আজ অনেক ক্ষমতাধর আপনি। সত্যকে মিথ্যা বানাচ্ছেন লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে। কেউ আপনার অন্যায়, জুলুম নিয়ে কথা বললে চোখ পাকিয়ে তেড়ে যাচ্ছেন, মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন চালাচ্ছেন। আপনি দুর্বল পেয়ে তার উপর গরম দেখাচ্ছেন। সরাকে ধরা করছেন ক্ষমতা, জনবল, অর্থের জোরে। মানুষের অধিকার ও হক্ব নষ্ট করছেন। এই রমজান মাসেও আপনার অনুধাবন হচ্ছেনা যে, আপনি মিথ্যার উপর জীবন পরিচালিত করছেন; আপনি মজলুমের উপর অত্যাচার করছেন বা অত্যাচার করতে সহায়তা করছেন, আপনি আজ মানুষকে মানুষ হিসেবে গুণছেনই না। আপনি মহান আল্লাহ যে আপনার এই জালিম রূপ দেখছেন তা ভুলে রয়েছেন। তাহলে কাল কী হবে?
আজ যে শক্তিবলে আপনি জালেম, আপনি মিথ্যুক, আপনি আইলঠ্যালা, আপনি টাকা খাওয়া মাতুব্বর, আপনি ঘুষখোর, আপনি সুদখোর, আপনি ব্যভিচারী, আপনি মিথ্যা সাক্ষি, আপনি হারামখোর; কাল যদি সে শক্তি মহান আল্লাহ আপনার কাছ থেকে কেড়ে নেন কী হবে তবে?
আপনি মরে গেলে যে কাফন, যে বাঁশমাটি ও সাড়ে তিনহাত জায়গা পাবেন সেটিই তো আপনার চূড়ান্ত পরিণতি। তাহলে কীসের এই গরীমা? অহংকার? আইলঠ্যালা? মিথ্যাচার? বেঁচে থাকতে বুঝতে শিখুন। পিছনে আপনাকে নিয়ে কী আলোচনা হতে পারে সেটি ভাবুন। এ সমাজে স্পষ্টভাষী কম। মুখের উপর আপনার জুলুমের কথা অনেকেই বলতে পারেনা। তাদের চোখের ভাষা পড়ুন, তাদের ঠোঁটকে পড়ুন, তাদের মুখের পরিবর্তন মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, তাদের নীরবতার ভাষাকে বুঝতে চেষ্টা করুন। আপনার যাপিত জীবনের নানা সীমাবদ্ধতা, আপনার অত্যাচারী রূপ, আপনার মিথ্যাচারী অবয়ব আশেপাশের আক্রান্ত, বিভ্রান্ত, অবহেলিত, মজলুম মানুষের পর্যবেক্ষণের মধ্যেই খুঁজে পাবেন।
একবার ভাবুন৷ সময় এক জায়গায় স্থির থাকেনা। সময় ঘূর্ণায়মান। মানুষের জীবনও উত্থান আর পতনের জীবন। আজ যাকে বা যাদের উপর আপনি দলবদ্ধ হয়ে আক্রমণ করছেন, অবিচার করছেন কাল তাদেরকেও মহান প্রভু আপনার চেয়ে উত্তম মর্যাদা, ক্ষমতা ও শক্তি দিতে পারে। তখন তাদের সামনে কথা বলতে বিব্রত বা ইতস্তত হবেন কী না সেই ভাবনা সুসময়েই ভাবতে হয়। কারণ দুঃসময়ে কারোরই চারপাশে দুধের মাছিরা থাকেনা।
জীবন একটি প্রবাহমান সময়চাকা যা জীবনক্ষেত্রের মধ্যে নিয়ত চলমান। এখানে খুব হিসেব করে চলতে হয় যেন কারো ফসল নষ্ট না হয়, যেন পা কেটে না যায়, যেন হোঁচট খেয়ে উঠে দাঁড়ানোর মানসিকতা থাকে, যেন অন্যের কাছে গিয়ে বলার সুযোগ থাকে "আমার চাষাবাদের জন্য বা চলার জন্য এই সহযোগিতাটুকু দরকার', যেন অপরকে যেকোনো সময় হাসিমুখে বলা যায়," আপনি ভালো আছেন?
তুমি ভালো আছো?
তুই ভালো আছিস?"।
জীবনকে যাচ্ছেতাই অপব্যবহার করলে ভবিষ্যৎ মসৃণ হয়না। জীবনকে ভালবাসতে হয়। জীবনকে ভালবেসে যাপন করতে হলে অপরের জীবনকে ভালবাসতে হয়, সম্মান করতে হয়, স্নেহ করতে হয়। জীবনের প্রতি জীবনের দায় থাকতে হয়। দায়সারা জীবনযাপন মহাকালের নিষ্ঠুর গর্ভে নির্মমভাবে হারিয়ে যায়...!
#জীবনদর্শন
0 Comments