সর্বশেষ

'ভালবাসা দিবস'বাঙালি সংস্কৃতির নয়

বাঙালির আবার কিসের দেখানো 'ভালবাসা দিবস'?
আমাদের সংস্কৃতিতে তো এখনো পিতৃবিহীন সন্তানদের আধিপত্য বাড়েনি,আমাদের প্রতিটি পরিবারে তো মাতা-পিতার প্রতি শ্রদ্ধা এখনো কমেনি।
আমরাতো এখনো বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো শুরু করিনি,আমরাতো দাদা-দাদী ও নানা-নানীদের বোঝা মনে করিনা।
তবে কেনো আমাদের ভালবাসার জন্য একটা নির্দিষ্ট দিন প্রয়োজন হচ্ছে?
এইসব Culture তো ভোগবাদে বিশ্বাসীদের,এইদিন উত্‍সবের হয় কেবর পুঁজিবাদীদের,যারা জীবনের ক্ষুদ্র অংশটুকু পর্যন্ত পুঁজি করতে চায়।
এই দিনে নারীর অশ্লীল পোশাকে চলাফেরা তো আমার দেশে বড়ই বেমানান।কারণ আমার মা-বোনতো এখনো নিজের শরীরকে অন্যের ভোগ্য করতে চায়না।
অর্থাত্‍ জিস্ন আর ফতুয়া পরা নারী অথবা শাড়ি পরে পেট আর নাভী দেখিয়ে প্রশান্তি পাওয়া নারী আমার মা-বোন নয়,কিছুতেই হতে পারেনা।
আমার মা-বোন যে শাড়ি পরে সেটাতে তার সমস্ত শরীর দেখতে পাওয়া কষ্টকর।এটা মৌলবাদীদের বোরখা নয়,তবে পুঁজিবাদীদের উন্মুক্ত পোশাক ও নয়।এটাই আমার চিরন্তন বাঙালি সংস্কৃতি।আবার চরিত্রহীন কিছু ভোগবাদী পুরুষও এই দিনের জন্য তাদের বিকৃত চাহিদা পূরণ করতে পারে।
ভালবাসা দিবস এই চরিত্রহীনদের জন্যই।
আমি বাংলাদেশী বাঙালী।আমিই জানি আজ
স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস।
যে ব্যক্তি এই বাংলাদেশে ১৪ ফেব্রুয়ারি চালু করেছেন,তার কাছে আমার একটাই প্রশ্ন
আপনি কী পুঁজিবাদীদের মুখপত্র,নাকি এরশাদ সাহেবের ঘনিষ্ট মিত্র?
সচেতন মানুষ আমার এই প্রশ্নের কারণ জানে।
চলুন,ভালবাসা দিবস আমদানি ও পালকারীদের ঘৃণা করি।
আবহমান কাল থেকে বাঙালির ভালবাসা চিরন্তন।কোন নির্দিষ্ট দিন,কোন নির্দিষ্ট মাসে বাঙালির ভালবাসা সীমাবদ্ধ নয়।আমাদের বাবা-মা অথবা দাদা-দাদী কে আমরা বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়নি যে তাদের একটি নির্দিষ্ট দিনে'I LOVE U অথবা I HAVEN'T FORGET YOU'লিখে কার্ড পাঠাতে হবে,সঙ্গে থাকবে নানা জাতের চকোলেট,কেক,ফুল,ফল এবং নতুন পোশাক(অর্থনৈতিক ব্যাপারটা এখানেই নিহিত)।
আসুন বাঙালি হই ।এটা ভাষা রক্ষার মাস,এটা স্বৈরাচার প্রতিরোধের মাস,এটা ৫৭ জন দেশপ্রেমিক ভাই হারানোর মাস।এ মাসে ভীনদেশী অপসংস্কৃতি চর্চা খুব বেশি আঘাত করে হাতেগোনা কয়েকজনকে,যারা এখনো বাঙালি পরিচয়ে গর্বিত।
জীবনে আরো একটি ফাল্গুন কেটে গেলো,তবুও এই নোংরা অপসংস্কৃতির প্রসার আমি থামাতে পারিনি।এটাই আমার জীবনের অপ্রাপ্তি।
[মঈনুল ইসলাম রাকীব
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ.
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যাল।]
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments