সর্বশেষ

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে ছড়ানো হয় ইবোলা আতঙ্ক

১।
মাসখানেক ধরে পশ্চিমা প্রপাগান্ডা মেশিন টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক,প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়াতে দুটি বিষয়কে গুরুত্ত্বসহকারে ফোকাস করা হচ্ছে।একটি ইরাক ও সিরিয়ায় ISIL এর উত্থান ও আরেকটি পশ্চিম আফ্রিকাসহ অন্যান্য দেশে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ।এই দুটি ঘটনাকেই টেনে হিঁচড়ে বিশ্বের কাছে বড় করে দেখানো হয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সহায়তার জন্য।এ দুটি ঘটনার পিছনে রয়েছে অর্থ ও ক্ষমতার প্রবল পরিকল্পনা ।ইরাক যুদ্ধের সময় এভাবে একটি ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।এবারো ইবোলা আতঙ্ক ছড়িয়ে পশ্চিম আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদের দখলদারিত্ত্ব নেওয়াটা গুপ্ত উদ্দেশ্য পুঁজিবাদ,সাম্রাজ্যবাদ ও ভোগবাদের ভিত্তিভূমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ।
গণমাধ্যমের Agenda setting ও সেই Agenda বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিক Propaganda সম্পর্কে একটুখানি অবগত থাকা যে কেউ আমার আলোচনাটা সহজে বুঝতে পারবেন আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
২।
ইরাকে আইএসের উথানের সঙ্গে ইহুদীবাদী সামরিক স্বার্থের পাশাপাশি রয়েছে মার্কিনীদের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লোভ।সেই সঙ্গে ঐ অঞ্চলে সংঘর্ষ বাঁধিয়ে মুসলমানদের আত্মঘাতী যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া এবং সেই যুদ্ধের সুযোগে অল্পমূল্যে তেল ক্রয় অথবা তেলের বিনিময়ে অস্ত্র আদান প্রদান।আর ইরাককে শিয়া সুন্নি কুর্দিতে বিভক্ত করে অবৈধ ইসরাইলের হুমকি বাশারকে সরিযে দেওয়া।
৩।
যখন সারাবিশ্বে মার্কিনীরা আইএসকে ত্রাস হিসেবে উপস্থাপন করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধ ঘোষণা করে ঠিক তখনই পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা নামের ভাইরাসের উত্থান ঘটে।এসময় বিশেষ করে লাইবেরিয়ায় ইবোলাকে বড় করে সংকট হিসেবে দেখানো হয়।প্রথমে মানুষ সত্য ভাবলেও ইবোলা নিয়ন্ত্রণে যখন মার্কিন সেনাবাহিনীর ৩০০ জনের একটি ট্রুপস পাঠানো হয় তখন 'শ্যাম চাচার'আসল রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।তখন অবশ্য কেউ প্রশ্ন তোলেনি ইবোলা নিয়ন্ত্রণে ডাক্তার না পাঠিয়ে কেন যোদ্ধা পাঠানো হলো।এর কারণ কি?
৪।
কারণ আসলে সেই পুরোনো।প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ।সম্প্রতি লাইবেরিয়ায় বিপুল সংখ্যক তেল,গ্যাস ও অন্যান্য খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে।এ কারণে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে একটি Safe zone গড়ে তুলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।প্রাকৃতিক সম্পদের জায়গাগুলো দখলের পাশাপাশি পুরো পশ্চিম আফ্রিকায় এই আতঙ্ক ছড়িয়ে অন্যান্য জায়গায়ও খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান চালাবে আমেরিকা।আপনার কখনো প্রশ্ন জাগেনি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের ট্রুপস নিলেও কেন ইবোলা নিয়ন্ত্রণে একা মার্কিন সেনাবাহিনীর চৌকশ একটি দল গেলো?এখন পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার কথা বলে মার্কিন সৈন্য পাঠানো হয়েছে কমপক্ষে ৪০০০ জন।এত বিপুল সংখ্যক সৈন্য কেবল যুদ্ধ তথা অর্থ বা ক্ষমতার জন্যই মোতায়ন করতে পারে একটি সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি।
৫।
সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদবিরোধী বিকল্প ধারার সংবাদপত্র অকুপাই কর্পোরেটিজমের প্রধান সম্পাদক সুসানে পোজেল লিখেছেন,ইবোলা আতঙ্ক সম্পূর্ণরূপে একটি অপপ্রচারণা।এর উদ্দেশ্য জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করে লাইবেরিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সম্পদশালী অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন।
ইরানের প্রেসটিভিও এই একই সংবাদ বহুদিন ধরে প্রচার করে আসছিল।
আমার মতে কিছুদিনের মধ্যে আমেরিকার গবেষকরা ইবোলার প্রতিষেধক তৈরির ঘোষণা দেবে।বিপুল পরিমাণ ব্যবসা শুরু হবে ঔষুধের।তলে তলে চলবে তেল গ্যাস লুন্ঠণ।
***
গণমাধ্যম বিশেষ করে সংবাদ মাধ্যম যে কতটুকু বেশি প্রভাব তৈরি করতে পারে জনমনে এটা গণমাধ্যমের এজেন্ডা বিষয়ে ধারনা থাকা যেকারো বুঝার কথা।একটি অসত্য ঘটনাকেও জনগণের চিন্তার খোরাক করে দিতে পারে গণমাধ্যম।মূল সত্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন বা সত্যকে ঢেকে দেওয়া,এক ঘটনা দিয়ে অন্য ঘটনাকে চাপা দেওয়া গণমাধ্যমের নৈমিত্তিক কাজ।প্রেসের নানা তত্ত্ব ও ম্যানুফিকচারিং কনসেন্ট অধ্যায়ন আমাদের জানিয়ে দেয় গণমাধ্যম Agenda set করে জনগণের চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং এক্ষেত্রে পশ্চিমারা অনেক বেশি এগিয়ে আছে।সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে এসব পশ্চিমা গণমাধ্যম কাজ করে থাকে।সারাক্ষণ দেখবেন কথিত তৃতীয় বিশ্ব অথবা সাম্রাজ্যবাদ রাষ্ট্রগুলোকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে Propagand চালায়।এই Psychological Game চলছে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে,পুঁজিবাদ রক্ষায়।এর মাধ্যমে অদৃশ্য Hegemony তৈরি করছে মানসিক দাসত্ত্ব।গণমাধ্যমের এ খেলা মানুষের মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ভয়ঙ্কর খেলা।

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ গণমাধ্যমের সংবাদকে যৌক্তিক উপায়ে বিশ্লেষণপূর্বক গ্রহণ করলে এর থেকে মুক্তি আসতে পারে-তবে সেটাও ঠিক নিশ্চিত করে বলা যায়না ।

২৭.১০.২০১৪
পাঠ অনুভূতি