একটা অপ্রিয় সত্য আমাদের কলকাতাপন্থী সাহিত্যিক ,গবেষক ,অধ্যাপক ,সম্পাদকরা স্বীকার করেন না বা এড়িয়ে যান।তা হচ্ছে,রবীন্দ্রনাথের ওয়েস্টার্ণ রোমান্টিসিজমকে সে বেঁচে থাকতেই নজরুল নাকচ করেছেন।নজরুল রবীন্দ্রনাথের পশ্চিমা স্কেলকে ভেঙে চূরমার করে দিয়েছেন।রবীন্দ্রনাথের বুঁজোয়াগিরি ও আধিপত্য ও সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজকে 'ভারতভাগ্যবিধাতা'মার্কা তোষণ নীতিকে নজরুল 'লাথি মার ভেঙে ফেল'দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন।আর একজন সাহিত্যিকের রাজনৈতিক অবস্থান তার সাহিত্যের আলোচনায় আসা উচিত।কেন এটা আলোচনায় আসেনা যে রবীন্দ্রনাথ আগাগোঁড়া একজন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ মেনে নেয়া লেখক।আর নজরুল শিখিয়েছেন প্রতিবাদ।নজরুলই ব্রিটিশ দখলদার কবলিত জাহান্নামে বসে পুষ্পের হাসি হেসেছেন।আর কোন সাহিত্যিক ভোগ আর তোষামুদী ছেড়ে এই মাটির জন্য লড়েননি।নজরুল এই সভ্যতার নির্মাতা কৃষক-শ্রমিক শ্রেণীর প্রতিনিধি।সম্ভবত একারণেই হালের শ্যুট টাই পরা পশ্চিমা ও কলকাতা ধারার পুঁজিবাদী কথিত শিক্ষিত গোষ্ঠী তাকে অমর্যাদা করে।এদের প্রোপাগান্ডা নজরুলবিরোধী নয়,মানুষ ও মানবতা এবং শোষিত মানবের বিপ্লববিরোধী।নজরুল ত্যাগের প্রতীক ,নজরুল বিরোধীতা ভোগের উদাহরণ।নজরুলকে স্বীকার করলে ভোগবাদী সাহিত্যিকদের অস্তিত্ত্বের বিনাশ হবে-এটা জেনেই ওরা প্রেমের,দ্রোহের,বিপ্লবের,মানবতার,অসাম্প্রদায়িকতার নজরুলকে মেইনস্ট্রিম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে উঠেপড়ে লাগে।তবে নজরুল অমর।যতদিন ভোগবাদ,পুঁজিবাদ ও স্বার্থপরতার বিরুদ্ধে সত্যের লড়াই থাকবে ততকাল নজরুল এ পৃথিবীতে বেঁচে রইবেন।এবং অবশ্যই সত্যের সঙ্গে...।
২।
রবীন্দ্রনাথের চেয়ে নজরুলের সাহিত্য বেশি বৈশ্বিক।এক্ষেত্রে জেনারেলাইজড
করে নজরুলকে বিশ্বকবি বলাটা যতোটা যৌক্তিক রবীন্দ্রনাথকে বলাটা ততোটা
অযৌক্তিক।পৃথিবীর সর্বত্র এক পক্ষ শোষিত আর এক পক্ষ শোষক।রবীন্দ্রনাথ
রোমান্টিসিজমের কাঁধে বন্দুক রেখে শোষকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।নজরুল
ঠিক তার বিপরীত।পৃথিবীর সকল শোষিত,নিপীড়িত মানুষের জন্য নজরুলের কাব্য,তার
ভাবনা।এই মাটির কৃষক-শ্রমিক-ধীবরদের নিয়ে কে লিখেছে?কে লিখেছে ইংরেজ
ভগবানের বুকে পদচিহ্ন এঁকে দেয়ার দৃপ্ত অঙ্গীকার?কে রণবীণ বাজিয়েছে অসাম্যের বিরুদ্ধে?কে ভাঙতে চেয়েছে জেলের তালা?কে শিকল পরাকে ছল বলেছেন?নজরুল।সে আমাদের জাতীয় কবি।
স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন,পৃথিবী আজ দুভাগে বিভক্ত।শোষক ও শোষিত,আমি শোষিতের পক্ষে।তাই স্বাধীনতা অর্জনের পর পরই শোষিতের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর নজরুলকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসে জাতীয় কবির মর্যাদা দেন।রবীন্দ্রনাথকেও তো তিনি করতে পারতেন।কিন্তু করেননি।বিপ্লবী আরেক বিপ্লবীকেই সঠিক মর্যাদা দিয়েছিলেন।কোন ইংরেজ তোষণকারীকে নয়।জাতীয় কবির সেই মর্যাদা রাখতে পেরেছি আমরা?আজ মিডিয়ায় কতটুকু নজরুলকে পেয়েছেন?আজ দুখু মিয়ার ১১৭ তম জন্মদিন।পত্র-পত্রিকা,টিভি যেন তাঁকে চেনেনা।রবীন্দ্র মৌলবাদীদের আধিক্যে বঙ্গবন্ধু যে রত্নকে আমাদের কাছে রেখে গিয়েছিলেন তাঁর প্রতি সঠিক আচরণ না করে কাকে অসম্মান করছি আমরা ভেবেছেন?
স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন,পৃথিবী আজ দুভাগে বিভক্ত।শোষক ও শোষিত,আমি শোষিতের পক্ষে।তাই স্বাধীনতা অর্জনের পর পরই শোষিতের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর নজরুলকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসে জাতীয় কবির মর্যাদা দেন।রবীন্দ্রনাথকেও তো তিনি করতে পারতেন।কিন্তু করেননি।বিপ্লবী আরেক বিপ্লবীকেই সঠিক মর্যাদা দিয়েছিলেন।কোন ইংরেজ তোষণকারীকে নয়।জাতীয় কবির সেই মর্যাদা রাখতে পেরেছি আমরা?আজ মিডিয়ায় কতটুকু নজরুলকে পেয়েছেন?আজ দুখু মিয়ার ১১৭ তম জন্মদিন।পত্র-পত্রিকা,টিভি যেন তাঁকে চেনেনা।রবীন্দ্র মৌলবাদীদের আধিক্যে বঙ্গবন্ধু যে রত্নকে আমাদের কাছে রেখে গিয়েছিলেন তাঁর প্রতি সঠিক আচরণ না করে কাকে অসম্মান করছি আমরা ভেবেছেন?

0 Comments