'কিছুদিন আগে টিভিতে দেখলাম তুরস্ক থেকে ফেরার সময় প্রোটোকল ভেঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর গালে গাল মিশিয়ে চুমু খেলেন ।এটা Indecent(অভদ্রতা)।এটা ঠিক নয় ।এতো ভাল ভাল নয় ।'-গোলাম মাওলা রনি,
১৮ই এপ্রিল,চ্যানেল আই 'তৃতীয় মাত্রা'য় ।
এই ঘটনা ঘটিয়েছেন আমাদের 'ক্যামেরামউইমেন'(এই নামকরণের নেপথ্যে মন্ত্রীর বিদেশ ভ্রমণের সময় ছবি তোলার প্রতি বিশেষ আসক্তিই দায়ী) পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ।
তথাকথিত 'সমুদ্র বিজয়'এর আতিশয্যে তিনি প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর গালে এই দীর্ঘ চুম্বন এঁকেছেন,যা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপস দিয়ে খুঁজলেও পাওয়া যাবেনা ।
এটুকুতেও দীপু মনি ক্ষ্রান্ত নন,নাটক আরো বাকি আছে...
তিনি জাতীয় সংসদের সকল ফরমালিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে আরো একবার প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন ।
তখন দীপু মনির চোখে 'পানিও' দেখেছিলাম !
তিস্তার 'পানি বণ্টন' চুক্তি অবশ্য এখনো দেখিনি !!
প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমারের সাথে আমাদের কোন বিজয়ই হয়নি।যা হয়েছে তাকে পররাষ্ট্রনীতির ভাষায়
'win-win situation'
বলা হয়।এর মানে উভয় পক্ষই সমান সমান 'লাভবান'।এটাকে 'মহাবিজয়'বা'সমুদ্র বিজয়'বলা মহাঅন্যায়,জাতির সাথে বৃহত্তর প্রতারণা।
দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েও এই শব্দটির ব্যবহার জানেন না,এটা লজ্জার কথা !
বাংলাদেশের স্থপতি মহান শেখ মুজিবুর রহমান অনেক জটিলতার মধ্য দিয়ে মিয়ানমার ও ভারতের লোলুপ দৃষ্টিকে প্রতিহত করে সেইন্টমার্টিনসকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে সংযোজিত করেন ।
দীপু মনির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও শেখ হাসিনার সরকার যেটাকে' সমুদ্র বিজয়'বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন তার ফলে সেইন্টমার্টিনসকে আর আমরা আমাদের মূল ভুখণ্ড বলে দাবী করতে পারবোনা ।হামবুর্গের আদালতের রায় অনুযায়ী বাংলাদেশেশের মূল ভূখণ্ড ধরা হয়েছে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত ।সেইন্টমার্টিনসকে রাখা হয়েছে 'মানচিত্রের' বাইরে !
এর উপর এখন ভারত বা মিয়ানমার দাবী তুললে দীপু মনির'V'চিহ্ন আর 'বিজয়ের মহাবাণী 'ধুলিস্মাত্ হয়ে যাবে।
নিন্দুকেরা আরো বলছে,বাংলাদেশ সমুদ্রে একাধিক ব্লকেরও নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে(হায় !ব্লক হারিয়ে ও আমরা বিজয় মিছিল বের করছি !)।এখন পর্যন্ত 'সফল সরকারের'পক্ষ থেকে নিন্দুকদের অভিযোগের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়নি।বুঝুন তাহলে,কী মহা এই বিজয় !
আমরা এরকম কখনোই চাইনা যে,প্রতিবেশী কোন রাষ্ট্র সামরিক মহড়ার মধ্য দিয়ে আমাদের স্বীকৃত ভূমির মালিকানা দাবী করুক।
তবে বন্ধুরাষ্ট্রের তকমা লাগানো দেশগুলোর যে ব্যবহার,তাতে ওরকম কিছু ঘটলে অন্ততপক্ষে আমি অবাক হবোনা।
আমরা চাই বাংলাদেশী বাঙালির বিজয় ।
আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে অনেক বেশি বিশ্বাসী ।আমরা হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্যকে এখনো বুকে ধারণ করি।এর বিপরীত ঘটাতে চাইলে কাউকেই আমরা ছাড়বনা।
'ব্যক্তিস্বার্থ,পরিবারতন্ত্র ও দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে বাংলাদেশকে রাখতেই হবে'-
দেশপ্রেমিকের ছদ্মবেশে থাকা দেশদ্রোহীদের প্রতি এ আমাদের চিরাচরিত সতর্কবার্তা !!


0 Comments