ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া।
কোন সমাজই অন্যায়কে নীরব স্বীকৃতি দিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারেনা।কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য যে আমরা ন্যায় ও অন্যায়ের সহঅবস্থান মেনে নিচ্ছি।
আমাদের মূল্যবোধ ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় যতটা আগ্রহী তার থেকে বেশি আগ্রহী অন্যায়ের প্রতিবাদ না করতে।
এই পৃথিবীর নিয়মই এটা যে অন্যায় খুব সহজেই একটা সমাজকে কলুষিত করে দিতে পারে।আজকে আমরা তাই দেখছিঃ সমাজে দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।আমাদের চিন্তা ভাবনা এতোটাই অন্যায়ভিত্তিক হয়ে গেছে যে কোন প্রভাবশালী চাঁদাবাজ অথবা দুর্নীতিবাজ যদি তার প্রচারণায় অবৈধ অর্থ প্রদান করে আমরা তা নিতে দ্বিধা করিনা।
এই সব অন্যায়কারীদের অপ্রত্যাশিত কদর দেখে সমাজের ন্যায় প্রতিষ্ঠার হাতেগোনা কয়েকজন নীতিবান আশাহত হন।
তাই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বপ্রথম আমাদের মূল্যবোধের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে হবে।অন্যায়কে অন্যায় বলার সাহসীকতাটুকু প্রত্যেকের হৃদয়ে বদ্ধমূল করতে হবে।
একশ্রেণীর উন্মাদ সমাজ থেকে ধর্মকে বাদ দিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।এটা অসম্ভব !মানুষকে ন্যায়ের শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখতে পারে একমাত্র ধর্ম,তা সে যে ধর্মই হোক।
তাই ব্যক্তিগত তথা সামাজিক জীবনে নিজের বিবেকের সর্বোত্তম ব্যবহার করে অন্যায় বিনাশের দৃঢ মানসীকতা নিয়ে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
অন্যায়কারীর সংখ্যা সীমিত,অন্যায় প্রতিহতকারীর সংখ্যাও সীমিত;কিন্তু অন্যায় নির্দ্বিধায় মেনে নেওয়া মানুষের সংখ্যা অসংখ্যা।
এই অসংখ্য মানুষেরা চাইলেই একসাথে সকল অন্যায়ের মূলোত্পাটন করতে পারে ।পরিবর্তিত মূল্যবোধের সদিচ্ছাই একদিন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত করবে।
[মঈনুল ইসলাম রাকীব,
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,
সাভার,ঢাকা]
]
0 Comments