সর্বশেষ

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান জানুন || মিয়ানমার বনাম বাংলাদেশ || Solution to the Rohingya Crisis

বাংলাদেশের সীমান্তে মিয়ানমার আবার অসভ্যতা শুরু করেছে। মঙ্গোলয়েড জাতিসত্তার একেবারে নিম্নমানের এরা। ইতিহাসের কোনো সময়ে এরা জাতিগত সহিংসতার বাইরে থাকেনি।
রোহিঙ্গাদের শত বছর আগে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল অথবা এরা শাসিত হতো বাংলাদেশ থেকে। সেই রোহিঙ্গাদের নিজ ভূখণ্ড থেকে তাড়িয়েছে। আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এখন আর ফেরত নিচ্ছেনা। 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা এখানে এনগেজড করতে পারিনি। আমাদের দুই মিত্র চীন আর ভারত মিয়ানমারের অসভ্যদের পাশেই থেকেছে। 

আমরা টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে ভালো সলিউশন নিয়েও আগাচ্ছিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আরাকানে 'সেইফ জোনস' (Safe Zones) গঠনের কথা বলেছিলেন। কী অদৃশ্য কারণে পরে আর 'সেইফ জোনস' বিষয়ক আলোচনায় আমরা আর যাইনি। আমাদের মিডিয়াতো মুখে কুলুপ এঁটে আছে এ নিয়ে।

অথচ জাতিসংঘের মাধ্যমে 'নিরাপদ অঞ্চলসমূহ' গঠন করা গেলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন একেবারেই সহজ হতো। এরপরের ধাপই হতো  R2P (Responsibility to Protect) অর্থাৎ জাতিসংঘের একটি শান্তি মিশন আরাকানে এসে রোহিঙ্গাদের রক্ষার দায়িত্ব পালন করতো। 

এটারই সম্প্রসারিত রূপ হতো PR2PH (Protected Return to Protected Homeland) অর্থাৎ কুতুপালং ও কক্সবাজারের নানা স্থানে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের তত্ত্বাবধানে আরাকান বা রাখাইনে নিয়ে যাওয়া হবে। এতেই জাতিসংঘের কাজ শেষ নয়, এরপর যতদিন তারা নিরাপদ না থাকবে ততদিন সেখানে শান্তিরক্ষী বাহিনী অবস্থান করবো। এসব সম্ভব হয়নি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর 'সেইফ জোনস' গঠনের প্রস্তাবটি নিয়ে আর না আগানোর কারণে।

আমি ও সহকর্মী জান্নাতুল রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কাজ করেছি। উপরের বিষয়ের পাশাপাশি আমরা বলতে চেয়েছি, সিকিউরিটি কাউন্সিলে চীন আর রাশিয়া যে ভেটো দিচ্ছে মিয়ানমার বিষয়ে এটিকে ''Uniting for Peace'' মেথডে এড়িয়ে যাওয়া যায়, যে পদ্ধতিতে কোরিয়া যুদ্ধে জাতিসংঘসহ মার্কিন ফোর্স দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তরের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করেছিল। 

আরেকটি টেকসই সমাধানের পথ হচ্ছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আরাকানে একটি গণভোট আয়োজন করা। রোহিঙ্গারা 'স্বাধীন রাষ্ট্র চায়, নাকি মিয়ানমারের সঙ্গে থাকতে চায়?'  এ বিষয়ে ভোটাভুটি। অনেকটা পূর্ব তিমুরের মডেল অনুসরণ করলে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব আবাসভূমি হতে পারে। কিন্তু পূর্বতিমুর খ্রিস্টান অধ্যুষিত হওয়ায় পশ্চিমের যে আগ্রহ, আরাকান মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ায় তেমনই অনীহা তাদের। এ ক্ষেত্রে ওআইসি, আরব লীগ দায় এড়াতে পারে না। তাদের এ ধরনের এজেন্ডাই কোনোদিন শুনিনি।

এর বাইরে টেকসই নয়, তবে বাংলাদেশের জন্য উত্তম হতো সিরিয়ায় তুর্কির নেওয়া 'এরদোয়ান পদ্ধতির ভূমিগ্রহণ পদ্ধতি' প্রয়োগ করলে। সেটি কী? 

তুর্কির এরদোয়ান বললেন, "সিরিয়া যুদ্ধের সবচেয়ে অধিক শরণার্থী গ্রহণ করেছে তুরস্ক। এ কারণে তুর্কির ভূমি দখল হচ্ছে এবং একই সঙ্গে এ বিপুল সংখ্যক মানুষ তুর্কির ভেতর দিয়ে ইউরোপে যেতে চাচ্ছে। আমরা এ জন্য সিরিয়ার শরণার্থীদের সিরিয় ভূখণ্ডেই লালন-পালন করতে চাই। আর এ কারণে তুর্কি সীমান্তে সিরিয়ার অভ্যন্তরে অন্তত ৩০ কিলোমিটার ভূমি তুর্কি দখলে নিয়ে সিরিয়ান শরণার্থীদের থাকার খাওয়ার ব্যবস্থা করবে।"

খুব সরল পদ্ধতি। যেই কথা সেই কাজ। এরদোয়ানের বাহিনী সিরিয়ার অভ্যন্তরে ৩০ কি.মি. দখল করে সিরিয়ার লোকদের জন্য সেখানেই শরণার্থী শিবির করলো। 

এ পদ্ধতিতে বাংলাদেশেরও উচিত ছিল রোহিঙ্গাদের নিজভূমে তাদের রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়া। অন্তত কুতুপালং এর সমান অংশ দখলে নিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সপ্তাহও লাগতো না। কারণ, নাফ যুদ্ধে বাংলাদেশের বিডিআর এর সঙ্গেই শোচনীয়ভাবে হেরে যায় মিয়ানমার। পাশাপাশি আমাদের হাতে রয়েছে রোহিঙ্গারা। যাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরে যাওয়ার সমস্ত অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ফ্রন্টলাইনে তাদের ব্যবহারের সুযোগও আমাদের হাতেই ছিল, আছে। 

কিন্তু যেকোন কারণে আমরা আরাকানে রোহিঙ্গাদের জন্য তুর্কি স্টাইলে 'রোহিঙ্গা-হাব' তৈরি করতে পারিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফার একটি 'নিরাপদ অঞ্চলসমূহ'ও গঠন করা হয়নি। এটি ২০১৭ সালে হলে আজকে মিয়ানমার এভাবে যুদ্ধের হেলিকপ্টার নিয়ে আমাদের ভূখণ্ডের উপর দিয়ে উড়ার সাহস পেতো না।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments