সর্বশেষ

শিক্ষক দিবস: জালিম শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অধঃপতন বিষয়ক জরুরি আলাপ

জালিম অপশিক্ষক/অপশিক্ষিকাদের সংকীর্ণতা, নীতিহীনতা, পক্ষপাতিত্বের বিচার আল্লাহর কাছে দিয়েছি৷

আর দিন শেষে সুশিক্ষকদের সালাম ও অভিবাদন। 

শিক্ষকতা এ পৃথিবীতে অনন্য। শিক্ষক মহান মানুষ গড়ার কারিগর। 

আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে যারা বের হয় এর একটি বড় অংশের নীতি নিয়ে আলাপ থাকেনা। দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে এ জন্য। 

সততা, মানব ও স্বদেশপ্রেম, ন্যায়বিচার বিষয়ে দৃঢ়তা ও স্বচ্ছতার অভাব দেখা দেয়। এর অন্যতম কারণ আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে নীতি, সততা, স্বচ্ছতা ও স্বদেশপ্রেমের ঘাটতি৷ 

বুঝমান ছেলেমেয়েগুলো ৫-৬ বছর ক্লাসে যাচ্ছে অথচ সুনীতির কথা সেখানে অনুচ্চারিত হয়।

কারণ, যিনি শিক্ষক হিসেবে আছেন তিনি নিজেই কারো না কারো হক্ব নষ্ট করে নানা কারসাজি, কারামতি করে এখানে এসেছেন। শিকড় যদি নড়বড়ে হয়, বৃক্ষ মজবুত হবে কী করে?

অন্যদিকে, আমার নমুনার শতকরা ৯৯% ই তাদের প্রিয় শিক্ষকদের নাম বলতে বললে কোনো দ্বিধা ছাড়াই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নামটি বলে দেয়৷ কারণ, তাঁরা নিঃস্বার্থ খেটেছেন আমাদের জন্য।

একটু সময় নিয়ে মাধ্যমিকের কোনো শিক্ষকের নাম আসে, এর একটুপরই কেউ কেউ কলেজের শিক্ষকদের নাম বলেন। এবং খুবই হাতেগোনাদের কারো কারো ভাগ্য ভালো হওয়ায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আদর্শ শিক্ষকের দেখা পান। 

শিক্ষক দিবস এলেই আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কথা ভেবে খারাপ লাগে৷ মানুষগুলো কী কষ্ট করে আমাদের ভিত্তি গড়ে দেয় অথচ তাদের আর্থিক বা গ্রেডভিত্তিক পদমর্যাদা খুবই আফসোসের। 

এ নিয়ে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের 'ছার/ম্যাঁদামদের' নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে জোরালো কোনো আলাপ কোনোদিন চোখে পড়েনি। 

অবশ্য, ইনারা নিজেরা নিজেদেরই একটি স্বতন্ত্র বেতন স্কেল আনতে ব্যর্থ! অন্যদের কথা কীভাবে ভাববেন? তারমধ্যে, 'পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক' এটা নিয়ে অপ্রকাশিত বা প্রকাশিত দম্ভ তো আছেই। অথচ একটু অনুসন্ধান করলেই দেখবেন আজকের এই দাম্ভিকের বোর্ড স্বচ্ছ ছিলোনা, তারচেয়ে অধিক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে তাকে এনেছে বোর্ড সদস্যদের কারো সুনজর বা বোর্ডের বাইরের ক্ষমতা/প্রভাবশালী ফোনে।

এভাবে, নিয়োগে দুর্নীতি-অনিয়ম, আর্থিক অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি, চারিত্রিক শঠতা ও অসততা ইত্যাদি নানা কারণে শিক্ষকদের, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মেরুদণ্ড শক্ত নেই। এই অমেরুদণ্ডী দশার সূত্রপাত হয় একজন কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে শিক্ষক/শিক্ষিকা বানানোর মাধ্যমে। কারণ, নিজের চেয়ে অধিক যোগ্য বা মেরুদণ্ডসম্পন্ন, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে পারা স্বাধীনচেতা ছেলে-মেয়েদের অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতাসম্পন্ন, কম নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন ছার/ম্যাদামরা পছন্দ করেন না। ফলে শিক্ষকতায় এখন সবচেয়ে উত্তম মানুষটিকে আমরা পাচ্ছি না। আর যাদের মেরুদণ্ড শক্ত থাকে না তাদের দাবি আদায়ের সক্ষমতা হ্রাস পায়। সেটিই চলমান। 

তারপরও আমি বিশ্বাস করি, একটি জাতির ভাগ্য বদলে দিতে পারেন সৎ ও দক্ষ শিক্ষকবৃন্দ। সেই শিক্ষাগুরুরা জাতির সম্পদ যাদের দেখলে মাথাটি সশ্রদ্ধে অবনত হয় ভালোবাসায়। 

যারা ছাত্রছাত্রীদের মনে ভীতি ও আতঙ্ক তৈরি করে, নম্বর ও নানা কিছুর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের জিম্মি করে, যারা অযোগ্যতার দুষ্টুচক্র গড়ে তোলে, ক্লাসে ফাঁকি দেয়, ফল কারচুপি করে, লাম্পট্য ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা শিক্ষক নামের কলঙ্ক। 

এই কলঙ্কমোচনের উপরই নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশে শিক্ষকদের সম্মান বৃদ্ধি পাবে, নাকি অবশিষ্টটুকুও ধূলিসাৎ হবে।

আমাদের ইতিবাচক জাতিসত্তা গড়ে তুলতে আদর্শ শিক্ষক প্রয়োজন সবার আগে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বত্র আমাদের প্রজ্ঞাবান, পরিশ্রমী, গবেষণাপ্রেমী, সৎ, সাহসী শিক্ষক আবশ্যক। প্রকৃত গুরু দরকার আমাদের।

জগতের সমস্ত আদর্শ ও ন্যায়নিষ্ঠ শিক্ষাগুরুর প্রতি অবনতচিত্তে সালাম।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments