সর্বশেষ

মিখাইল গর্বাচেভ, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার যুদ্ধ

সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গর্বাচেভ মারা গেছেন। ১৯৩১ সালে জন্ম নেওয়া গর্বাচেভকে এককভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির দায় দেওয়া হয়। 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের পৃথিবীর ক্ষমতার ভারসাম্য ছিলো পুঁজিবাদী আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বন্দ্ব। বিভিন্ন দেশে 'বাইনারি' রাজনৈতিক গ্রুপ ছিল। হয় সোভিয়েতপন্থী আর না হয় মার্কিন তথা পশ্চিম ইউরোপীয়পন্থী। 

দুই পক্ষই সাম্রাজ্যবাদী ছিল। এক দল গণতন্ত্র, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা ব্যবসা করছে, আরেক দল সাম্যবাদ ও সম্পদের রাষ্ট্রীয় মালিকানায় বণ্টন ব্যবস্থা ব্যবসার বয়ান শুনিয়েছে। 

এ সময় যদিও সুকর্ন, টিটো, মাহাথির, বঙ্গবন্ধু প্রমুখ 'নিরপেক্ষ বলয়' গড়ার চেষ্টা করেন। Non-aligned movement সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। 

মস্কো ইউনিভার্সিটির ছাত্র গর্বাচভ পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ভাবধারা দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন৷ পাশাপাশি সোভিয়েত ইউনিয়নের আর্থিক ও সামাজিক সংকট ছিল৷ 

এ থেকে মুক্ত হতে গর্বাচেভ সবচেয়ে ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নটাই ভেঙে দিলেন৷ 

এর আগে 'গ্লাসনস্ত' বা আত্মসমোলোচনা আর 'পেরেস্ত্রেইকা' বা 'পুনর্গঠন' এর মাধ্যমে পশ্চিমা গণতন্ত্র ও নব্য উদারতাবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সোভিয়ে ইউনিয়নে জায়গা দেন। এতে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও ইউরোপের বিশাল লাভ হলো। পৃথিবী বাটোয়ারা করে একা একা ভোগের সুযোগ তৈরি হলো। এ কারণে,  ১৯৯০ সালে শান্তিতে তাকে নোবেল পুরস্কার দেয় পশ্চিম। পরের বছর সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায়৷ তারপরের বছর আমার জম্ম 😉

গর্বাচেভ চলে গেলেন। আমাদের পৃথিবীর ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্ত হলো। গর্বাচেভ যে ভূমি ইউরোপীয় বলয়ে দিয়ে দেন, ভ্লাদিমির পুতিন তা আনার জন্য দুনিয়াকে আবার অস্থিতিশীল করছেন৷ 

অর্থ, জ্বালানি ও খাদ্যঘাটতিতে পৃথিবী।  মিখাইল গর্বাচেভ দেখে গেলেন--তার সিদ্ধান্তের ফল কত ভয়াবহরূপ ধারণ করেছে। তা দেখে তিনি ওপারে শান্তি পাবেন কি?
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments