মুহাম্মদ (স), দ্বিচারী ফ্রান্স ও নিউলিবারেলিজমভিত্তিক পশ্চিমা দাসত্বের সংকীর্ণতা
~~~~~
ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্বের একটি ভীষণ বাজে স্বভাব রয়েছে। বাংলাদেশে খেয়ে পরে যারা ফ্রান্সসহ পশ্চিম ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মানসিক দাসদাসী হিসেবে বেঁচে থাকে তারাও প্রভুদের এই স্বভাব ধারণ করে। আর সেটি হচ্ছে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে মিথ্যাচার, অপপ্রচার করে এরা পৈচাশিক সুখ পায় এবং এই ঘৃণাবাদী আচরণকে "ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন" বলে জায়েজ করে। অথচ এই এরাই ইহুদীবাদীদের অত্যাচার নিয়ে কথা বললে, হলোকাস্টে মৃত্যুর সংখ্যা অতিরঞ্জিত করা হয়েছে এটি ইহুদী লেখক ফিংকেলস্টেইনের বরাতে বললেও তাকে মুক্তমত বলবেনা---বলবে এন্টি-সেমেটিজম। অথচ ফিলিপ কে হিট্টির মত গবেষকরাও বলে প্রকৃত সেমেটিক জাতি মূলত আরব জাতি। সেই আরবদের নামে, তাদের অনুসরণ করা ধর্মের নামে রাষ্ট্রীয় মদদে ঘৃণা, অবজ্ঞা ও রঙ্গতামাশা চললেও পশ্চিমের কথিত মুক্তচিন্তকপাল ও বিশ্বব্যাপী তাদের চিন্তাভাবনায় প্রভাবিত দাসদাসীরা একেবারেই চুপ! কারণ কী? কী সে কারণ?
আমি মহানবী হযরত মোহাম্মদ স কে নিয়ে অপপ্রচার ও তাঁর প্রতি অবজ্ঞার ফরাসী এজেন্ডার পর আমার গবেষণার অংশ হিসেবে এই ১০ দিন বেশ ভালোভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রভাবশালীদের মন্তব্য পর্যবেক্ষণ করেছি। আমার সাধারণীকৃত মন্তব্য নয়, আমি স্যাম্পল নিয়েই দেখেছি ফলাফল। খুবই অবাক হলাম বাংলাদেশে যারা প্রগতিশীল নামে পরিচয় দেয় (মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান, হিন্দু ও নাস্তিকতা ধর্মানুসারী নারীবাদী, বামপন্থী, অসাম্প্রদায়িকতার বুলি আওড়ানো ব্যক্তি ইত্যাদি) তারা ইসলাম ধর্মের সম্মানীত নবী (স) এর ঘটনায় একেবারেই নির্বিকার! এই লোকগুলোই কিন্তু আবার একজন মুসলিমের সামান্য ত্রুটি পেলেই ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়!
মাইকেল এইচ হার্টের দ্যা হান্ড্রেড এর মধ্যে এক নম্বর হযরত মোহাম্মদ (স)। তাঁর রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ডেডিকেটেড অনুসারী যারা এই নবী (স) কে তাঁদের প্রাণের চেয়ে ভালোবাসে। তো দুনিয়ার যে বিশ্বাসে এই কোটি মানুষের মনে আঘাত দেয়াকে ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন বলা হয় সেই মত হচ্ছে বস্তাপঁচা মত। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সেই জঘন্য মতের সমর্থক! অথচ এই ফ্রান্স আলজেরিয়াসহ বিশ্বের বহু দেশে কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করে সেই দেশের সম্পদ লোপাট করেছে। এদের মুখে সভ্যতার বুলি আওড়ানো আর ভূতের মুখে রাম নাম একই ঘটনা। এই যে কদিন আগে সমৃদ্ধ লিবিয়ার গাদ্দাফিকে হত্যা করে ফ্রান্স, সাজানো লিবিয়াকে ধ্বংস করে লক্ষ মানুষ হত্যা করে, মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ লুট করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সিরিয়া ও লিভান্তের ব্যাপক অংশ, আফ্রিকাকে বাটোয়ারা করে ফ্রান্স ও পশ্চিমের অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী দুষ্টুচক্র। অতীতেও ক্রুসেডের মাধ্যমে আরব ভূমি দখল ও লুটতরাজ করার ক্ষেত্রে ফ্রান্স অগ্রগামী ভূমিকাই রাখে।
তো এই ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের যে অহিংস আন্দোলনের ডাক দিয়েছে মুসলিম বিশ্ব তার সঙ্গে রয়েছি আমি। বাংলাদেশের পশ্চিমা কিছু চাকর-চাকরানী এই দুর্দান্ত প্রতিবাদকে "ডিহিউম্যানাইজড" করে স্যাটায়ার, তামাশা ইত্যাদির মাধ্যমে। এরা কারা? এরা হচ্ছে পশ্চিমে গিয়ে সেদেশের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে থালাবাটি ধোবে, গাড়ি মুছবে, সেলসম্যান হবে, বেবিসিটিং করবে বা করার স্বপ্ন দেখবে এবং দেশের টাকা বিদেশে পাচার করবে; আর আরবে যে প্রবাসীরা থাকে তাদের টাকা খেয়ে তাদের নিয়ে তামাশা করবে---সেই বদমাশ শ্রেণিটি। এরা জানেনা, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা পৃথিবী তেলনির্ভর আর সেই তেলের সরবরাহ যায় মুসলিম দেশ থেকে। আর পুঁজিবাদী পশ্চিম টিকে আছে লোপাট, সুদভিত্তিক অর্থনীতি, অস্ত্রব্যবসা, আর কসমেটিক্স ইত্যাদি শিল্পের উপর নির্ভর করে। পশ্চিম ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পৃথিবীর বিশাল ভোক্তাশ্রেণির মুসলমানদের চেয়ে অনেক কম সংখ্যা। ফলে মুসলমানদের বর্জন যেকারো অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে যথেষ্ট। বিশ্বব্যাপী ফরাসী পণ্য বয়কট ফ্রান্সের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরো বেশি ভঙ্গুর করে দিতে পারে; এমনকি ফ্রান্সে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দাও নিয়ে আসতে পারে যা অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশকে চিন্তায় ফেলে দিতে পারে। সে কারণে বয়কট ফরাসী পণ্য আন্দোলন ভীষণ কার্যকরী আন্দোলন এই মুহূর্তে। একে নিয়ে যারা নেতিবাচক কথা বলবে আপনি নিশ্চিত থাকুন সেই বদমাশটির হাতে ক্ষমতাকাঠামোর সামান্য ছড়ি থাকলে সেও ম্যাক্রনের মতই ইসলাম ও ইসলামের প্রিয়তম নবী মুহাম্মদ স কে আক্রমণ করবে।
আমার ফ্রেন্ডলিস্টে বেশ কিছু সংবেদনশীল মানুষ রয়েছে। বিভিন্ন সময় এদের টাইমলাইন ভরা থাকতো ইসলামের অনুসারী এই করছে, পশ্চিম দারুন, মধ্যপ্রাচ্য খারাপ, প্যাগোডা- মন্দিরে হামলা, বাংলাদেশে ইসলাম ছাড়া কোনো ধর্মের অবস্থা ভালো না ইত্যাদি বিষয়ে যার লক্ষ্য থাকতো ইনিয়ে বিনিয়ে এটি বলা যে " মুসলিমরা অসহিষ্ণু, ইসলাম কেমন যেন" এ জাতীয়। তো এই শ্রেণিটি দিল্লিতে হাজার মুসলিমকে শিবসেনা-আরএসএস মতবাদের সন্ত্রাসীরা মেরে ফেললেও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সেই মুসলিমদেরই "দানবাকৃতি" দিয়ে হত্যাকে জাস্টিফাই করতে চেষ্টা চালিয়েছে। এদের নিকট গরীবের জন্য জবাই দেয়া গরু, গরুর রক্ত ভীষণ "অমানবিক ও অস্বাস্থ্যকর", রক্তাক্ত গরু "বিভৎস", কিন্তু প্রতিমা জলে ফেলা বা রক্তাক্ত ভূমিপুত্র মহিষাসুর কিছুই না---যদিও মহিষাসুরকে স্মরণ করে শত আদিবাসী গোষ্ঠী প্রতিবাদও করে। প্রতিমা জলে ফেলায় বা প্রতিমাতে আমার কোনো সমস্যা নাই। আমি ছোটবেলা থেকে এসব পূজা অর্চণায় যাই এবং আমার অনেক বন্ধু ভিন্ন ধর্মের, আমি নাড়ু ইত্যাদিও খাই। কিন্তু এই আলোচনাটি এ জন্য করলাম যে, আমরা নিজেদের অগোচরে এমন একটি অবস্থা পার করছি যেখানে ইসলামের সবকিছুতে নেতিবাচকতা খোঁজা হয় এবং একে প্রগতিশীলতা হিসেবে চর্চা করা হয়। এমন কী যখন ইসলামকে আঘাত করা হয় তখন অন্য ধর্মের প্রতি আঘাতে মুসলিমরা প্রতিবাদী হলেও মুসলমানদের চিৎকারে অন্য ধর্মের বা মুসলমানদের কথিত প্রগতিশীল বা বামপন্থী বা পশ্চিমাপন্থীদের একেবারেই সক্রিয় দেখা যায়না।
বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের দিকে তাকান। এরা এত ক্ষুদ্র বিষয়ে নিয়ে লেখে বা বলে অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আলোচিত ধর্ম ও ধর্মীয় ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে পশ্চিমা লিবারেলিজমের ঠিকাদার রাষ্ট্রটির রাষ্ট্রীয় অপপ্রচার ও ঘৃণ্যকর্ম নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। এদের জন্য লজ্জা!
গবেষণার জন্য ভারতীয় ও এদেশীয় কিছু গ্রুপ পর্যবেক্ষণ করেছি। যারা ডেটা দিয়ে সহায়তা করেছেন তাদে ধন্যবাদ। এখানে, যখন সারাবিশ্বে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তখন উল্লাস হচ্ছে। যখন মুসলিমরা ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে, হ্যাশট্যাগ দিচ্ছে
#Boycott_French_Products
#BoycottFrance ইত্যাদি
তখন এরা WeloveFrance, staywithfrance ইত্যাদি হ্যাশট্যাগ দিচ্ছে।
আমি বুঝতে পারি, কীভাবে কত স্পষ্টভাবে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে এবং দুর্বল নেতৃত্বের কারণে একের পর এক অত্যাচারী রাষ্ট্রগুলো ইসলাম ও মুসলমানদের উপর ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক নিপীড়ন চালাচ্ছে। এ দেখে অনেক ইসলামবিরোধী ও ইসলামবিদ্বেষী ভীষণ খুশি হলেও এই ক্রমবর্ধমান খারাপ অবস্থা মুসলমানদের জন্য আশারও বাণী। কারণ রাত যত গভীর হয় ভোর তত নিকটে আসে।
ফরাসী পণ্য বর্জনের মাধ্যমে যে একতাবদ্ধ অবস্থা তা যদি বিদ্যমান থাকে তবে সেটি উত্তম হবে। আর পশ্চিমের যে খ্রীস্টানরা ম্যাক্রোর মত জায়োনবাদীদের চিনছেনা তাদেরও চেনার সময় আসছে। কারণ, ওরা যার আশায় আছে এই মজলুম মুসলিমরাও সেই আশায় আছে। যে আশায় আছে আরো অনেকে। এই যৌথ আশারা এক হয়ে শয়তান ও তার প্রোপাগাণ্ডাজগৎ একদিন ভেঙে দেবে। ততদিন ধৈর্য ধরে অহিংস প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হবে। কারণ মহান আল্লাহ বলছেন (আছর বা সময়), যারা হক্ব ও ধৈর্যের পথে আছে তারা ছাড়া মানুষ বড়ই বিপদগ্রস্থ।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম বুঝ ও প্রতিদান দিন।
0 Comments