এ দেশে সুন্দর, বিনয়সহকারে সৎভাবে বাস করতে চাইলে সেটি আপনার জন্য ভীষণ কষ্ট ও যন্ত্রণাদায়ক হবে। ধরুন, গাড়ির লোকটার উচিত বৃষ্টিতে আপনার লাগেজ ভেতরে নিতে ব্যবস্থা নেওয়া, সে ভেতরে শুয়ে থাকবে। নতুন জায়গায় যাবেন, চড়া দাম হাঁকাবে সব কিছুর আপনি এখানে নতুন এটি জানলে!
আর মানুষের সঙ্গে ব্যবহার রুক্ষ, প্রায় অধিকাংশ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ধারণা নাই, কোন পর্যন্ত জিজ্ঞেস করা যায়, কোন পর্যন্ত জানতে চাওয়া যায় একজনের কাছে এই বোধ নাই।
আবার ধরেন, উঁচু থেকে নিচু সব তলায় অসৎ ও অযোগ্যতার শিকড় গভীরে৷ অর্জিত যোগ্যতার চেয়ে এখানে অর্থ, ফোন কল, রেকমেন্ডেশন ইত্যাদি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য এখানে, আপনার সর্বোচ্চ পাবলিকেশন বা অভিজ্ঞতা থাকার পরে সবচেয়ে ভালো পরীক্ষা দিলেও আপনার শিক্ষক হওয়ার সম্ভাবনা থাকবেনা। এর মধ্যে নানা পার্টির আর্থিক লেনদেন, প্রশাসন ভবনের ফলাফল চলে যায় ব্যক্তিগত বাংলোতে! সেখানে নানা কারসাজি, কারামতির ষড়যন্ত্র প্রকৌশল করতে বেলা চলে যায়! ন্যূনতম সভ্যতা, লজ্জা, ভদ্রতা ও ভব্যতাও লোপ পায় তাদের! এ কারণে অযোগ্যতার দুষ্টুচক্র প্রবাহমান রাখতে টেনে আনা হয় বস্তাপঁচা চিন্তাহীনদের!
শিক্ষকতার মত মহান পেশা অর্থ, লবিং, রেকমেন্ডেশন, রাজনীতি বা ফোনে বিক্রি হওয়া মানে বিবেক সস্তায় বিক্রি হওয়া। এতো সস্তা বিবেকের সম্মান থাকে না। আবার, অন্যের হক্ব ও রিযিক নষ্ট করায় জালিম হয় সংশ্লিষ্টরা এবং পরকালীন শাস্তিও অবধারিত হয়ে যায়। কারো জন্য দুনিয়ারও। আমি এদের জুলুমের ব্যাপারে মহান আল্লাহর ফয়সালা চেয়ে দোয়া করি।
মেধা ও যোগ্যতা থাকার পরেও একজনের ফোন নেই বলে তাকে বাদ দেওয়া ভয়াবহ জুলুম। এই হিউমিলিয়েশন, এই টর্চার বিবেকবান মানুষ বেশিদিন সহ্য করবে? দুর্বলচিত্তের কেউ কেউ নিজেকে হত্যা করে আর সবলরা পুরো দেশটা ছেড়ে এমন জায়গায় যায় যেখানে ওদের জন্য এই জালেমদের কেউ কেউ আফসোস বা ঈর্ষা করে অথবা নির্লজ্জের মত এদেশ তখন তাকে নিয়ে নিরর্থক গর্ব বা আলাপ করে।
এখানে জ্যামে অকারণে সময় যাবে, মূল্যবান সময়। ভালো কাজ ও পরিশ্রম করলে আরো বোঝা চাপাবে। ন্যায়বিচার নেই, সাম্য নেই। যত্রতত্র প্রাইভেট কার অবৈধভাবে পার্ক করলে কিছু বলবেনা, গরীব রিকশাচালক একটু জিড়াতে দুই মিনিট এক পাশে বসে থাকলেও তার চাকা পাংচার! প্রতিহিংসামূলক প্রতিবেদন, ও নানা এজেন্সির হয়রানী! এসব কোনো সভ্য সমাজের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। এখানে আত্মমর্যাদাবোধ ও সততা নিয়ে মেরুদণ্ডসম্পন্ন মানুষ হয়ে বাস করা দুঃসাধ্য!
আপনার অপছন্দের কেউ যার শিক্ষক সেই ছেলের কী দোষ আপনাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে? তাকে আপনি ঘৃণা করেন কোন বিবেকে? ধরাকে সরা করার এই অপতৎপরতার ব্যাপারে এখানে লিখে রাখলাম যেন, কোনোদিন বিস্মৃত না হয়। কারো কারো সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে শেয়ারও করেছি। তারা সময় আসলে সাক্ষি দেবেন এটাই আমার বিশ্বাস। সাম্য, মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের স্বার্থেই একটা কালপ্রিটকেও ছেড়ে দেবো না ইন শা আল্লাহ। কারণ, এই অপব্যবস্থার নেপথ্য যারা তারা জনগণের করের টাকা খেয়ে আমানতের ভয়াবহ ক্ষমার অযোগ্য খেয়ানত করেছে।
এখানে আপনার মেধা পঁচে যাবে বিবেকপঁচাদের অত্যাচারে। এখানে আপনার দীর্ঘশ্বাস কান্নার ক্রমাগত ঝড় তৈরি করবে এবং এক সময় আত্মসত্তা আপনাকে বলবে,
"অনেক হয়েছে! এবার আল্লাহর ওপর ভরসা করে এখান থেকে বিদায় নাও। এমন জায়গায় যাও যেখানে তোমার দিকে চাইতে হলে ওদের অমেরুদণ্ডী বিবেকহীন মগজ আর ঘাড়টিকে উঁচু করতে হবে, তোমার চোখে চোখ রাখার ভয় থাকার পরেও যেন অনুশোচনা ওদের দগ্ধ করে।"
ইন শা আল্লাহ সময়ই জবাব দেবে গতকাল, আজ ও আগামীর প্রতিটি জাহেল ও জালিমদের।
ক্ষমা হয়তো করবো, তবে ভুলে যাবো না এক বিন্দু বহুমুখী জুলুমের কথাও...!
0 Comments