সর্বশেষ

ঢাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: জ্ঞান-ক্ষমতার দাপটে বৈষম্যের কেন্দ্র প্রশ্ন

ঢাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠত্ববাদী ভাবকাঠামোতে সমস্যা কী?
~®~
যারা সব কিছুতে অপরকে সেরা হবে এদের মধ্যে নিজেকে বড় করার চেষ্টা কম এবং ব্যক্তি পর্যায়ে আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন গঠনমূলক ব্যক্তিত্বের অভাবও আছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে সমাজে এরা ইউনিট আকারে সংখ্যায় বেশি হলেই সমাজে ভুয়া বা ভুল জিনিস 'সাধারণ তথ্য বা সত্য' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এমন একটি ভুয়ার ওপর ভিত্তি করে 'ঢাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রীক শ্রেষ্ঠত্ববাদ' দেশের মোটামুটি সবখানে পরিচিত হয়েছে। 

আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নিম্ন ব্যক্তিত্বের সহপাঠী পেয়েছি যে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেরিট লিস্টে থাকার পরেও জাবিতে এসেছি এ কথা শুনে বলতো 'তারা পালি-সংস্কৃত' পেলেও ঢাবিতে পড়তো। আমি পালি বা সংস্কৃতকে ছোট করছিনা, এই অপমানসিকতাকে ক্রিটিক করছি যা অন্য প্রতিষ্ঠানকে বড় করতে প্রয়োজনে একটি বিভাগ তথা জ্ঞানকেও খাটো করে। 

এই চাকর মানসিকতা আমি অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যেও পেয়েছি। তারাও মাথা নিচু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সেবা দিয়ে থাকে 

একেতো ঢাবির লোকে নিজেদের পৈতাওয়ালা ভাবে, তার মধ্যে অন্যরাও নিজেদের শুদ্র ভাবে! এভাবে একটি অসুস্থ একাডেমিক ব্রাহ্মণ্যবাদের সৃষ্টি হয় এবং এটি একাডেমিয়া থেকে প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে৷ 
২।
এই আর কী! একটি স্বাধীন দেশ—১৯৭১ এর ঘোষণাপত্র যে দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করার ঘোষণা দেয়—স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও এই প্রাতিষ্ঠানিক অসাম্য, অবিচার তথা বৈষম্যকে নিরসন করতে পারেনি। নিরসন দূরে থাক—এটা যে একটা ভয়াবহ সমস্যা এটিই চিহ্নিত করতে পারেনি। 

এর সাথে রাজনীতি থাকা না থাকা বা  করতে না দেওয়া, না দেওয়ার সম্পর্ক নাই। বরং রাজনীতি করা বা করতে চাওয়া লোকে ঢাবির প্রতি আরো অমেরুদণ্ডী হয়। আমি নিজে দেখেছি। বয়সে ছোট হওয়ার পরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের নাম ধরে ডাকে এবং সে নিজেকে 'ভাই বা আপু' হিসেবে জাহির করে। এবং অন্যরা লাজ-শরমের মাথা খেয়ে এটা সহ্য করে। আপনি বলায় অন্যায় নাই, কিন্তু অন্যজন 'আপনি' সম্বোধনকে ক্ষমতার হাতিয়ার বানানলে হিম্মত নিয়ে তাকেও 'আপনি' বলতে বাধ্য করা বা অন্তত 'তুমি বা তুই' বলতে পারাও ব্রাহ্মণ্যবাদী কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করা। সেটি আমাদের রাষ্ট্রকাঠামো এবং অপমানসিককাঠামো হতে দেয়নি। 
৩।
অন্যদিকে ঢাবিতে ১ ঘণ্টার গোল্লা ভরাটে জিতে আসা লোকটি বোধ-বুদ্ধি-পড়ালেখায় খাটো হলেও নিজেকে দেশসেরা ভাবছে, তেল-তদবিরে শিক্ষক-শিক্ষিকা বনে যাওয়া লোকগুলো তারা দেশের সবার সেরা এই মিথ্যায় পূর্ণ অসাম্যের বাণী শুনিয়ে তাদের আসমানে তুলছে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, এই আসমানে উঠা ভাবনায় ঢাবির উন্নাসিক গ্রাজুয়েটপাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছুটা ঈর্ষা করলেও বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে দামই দেয়না। জাবির ভর্তি সিস্টেমটা খুবই ভিন্ন ও অতিরিক্ত প্রতিযোগিতামূলক কারো কারো এখানে পড়ার সুযোগ না পাওয়ার নজির আছে, আবার অনেকের জাবি ছেড়ে ঢাবিতে যাওয়ার নজরও আছে।

ঢাকার ভেতর-বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অঘোষিত সুবিধা পেয়ে অনেকেই শিক্ষক বা শিক্ষিকা হন। এর প্রধান কারণ এক্সটার্নাল হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটটি নিজেদের গ্রাজুয়েটকে সেরা ভেবে বোর্ডে বসে যা স্পষ্ট একাডেমিক ক্রাইম ও ডিসঅনেস্টি। এই যে প্রাতিষ্ঠানিক ফেভার পেয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা হইলো এই ব্যক্তিপাল আবার তার শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের দেশের সেরা হিসেবে জাহির করতে উঠেপড়ে লাগে! কেউ যে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে পড়ে (এবং কখনো কোথাও না পড়েও) মেধায় অনন্য হতে পারে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো গ্রাজুয়েটকে ছাড়িয়ে যেতে পারে সেই সাম্যবাদী জরুরি চিন্তাটি কারো মগজে দেওয়া হয়না। এক ঘণ্টার একটি ভর্তি পরীক্ষা ঢাবির ছাত্রছাত্রীদের ব্রাহ্মণ্যবাদী পৈতা দেয়, আর অ-ঢাবিয়ানকে শুদ্র করে দেয়, ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী (এবং অঢাবিয়ান শিক্ষকদেরও) দলিত করে দেয়! বিভিন্ন চাকরিক্ষেত্রেও এই 'শ্রেষ্ঠত্ববাদী নোংরা চিন্তাচক্রটি' চলতে থাকে। 
৪।
এসবের পিছনে রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক কাঠামোও দায়ী৷ সব কিছুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের অকারণে সামনে রাখা হয় 'কেন্দ্র' এর দোহাই দিয়ে। অথচ এই 'কেন্দ্র' হয়ে যাওয়া বা কেন্দ্র থাকার চিন্তাটা বৈষম্যমূলক।  ৫৪টা বছর চলে গেলো এখনো কেন্দ্রকে আমরা 'বিকেন্দ্র' মানে 'একক কেন্দ্র ভেঙে বহুকেন্দ্র' করতে পারিনি৷ ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের সমস্ত কিছুই কিন্তু 'বহুকেন্দ্রীক'—সংগঠক, স্থান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রতিষ্ঠান, রাজনীতি—সব কিছু বৈচিত্র্যময়। এবার কি তবে কেন্দ্রকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা করতে হবে না?

মিশেল ফুকোর মতে, পাওয়ার ও নলেজ পরস্পরবিনিময়যোগ্য। জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষমতা উৎপাদন করে এবং ক্ষমতা চর্চা ও ভোগ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তিকে ব্যবহার বা অপব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা ছাত্রনেতারা (এমনকি কখনো সাধারণ শিক্ষার্থী বলে পরিচিতরাও)। গণমাধ্যমগুলো যে বয়ান উৎপাদন করে তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও ঘৃণা নানাভাবে প্রকাশ হওয়ার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ জ্ঞান ও ক্ষমতা এখানে একাকার হয়ে গেছে!

বিচারালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস ঢাকায় রাখায় বাংলাদেশের সবার ঢাকায় আসতে হবেই হবে! এমনভাবে এগুলো প্রতিটি জেলায় (বা 'প্রদেশ' তৈরি করে প্রাদেশিক বিভিন্ন অঞ্চলে) ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন ছিল যাতে প্রত্যেক এলাকা প্রত্যেকের জন্য কোনো না কোনো কারণে যাওয়ার উপলক্ষ্য হতো। ১৯৭১ থেকে এ কাজ শুরু জরুরি ছিল। কিন্তু এই কাজটি আমাদের কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্র তথা ঢাকাকেন্দ্রীক শাসনকাঠামোর সুবিধাভোগী রাজনীতিক ও আমলাতন্ত্র এই ৫৪ বছরেও করেনি বা করার উদ্যোগ নেয়নি৷ এবার এ সুযোগ হাতছাড়া করা যাবেনা। 

অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলছিলেন সেদিন, রাষ্ট্রকে গণবান্ধব করার এমন সময় আগে আসেনি। আগে ১৯৭১ এর ঘোষণাপত্রের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার পূরণ করা হয়নি। এবার করতে হবে। বদরুদ্দীন উমর বলেছেন, এ গণ-অভ্যুত্থান অতীতের সবকটির চেয়ে বড়। এর দায়ও কি সবার চেয়ে বেশি নয়?

রাষ্ট্রের ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা ও সেবাকে আমরা পুরো দেশে যদি ছড়িয়ে দিতে পারতাম তাহলে ঢাবির ব্রাহ্মণ্যবাদী সুবিধা বা মাস্তানি এমনিতেও বিলুপ্ত হতো! কারণ, স্টেট সভরেইনটি বা পাওয়ার ও অপরচুনিটির ইকুয়াল ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিটি স্থানকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতো। 
ডেভিড হার্ভি স্থানের এই রাজনীতি নিয়ে অনেক লিখেছেন। আমাদের অধ্যাপক Azfar Hussain আজফার হোসেন 'দর্শনাখ্যান' গ্রন্থে স্থানকে নিয়ে আলাপ করেছেন। স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সুবিধা সারাদেশে সমভাবে বণ্টন না করতে পারলে কেজিএফ এর 'Powerful people make places powerful' কিছুটা কাজ করে, মূলত কাজ করে 'Powerful places make people powerful' নামের নীতি। 
Lord of the Rings: The Rings of Power দ্বিতীয় মৌসুমে থানোসের মত এক ক্ষমতাধর সাওরন দেখবেন ক্ষমতার রিং 'এরেগিওন' নামের জ্ঞান-শহরটিকে দখলে নিয়ে পুরো Middle-earth কে কব্জা করতে চায়। 

আমরা আমাদে শক্তি ও জ্ঞানের সবকিছু রাজধানীতে রেখেছি কেন? কারণ, গণবিচ্ছিন্ন রাজনীতিক ও আমলারা রাষ্ট্রের সমস্ত সুযোগ ও সুবিধা ও রিসোর্স ঢাকায় রেখেছে। এতে ঢাকা রক্ষা করলে সারাদেশে ক্ষমতার ছড়ি ঠিক থাকে, আর ঢাকা হারালে পালাতে হয়! কিন্তু ২০২৪ এর ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্ট কি এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে হারানো হলো না? পুরো বাংলাদেশ কি পাওয়ার ও সভরেইন্টিকে নিজেদের ভেতর কিছুটা নেয়নি? যদি নেয়, তবে এখনো সেই 'ঢাকাকেন্দ্রীক শাসনব্যবস্থা' জারি রাখার বন্দোবস্তকে ম্যাসিভ প্রশ্ন করা হচ্ছেনা কেন? 

কেবল একটি শহরকে কেন্দ্র করে এই আধুনিক যুগেও শাসনকার্য চললে ঐ নগর যে কাউকে ফ্যাসিবাদের দাস বা দাসীতে পরিণত করতে পারে। ভেবেছেন?
৫।
২০২৪ ছিলো বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ ন্যায় ও সাম্যের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সুযোগ-সেবার বিকেন্দ্রীকরণ করার। কারণ, ঢাবির একক মাতুব্বরিতে নয়, পুরো দেশের সমস্ত শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণে এই বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থান ঘটে। ঢাবি ঝিমিয়ে গেলে জাবি সারারাত ধরে ফাইট করে, তারপর ঢাকা কলেজসহ ঢাকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলো, বুয়েট, মেডিকেল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, এবং অসীমসাহসী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মুগ্ধ করা মহাবিপ্লবীবৃন্দ ও মাদ্রাসা-স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা জাগিয়ে তোলে দেশকে। 

অন্যদিকে ঢাকার বাইরে রাজশাহী, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল এবং মাদ্রাসাও এখানে যুক্ত হয়। দেশের বিপুলসংখ্যক সাধারণ ও রাজনীতিক যুক্ত হয়। আর কৃষক, শ্রমিক, রিকশাওয়ালাসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ এ গণ-অভ্যুত্থানের দাবিদার হয়। 
তবু আমাদের এই সত্যিকার গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় একক সুবিধা—উপদেষ্টা হওয়া থেকে উপাচার্যসহ নানা পদে আসীন হওয়া বিবেচনায়—ভোগ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কারো কারো পরিচিতরাই! 

২০২৪ এর স্পিরিটের সম্পূর্ণ বিরোধী অবস্থান এটি। অথচ এবার সুযোগ ছিল সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করার। উপদেষ্টা পরিষদে বা অন্তত প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সমাজের সমস্ত শ্রেণিপেশা থেকে বা অন্তত সব শ্রেণির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিধিত্ব রাখার ব্যবস্থা তৈরি করার সুযোগ ছিল। অন্তত একটি কমিশন হতে পারতো 'রাষ্ট্রীয় সম্পদ, সেবা-সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ' বিষয়ে। 

ফরহাদ মজহার রাষ্ট্রের সমস্ত নাগরিকের সব ধরনের অধিকার সংরক্ষণের জন্য জনগণের 'অভিপ্রায়'কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। সেই অভিপ্রায়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা সচিবালয় বা যমুনা বা বঙ্গভবন-গণভবন-ক্যান্টনমেন্ট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ছোট্র ক্ষমতাবলয়কে নিশ্চয়ই আরো শত বছর বাংলাদেশকে শাসন করার ম্যান্ডেট দেয়নি। ম্যান্ডেট দিয়েছিল রাষ্ট্রের সব জনপদ বা অঞ্চলকে একই ক্ষমতা, সুযোগ ও সুবিধার আওতায় আনার জন্য—বৈষম্যকে উচ্ছেদ করার জন্য। 
যেমন, ঢাকার বাইরে গোপালগঞ্জ-বগুড়া-কুমিল্লা-রংপুর ইত্যাদি কিছু অঞ্চলকে বিভিন্ন সময়ের পাওয়ারের পার্ট বা এক্সটেনশন করা হয়—দায়িত্ব, সুযোগ ও দরদকে পৌঁছে দিতে— সেটিকে সমস্ত জেলায় বা অঞ্চলে ইকুয়ালি ডিস্ট্রিবিউট করাই বাংলাদেশের ২০২৪ এর বিপ্লবের মূল বার্তা হওয়া উচিত। Mahfuz Alam এর দায় ও দরদের রাজনীতিও এমন নিশ্চয়ই। ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসা বা তিন শূন্যের দুনিয়াও এমন। তাইনা?

সরকারি চাকরিতে সব সুযোগ কোটাধারীদের দেওয়া বা একটি দুইটি চাকরিকে অনেক ক্ষমতা-সুবিধা দেওয়া আর দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাধান্য দেওয়া একই বৈষম্য। রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ডে এমন একটি শ্রেষ্ঠত্ববাদী বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখার বাসনা বা পৃষ্ঠপোষকতার চলমান ধারা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনকে অসম্ভব করে তোলে। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' প্রশ্নকে সামনে আনা জরুরি নয় কি?

এই লেখাটি তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম এর 'রাজনীতি না করতে দেওয়ার কারণে' জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক লিডার তৈরিতে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দেওয়া স্ট্যাটাসের প্রেক্ষাপটে একটি মন্তব্যের সম্প্রসারণ। ছোট্ট মন্তব্য অনেক বড় হয়ে গেছে বলে পোস্ট দিলাম। 

আলাপ ও প্রশ্ন চলুক। কারণ, আলাপ মীমাংসা করে আর প্রশ্নই হচ্ছে মূলত উত্তর। 
#৩৬
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments