সর্বশেষ

বেগুন সাংবাদিকতা : ৭১ টিভিতে শিক্ষককে কেন অপমান করলো তিন নারী সাংবাদিক?

ঝিঙ্গা সাংবাদিক এখন সিউডো ফেমিনিস্টদের যে অস্ত্র 'ভিক্টিম কার্ড' ব্যবহার করছেন। তার পোস্টে সহস্র 'হাহা'!  সে জন্য চেষ্টা করছেন, নারী হিসেবে তাদের সমালোচনা করার প্যাঁচালটি সামনে আনার। 
কিন্তু, জগতে পুরুষ সাংবাদিকদের অপকর্মের নিন্দা হয় না? পুরুষ হিসেবে তারা ইন্ডেমনিটি পেয়েছেন? যেমন, একাত্তরের বার্তা বিভাগের সর্দার শাকিলের বিরদ্ধে ডা. তৃণা নামের নারী যৌন হয়রানী, ধর্ষণ ইত্যাদির অভিযোগ দিলে তখন কিন্তু শাকিল পুরুষ হিসেবে ছাড় পায়নি। বরং বাস্তব পাবলিক প্লেসে এবং ভার্চুয়াল পাবলিক স্পিয়ার উভয় জায়গায়ই ডা. তৃণা জনসমর্থন পেয়েছেন। এমন কী 'কনসেনসুয়াল যৌন সম্পর্ক' হলেও বিভিন্ন গণমাধ্যম একপাক্ষিকভাবে ঐ নারীরই পক্ষ নিয়েছিল।
সেই সময় ভাট্টিটিটিদের কী অবস্থা ছিল তা জানা আছে? আমার মনে হয়না, ডা. শাকিল অথবা আনভীরের বিরুদ্ধে এদেশের কথিত নারীবাদীরা আদর্শ অবস্থান নিয়েছিল। বরং, তাদের গুরু তসলিমা নাসরীন বসুন্ধরার টাকাওয়ালা আনভীরের ব্যাপারে এক মহাতোষণমূলক স্ট্যাটাস লিখেছিলেন। টাকা, ক্ষমতা ও ফেমিনিজম এভাবে প্রায় সময়ই বাংলাদেশে মিলেমিশে একাকার থাকে যা প্রকৃত ফেমিনিজমের স্পিরিটের সঙ্গে একেবারেই যায় না। 

যখন #MeToo সারাবিশ্ব কাঁপায় তখন বাংলাদেশে এর পটেনশিয়াল ছিল সবচেয়ে বেশি। কারণ, আমাদের প্রত্যেকটি কর্মক্ষেত্রে, বিশেষ করে, মিডিয়ায়, লম্পটরা নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এটা সর্বজনবিদিত। তখন সুপ্রীতি ধরের মেয়ে সীমন্তী তার মায়ের সাবেক প্রেমিক প্রণব সাহার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ জানালেও ইনারা এ নিয়ে আলাপ আগাননি। একইভাবে প্রীতির নিকট থেকে অভিযোগ এসেছিল ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে। তা নিয়ে আর নারীবাদীদের মধ্যে কিছুই হয়নি! বরং ইমতিয়াজ, প্রণব নারীবাদীদের এখনো প্রিয়ই🫣

অথচ সে সময় কিন্তু পুরুষের বিরুদ্ধে পুরো দেশ এক। আনভীরের সমর্থনে এমন কী তার কর্মীরাও আসতে সাহস পায়নি। কালেরকণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের কমেন্ট বক্স বন্ধ করতে বাধ্য হয় জনরোষে। 
কনসেনসুয়াল সম্পর্ক হলেও বাংলাদেশের মিডিয়া বা জনপরিসর নারীর পক্ষ নেয় অধিকাংশ সময়। এতে আমি অন্যায় দেখি না। আমি মনে করি, সুবিধা ও ক্ষমতাকাঠামোতে যে এগিয়ে থাকবে তার সমকক্ষ না হলে ভিক্টিমের প্রতি সহানুভূতি রাখার নৈতিক দায় আমাদের আসে। এ কারণেই, আনভীর আর মুনিয়ার কনসেনসুয়াল একত্র বাসে আমরা নিঃসন্দেহে আনভীরকেই অপরাধী ভাবি। 

কিন্তু, ড. জাকিরের সঙ্গে যে ঝিঙ্গাবেগুন সঙবাতিকতা উনারা করলেন এটিতে নারীবাদের কোনো স্থানই নাই। বরং, এ ঘটনায় একাডেমিয়ায় যারা রয়েছেন তারা 'একাডেমিয়া শ্রেণি' হয়ে কালেক্টিভ রিয়েকশন জানাচ্ছেন---এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীও ঐ তিন নারীর আচরণের তীব্র নিন্দাই জানাচ্ছেন। এমন কী অনেকে রাজনৈতিক কারণে এদের পছন্দ করতেন, তারাও ভালোভাবে নেয়নি। ফলে 'সুবিধাব্দী ফেমিনিস্ট ভিক্টিম কার্ড' এখানে কাজ করবে বলে মনে হয় না। হ্যাঁ করতে পারে, ড. জাকির যদি সরাসরি বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাহলে এই পুরো ঘটনায় ঐ তিনজনের দুর্ব্যবহারও 'নায়কোচিত' হয়ে উঠার সম্ভাবনা আছে। এখনো আছে।

এর বাইরে, তারা যেটি করেছে এটা সদ্ব্যবহার যেমন নয়, তেমনই পেশাদারি কিছুও নেই। তবে ড. জাকির অতিরিক্ত বিনয় দেখিয়েছেন। তার উচিত ছিল আরেকটু কঠিন হওয়া। এ জন্য গণমাধ্যমকে কীভাবে ফেইস করতে হয় সেটিও ভাবার ব্যাপার। 

জনাব জাকিরের জায়গায় আমি থাকলে বলতাম, আপনি জানেন গবেষণা কী? কীভাবে করা হয় আর কেনইবা উন্নত বিশ্ব গবেষণায় ফান্ড করে? এরপর যদি বকবক করতো তাইলে বলতাম, বেগুনে কীভাবে লেড, নিকেল গেলো এ প্রশ্ন করার যোগ্যতা নেই?
আপনি কী বলবেন কেবল সেটিই বার্তা নয়। আপনি কীভাবে, কতটা বহুমাত্রিকতা নিয়ে বলেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

আর অনেকে বলছেন অধ্যাপক ড. জাকির কেন গণমাধ্যমে আসলেন। ঠিক নয়। আমি বলবো আসা ঠিক আছে। 'ঠিক নয়' এটা কে ঠিক করলো? বিসাইডস, বেগুনে 'ক্যাডমিয়াম, নিকেল' পাওয়া গেছে এটি সংবেদনশীল কেন হবে? কার সাপেক্ষে? 

আপনার মনে হয় বাংলাদেশের মানুষ পোল্ট্রি খাওয়া বাদ দিয়েছিল এতে হার্ট বা ব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এ সংবাদের পরেও? বাংলাদেশের মাটিকে যে পরিমাণ এবিউজ করা হচ্ছে শিল্পায়নের মাধ্যমে কিংবা অতিরিক্ত সার বা প্লাস্টিক ইত্যাদি ব্যবহার করে সেটি নিয়ে আরো অধিক কাজ হওয়া জরুরি এবং তা গণমাধ্যমে আসা প্রয়োজন। গণমাধ্যমে না এলে গণবয়ান তৈরি হবে না। কেবল প্রমোশনের জন্য একটা জার্নালে পাবলিশ করে নিজেদের পিঠে চাপড় দেওয়ার বাইরে আমাদের দেশের একাডেমিয়ার আসা শুরু করা উচিত। আমি উন্নতবিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়ার ব্যাপারে জানি। যে কোনো গ্রাউন্ডব্রেকিং গবেষণা, এমন কী, কলেজ বা স্কুল লেভেল হলেও সেটির ফল তারা প্রকাশ করে গণমাধ্যমে। আপনি এথিক্স ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু, গবেষণা নিয়ে গণমাধ্যমে আসতে বারণ করার মধ্যে মাসুদাভাট্টি গংয়ের দুষ্ট আবদার বাস করে।

সায়েন্টিফিক রিপোর্টস বের করে ন্যাচার পোর্টফোলিও। স্প্রিঞ্জার আর ন্যাচারের কোলাবোরেশান এর ফল এটি। মোটামুটি সবার জন্য উন্মুক্ত জার্নাল। 

বিশিষ্ট বিগগ্যানী-কাম সঙবাতিকদের কাছে নাস্তানুবাদ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক! দেখে আমার কষ্ট লাগছে!

লেড, নিকেল আর ক্যাডমিয়াম অথবা একটা গবেষণার শ্রম ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে না জানার পরিণতি এমন হয়। এমন হয় সাংবাদিক, শিক্ষা ও শিক্ষকের মান কত নিচে নামলে সমাজে?

সংশোধিত: সায়েন্টিফিক রিপোর্টস বের করে ন্যাচার পোর্টফোলিও। স্প্রিঞ্জার আর ন্যাচারের কোলাবোরেশান এর ফল এটি। মোটামুটি সবার জন্য উন্মুক্ত জার্নাল। 

বিশিষ্ট বিগগ্যানী-কাম সঙবাতিকদের কাছে নাস্তানুবাদ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক! দেখে আমার কষ্ট লাগছে!

লেড, নিকেল আর ক্যাডমিয়াম অথবা একটা গবেষণার শ্রম ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে না জানার পরিণতি এমন হয়। এমন হয় সাংবাদিক, শিক্ষা ও শিক্ষকের মান কত নিচে নামলে সমাজে?


পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments