও ট্রটস্কির মত গ্রেট জায়োনিস্ট গং যে বর্বর বিপ্লবের নেতৃত্ত্ব দিয়েছে তা যেকোন মানুষকে আহত করতে যথেষ্ট। ট্রটস্কির খ্রীস্টানদের হত্যার প্রতি অতি আগ্রহ পরে ধরা পড়ে। এমন কী লেনিন নিজেই টের পেয়ে যায় ইহুদিদের কর্তৃক রাশিয়া দখলের চক্রান্ত সম্পর্কে।

লাখ লাখ মেনশেভিক কমিউনিস্ট ও জাতীয়তাবাদী রাশিয়ানদের হত্যার ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, অর্থডক্স  খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ তাদেরকে বিপ্লবের নামে হত্যা করে প্রশমিত করার চেষ্টা করে ইহুদীরা। এ যুগের অনেকেই জানেনা যে, লেনিনের  ট্রাইবুনালেই কথিত বিপ্লবী ট্রটস্কি লাখো রাশিয়ানকে হত্যার দায়ে খুনী প্রমাণিত হয়। তাকে ধরে জায়নবাদীদের পরিকল্পনা বের করে ফাঁসি দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলো রাশিয়ানরা। টের পেয়ে পালিয়ে যায় সে। ইহুদীরা দুনিয়ার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র দখলে ব্যর্থ হয়ে দৃষ্টি দেয় আমেরিকার দিকে। তারা সেটি করতে সমর্থ হয়।
যাহোক এইটুকুই আজকের আলোচনা।

বলতে চাচ্ছিলাম, হিটলার শখ করে ইহুদীদের জার্মান থেকে তাড়িয়ে দেয়নি। ওরা অমন বিতাড়িত হওয়ার মত যোগ্য খারাপ ও বজ্জাত জাতি ছিল্, এখনো আছে। এখন ফিলিস্তিনে ইহুদীদের কুকীর্তি দেখে আমাদের বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা না ইহুদীরা তৎকালীন ইউরোপে কী অশান্তিটাই তৈরি করেছিল। ইউরোপ থেকে তাদের তাড়িয়ে দেয়া ছিলো তাদেরই নিকৃষ্ট কর্মফল।

আজকের সব বড় মিডিয়া যেহেতু ইহুদীদের হাতে তাই হিটলারের উত্থান ও পতনের প্রচলিত ইতিহাসের বাইরের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা জানিনা। তার ফলে আজকের নয়া সাম্রাজ্যবাদী, পুঁজিবাদীরা আমাদের যা ইচ্ছে তাই বোঝাচ্ছে। এটা অসত্য নয়, মেইনস্ট্রিম ইতিহাস বিজয়ীর হাতে রচিত সুশীল প্রোপাগান্ডা। যুদ্ধে হিরোহিতো, হিটলার, মুসোলিনি এবং তারও আগে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের বিজয় হলে পৃথিবীর আজকের চেহারা বিভৎস এমন নাও হতে পারতো। এই সব পশ্চিমা মডার্ণিজম, #গ্লোবালাইজেশন, #ক্যাপিট্যালিজম, হেডোনিজম এই পৃথিবীতে এতো স্বাচ্ছন্দে বিচরণ হয়তো করতে পারতোনা।

*********************
এত কথার মূল কথা, আজ ২০ এপ্রিল। এই দিন হিটলার দুৃনিয়ায় আসে। আসার পর কাঁপায় কুপায় আবার চলে যায় নিজে নিজে। হিটলারের পিতা আলোইস জোহান হিটলার আমলা ছিলেন। তার মা ক্লারা হিটলার হিটলারের মত আরো ৫ সন্তানের জন্ম দেন।  ১৮৮৯ সালের ২০ এপ্রিল অস্ট্রো-হাঙ্গেরিতে জন্ম নেয় হিটলার।

১৯১৩ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রারম্ভে জার্মানিতে চলে আসে। মৃত্যু বরণ করেন ৩০ এপ্রিল। নিজেই নিজের মাথায় গুলি করে। কথিত আছে যুদ্ধবন্দিদের হিটলার মেরে ফেলতে না বলে ডাক্তার ও বিজ্ঞানীদের হাতে তুলে দিতেন গবেষণার জন্য। তিনি বলতেন, এতে করে এই ইহুদীদের একটু হলেও প্রায়শ্চিত্ত হতে পারে।

পুনশ্চ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬০ লক্ষ ইহুদীকে হিটলার হত্যা করেছে এটি ডাহা মিথ্যাচার। ইহুদীদের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে যে কথা প্রচার করা হয় তা একটি প্রোপাগান্ডা ও অতি অতিরঞ্জন। এই মিথ্যা কাহিনী বিক্রি করে ফিলিস্তিনীদের জমি ছিনতাই করে অবৈধ ইসরাঈল। কেউ প্রশ্নই তোলেনা ইউরোপীয় খ্রীস্টান কর্তৃক ইহুদীদের বিতাড়নের দায় ফিলিস্তিনের মুসলিমরা কেন দেবে?

আর, সে সময় সারা পৃথিবীতেই ৬০ লক্ষ ইহুদী ছিল না, ইউরোপে কীভাবে আসে এতো? কিংবা শুধু জার্মানিতে? এ প্রশ্ন তোলা জরুরি। এ বিষয়ে এক ইহুদী নরম্যান ফিংকেলস্টেইনের 'হলোকাস্ট ইন্ডাস্ট্রি' বইটি পড়তে পারেন। কীভাবে হলোকাস্ট কাহিনী বিক্রি বাট্রা করে ইহুদীরা কুস্বার্থ চরিতার্থ করছে সেটি আলোচিত হয়েছে এ বইয়ে।
(২০১৩-১৪ এর ভাবন। ২০১৫ এর লেখা। পরিমার্জিত অংশবিশেষ বিশ্বায়ন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও গণমাধ্যম পুস্তকে যুক্ত)

পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments