সর্বশেষ

আমরা স্পষ্টত ময়নাতদন্তবিহীন একেকটি লাশ

আমরা ক্রমশ সভ্যতার মোড়কে অসভ্য হচ্ছি এ কথা স্বীকার করি,
সম্পদের অসম বণ্টন তুঙ্গে এখন;বৈষম্যের জোয়ার
উঁচু প্রাসাদের তলায় চালহীন সংসার চোখে পড়ে অহরহ
আমাদের ফেলে দেয়া খাবার খেয়ে বাঁচে মানুষেরা
এদিকে আমরা নিরাপত্তার গায়েও দিয়েছি কোটার চাদর
ডক্টর ফক্টর তুখোড় ন্যাতা বা মিস্টারদের মৃত্যুতে দেশ তোলপাড় আর ছদর উদ্দিন খুন হলে সব ঠিকঠাক


জানাযা পড়িয়ে মাটি চাপা দেয় আর আতর ছিটিয়ে জিলাপির কুলখানি।
আমরা ক্রমশ আমাদের ধ্বংস ডেকে আনছি
যেভাবে নোলা দেখিয়ে শিশুর কান্না থামানো হয়
সেইভাবে আমরা ত্যাক্ত তত্ত্বের গায়ে মধু মেখে খাওয়াচ্ছি আমির আলি আর জমিলা বেগমদের
সর্বহারা আরো বাড়ছে,রক্ত দিচ্ছে সুদবিহীন ঝণের মত
তবু আমাদের অনুষ্ঠান ও সংবর্ধনা তারা ছাড়া চমত্‍কার হয়
একজন সঞ্চালক ভাঁড় বিকৃত প্রমিত ভাষায় টাই পরা অলসদের ডেকে আনে মাইক্রোফোনে।
আমরা ক্রমশ একেকটি অপদার্থ স্বত্ত্বা ধারণ করছি
আমাদের অধ্যাপকেরা অকর্মের ঝুড়ি খুলেছে,স্বার্থের আন্দোলন আর বিদেশগমনের কুকামনায় ভরপুর তারা
আর তাদের শিক্ষার্থীরা প্রেমিক আর প্রেমিকা;খিস্তি খাউড় চিপাচাপা,নাচগানে মাতোয়ারা
কার টাকায় খাচ্ছে,কার টাকায় পরছে কোন খোঁজ রাখেনা
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিথর,একেকটি অনুত্‍পাদনশীল চাকর তৈরির কারখানা এখন
অথচ কথা ছিল এগুলো কথা বলবে চাষার,মজুরের,রিকশাওয়ালার,গ্রামের ও সুষম বন্টনের
এগুলো চিত্‍কার করে গরীবের অধিকার আদায় করে দেবে
কিছু হচ্ছেনা;আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চলছে সংকীর্ণ রাজনীতি ও অসুস্থ লীলাখেলা।
আমরা ক্রমশ চতুষ্পদের চেয়েও উত্‍কৃষ্ট অধম হয়ে যাচ্ছি
কায়িক শ্রম ঘৃণা করে যে ভুড়িওয়ালা মানদন্ড দাঁড় করিয়েছি তা মর্মান্তিক
দিন শেষে আমাদের গড় আয়ু কুত্তার চেয়ে কম,
কাজ না করে ভোর হতে দৌড়াই ঝাঁকবেঁধে পার্কে আর উদ্যানে
বেঁচে থাকার এই লোলুপতার মধ্যেই একদিন তড়পাতে তড়পাতে আমরা মরে যাই স্কয়ার কিংবা এপোলোতে।

আমরা যে স্তম্ভের নিচে দাঁড়ানো তার রড শত শত মানুষের হাড়,
আমাদের স্যুপ আসলে কৃষকের রক্ত আর শ্রমিকের ঘাম,
গ্রিল বা রোস্টের মাঝ থেকে আসে মানুষের সিদ্ধ গোশতের গন্ধ;আমাদের বডিস্প্রে জুড়ে ভোগের উত্‍কট দুর্গন্ধ
আমরা টের পাইনা;বিবেকহীন আমরা প্রায় সবাই এখন একচোখা বা গোঁড়া অন্ধ ।
আমরা ক্রমশ একেকটি কাফনের কাপড় পরিহিত লাশ
আমাদের কর্পূরের গন্ধের মধ্যে বেঁচে থাকা মানুষগুলো ঝিম মেরে আছে
মরা মানুষের হাঁটা-চলা,জন্ম দেয়া তাদের ভাবলেশ করে
তাই আমাদের উল্লাসে ওদের কিছু যায় বা আসেনা
ওরা খাটছে,ঘামছে,মরছে দায়বদ্ধতা ছাড়া পরমানন্দে
আর আমরা দায় নিয়ে বেঁচে আছি বহু আগে মরে গিয়ে-
আমরা একেকটি চলমান ময়নাতদন্তবিহীন লাশ; স্পষ্টত।
০১.০৬.২০১৫
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments