শুধু 'একাডেমিক লেখাপড়াকে' মেধাবী ভাবা ঔপনিবেশিক দাসত্ত্বের একটা
প্রকাশ।এইটা আসছে পৃথিবীকে ওয়েস্টার্ণ মানদন্ডে গড়ে তোলার অভিলাষ
থেকে।দ্বিতীয় বিশ্বযুত্তোর পৃথিবীতে নয়া Modernization নামে যে
Americanization শুরু হয় তাকে বাস্তবায়িত করতে পশ্চিমের দরকার ছিল কিছু
দালাল।এই দালালদের ওরা আদর করে ডাকে Change Agents এবং এরাই এই একাডেমিক
মানদন্ডের সূচনাকারী।এরা ডক্টর,এনজিওকর্মী,মানবাধিকার কর্মী কত নামে
আশেপাশে আছে।ব্রিটিশ সাম্রাজ্যেও এরা ছিল।উত্পাদন ব্যবস্থার সাথে সরাসরি
সম্পৃক্ততাহীন এই অনুত্পাদনশীল গোষ্ঠী
পুঁজিবাদকে শক্তিশালী করতে বয়ান ফয়ান দিতে শুরু।এখন এরা যদি প্রমাণ না করে
কৃষক শ্রমিকের চেয়ে লিখতে পড়তে জানা পাবলিক বেশি মেধাবী তবে এরা সমাজের
উচ্ছিষ্ট হয়ে যায়।কার্যত প্রকৃত মেধার ক্রাইটেরিয়া শুধু বই নয়।আকাশে মেঘ
দেখে বৃষ্টি হবে কি না যে কৃষক বলে দিতে পারে সে ডক্টরেট করা অধ্যাপকের
চেয়ে মেধাবী।যে সামান্য একটা বীজ থেকে শতশত বীজ উত্পাদন করে তার চেয়ে
মেধাবী কেউ নেই।তদ্রুপ যার ঘামঝরা শ্রমে সভ্যতার চাকা ঘোরে সেও মেধাবী।যে
মেয়েটি ধান সেদ্ধ করে মায়ের সাথে,ঢেঁকিতে ধান ভানে সে পার্লারে বসে ভ্রু
প্ল্যাক করা শিক্ষিত মেয়ের চেয়ে মেধাবী ছাড়া কি?এই সভ্যতার ভোগবাদী মানদন্ড
পুঁজিবাদের যান্ত্রিক আত্মকেন্দ্রিক কেরানী উত্পাদনকারখানাতে
শিক্ষিত,মেধাবীর যে মানদন্ড দিয়েছে তা সত্য নয়।কৃষক-শ্রমিকের চেয়ে বড়
মেধাবী জগতে আর নেই।একটা ধান থেকে হাজারটা ধান,একটা গাছ থেকে হাজারটা গাছ
উত্পাদন আর মুখস্তবিদ্যার পার্থক্য আকাশ ও পাতাল।ওরা পাতালে থাকে ,আমরা
আকাশে।পাতালে জীবন থাকে আকাশে নয়,অথচ আকাশ থেকে পাতালের জীবনকে নাকচ করে
দেয়ার কি নির্লজ্জ,অকৃতজ্ঞ প্রবণতা বই পড়া পাবলিকদের...!
0 Comments