সর্বশেষ

ঈদে মিলাদুন্নবী (স) বিরোধীরা বড় বিদায়াতি এজিদি জাহেল

যারা এত বিদায়াত বিদায়াত করে এদের মাদ্রাসাটাই সবচেয়ে বড় বিদায়াত। রাসূল স কোন মাদ্রাসায় পড়েছেন? রাসূল স দ্বারে দ্বারে ঘুরে কালেকশন করেছেন? এরা যে মাইকে মানুষের কান ঝালাপালা করে দেয় এটাও বিদায়াত, এমন কী ইমামতির মত মৌলিক ইবাদত করায় পয়সার বিনিময়ে এটাও বিদায়াত, বিদায়াত এই ফেসবুকে ফতোয়াবাজিও। সে সব খুব জায়েজ হয়ে গেছে! 
কেবল আমার আল্লাহর হাবিবকে স্মরণ করে তার জন্ম ও ওফাত দিবস পালন করলেই বিদায়াত? 

ও রে জাহেলের দল, কারো ক্ষতি না করে যদি রাসূলের আগমনকে উৎসব করা হয় তাতে সমস্যা কী যে উৎসবে দুস্থ খাইতে পারে আর আমার নবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হয়?

আল্লাহর নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (স) এর জন্মোৎসব করায় আমি সমস্যা দেখি না। বরং, এই উৎসব করায় আমি রাসূল ও আহলে বাইতের শত্রু ওহাবী কট্টরপন্থীদের ব্যাজার হওয়াটার উৎস খুঁজি। 

এরা কারবালার বিষাদ ভরা দিনটিতে শোকের বিরোধী, এরা হযর‍ত আলী রা এর বৈধ খিলাফতের বিরুদ্ধে অন্যায্য বিদ্রোহ করা মুয়াবিয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং এরা মুহাম্মদ (স) এর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে নানাভাবে বঞ্চিত করা নিয়ে নীরব এবং দিন শেষে 'সৌদি আরবের লোকের জুতা বহন করে ধন্য' মানসিকতার। এদের জ্ঞান দিও প্রভু।

ছোটবেলায় আল্লাহর রাসূলের ওপর আমরা দরুদ পাঠ করতাম। আমরা রাসূল (স) কে সালাম দিতাম 'ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসূল সালাম আলাইকা' বলে। প্রাতিষ্ঠানিক খয়রাতিদের জঘন্য ফতোয়ার কারণে তা সমাজ থেকে প্রায় উঠে গেছে।

শবে বরাতে গরীব যে দুইটা রুটি খাবে--তার বিরুদ্ধেও এদের অবস্থান।

এই জাহেলরা আল্লাহ যে কোরবানীর গোশতো দুস্থ ও অভাবীদের দিয়ে খেতে বলেছেন তার সরাসরি বিরুদ্ধাচারণ করে ফতোয়া দিচ্ছে 'চাইলে কোরবানীর গোশতো নিজে সব খাওয়া যায়'।

এই জাহেলরাই দশ মহররম এলে ইমাম হোসেনের মহাবিপ্লবের আলোচনা বাদ দিয়ে এজিদ ও তার বাবার বন্দনায় ব্যস্ত থাকে!

এদের ইসলাম ইসলাম নয়। এ দরবারি সুফিয়ানি ইসলাম, উমাইয়া জাহেলি মুলুকিয়াতের দরবারি ইসলাম। এ এজিদ, হাজ্জাজ, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে ওহাব প্রমুখের ভয়াবহ বিদ্বেষের সামষ্টিক চিত্র। এদের পূর্বপুরুষ ইমামদের বিষপ্রয়োগ করতো, এরাই 'আনাল হক্ব' মনসুর হাল্লাজকে হত্যা করছে। 

নবী মুহাম্মদ (স) কেবল মুসলমান নয়, এই মহাবিশ্বের সবার জন্য আল্লাহর নিকট থেকে রহমত হিসেবে দুনিয়ায় এসেছেন৷ তিনি মানুষের মুক্তির দূত। তিনি একটি প্রাণী থেকে গাছের পাতার হক্ব সম্পর্কে বলে গেছেন। নারীকে, এতিমকে, দাস-দাসীকে, ক্ষমতাহীনকে ভালোবেসে স্থান দিয়েছেন, মর্যাদা দিয়েছেন।

এমন রহমত নিয়ে আলোচনা, উৎসব হবে না? নিশ্চয়ই হবে। আপনি আল্লাহর রাসূলের আগমনীতে আনন্দিত নন, কিংবা নীরব থাকেন--কে নিষেধ করেছে?

আরেকজন উৎসব করে তার আনন্দকে উদযাপন করছেন কারো ক্ষতি না করে। মানুষকে খাওয়াচ্ছেন, কোরান তেলাওয়াত করছেন, সালাম ও দরুদ পাঠ করছেন।  এতে আপনার সমস্যা কী?

আপনি তাকে বিদায়াত বলে খারিজ করছেন। কিন্তু সে যদি আপনাকে রাসূলদ্বেষী এজিদের তল্পিবাহক বলে? সে যদি বলে আপনি আল্লাহর নির্দেশের 'রাসূলের প্রতি সালাম ও দরুদের বিরোধী' তখন?

কট্টরপন্থী ওহাবীরা এটাই পারবে, ঘৃণা ছড়াতে। ধর্মকে বাণিজ্য করেছে ওরা। 

মানুষের বাড়িতে আগে মিলাদ হতো, সবিনা খতম হতো, অসহায় এতিম দুবেলা খাইতে পারতো। আর এখন সব মোল্লাদের দিতে বলে। ওরা মুহাম্মদ স এর আদর্শে বিশ্বাসী নয়, ওরা সেই ইহুদি রাবাইদের দোসর।

মুহাম্মদ (স) মৃত এটা যারা মনে করে না তাদের অধিকার আছে তাঁর জন্মদিনকে উদযাপন করার। একইভাবে মুহাম্মদ (স) আল্লাহর দীদার লাভ করতে মহাপ্রস্থান করেন এই দিনে সে হিসেবেও দিনটি স্মরণযোগ্য। 

সে সব বাদ দিলাম। ধরেন, মৃত্যুর দিনেই কেউ মুহাম্মদ স কে স্মরণ করে দুস্থদের খাওয়ালো। তাতে সমস্যা কী?

আর সোমবার আর রবিবার বা তারিখ নিয়ে যে বিতর্ক এ বিতর্ক ওহাবীদের জন্য প্রতিটি হাদিসগ্রন্থেও রয়েছে। এতো বিতর্কের শেষ কোথায়?

সরলভাবে ভাবেন। আল্লাহ যা কোরানে করতে বা না করতে বলেননি, তা অন্যের ক্ষতি না করে ইসলামে শরিয়তের মধ্যে পালনে সমস্যা কোথায়?

সমস্যা আছে অন্য জায়গায়। এই নবী প্রেম এক সময় আলী, ফাতিমা, হাসান ও হোসাইন এবং সিফফিন কারবালার আলোচনায় নিয়ে যায়। এ থেকেই বিরোধিতা।

কেবল চিল্লিয়ে 'ঠিক বা বেঠিক' এর বাইরেও একাধিক মত ও পথ থাকতে পারে। আপনার মত কট্টরপন্থীদের ও নবীপ্রেমীদের মেটাফিজিক্যাল ডেস্টিনেশন এক? আপনি কেবল নিজের পথকে শুদ্ধ ভাবছেন অথচ আপনার চেয়ে 'সরল পথে' অনেকেই একই গন্তব্যে যাচ্ছে এই বোধও আপনার নাই!

সিরাতুল মুস্তাকিম নিয়ে প্যাঁচাপ্যাঁচি ভালো নয়। এ তে কল্যাণ নেই।

অদ্বিতীয় রাসূলের--আল্লাহর সর্বশেষ রাসূলের আগমনী দিনে জগতের সমস্ত প্রাণের শান্তি কামনা করি। 

আসসালামু আলাইকুম, ইয়া রাসূল আল্লাহ।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments