জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় । একটি সবুজ স্বপ্নালয় । বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী । স্বাধীন বাংলাদেশের সমবয়সী এবং দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এবং অতিথি পাখির অভয়ারণ্য । জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এক পার্থিব স্বর্গের নাম । আমি এই স্বর্গে বাস করি । ৪১ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী । আল বেরুনী হল । কক্ষ নং ২১৩। অনেকের মত জাহাঙ্গীরনগর আমার প্রেম, ভালবাসা , আস্থা , বিশ্বাস ও অহংকার । আর বছরখানেক পর প্রাণের ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে হবে । সেকারণে এই ক্যাম্পাসে আসা, থাকা ও ফিরে যাওয়া নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
শীতের সকাল । একুশ ডিসেম্বর ২০১১ । প্রধান ফটকে এসে নামলাম । ঢাকা থেকে যেই উষ্ণ আবহাওয়া তা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এক জগতে প্রবেশ করলাম । প্রধানফটক থেকে রক্তগাদায় ভরা পথে হাঁটতে শুরু করলাম । দূর থেকে দেখলাম কুয়াশা ভেদ করে শিরদাঁড়া উঁচু করে আছে দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার।সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও পরিসংখ্যান বিভাগের নিচের আমগাছগুলো কুয়াশায় জবুথবু।তারমধ্যে হাঁটছি আমি।গন্তব্য নতুন কলা ভবন । সেখানে আমার বিভাগ । আমার আগামী পাঁচ বছরের ঠিকানা । তখনো জানতাম না এই পাঁচ বছরের আবাসস্থল কিভাবে আমার সারাজীবনের আরাধ্য আলয় হয়ে যাবে কিছুদিন পর ।
আমি ইন্টারমিডিয়েট পড়েছি ঢাকা কলেজে ।
আজকের আমি এর অন্যতম কারিগর প্রিয় ঢাকা কলেজ । ভর্তি পরীক্ষায় ঢাবির ঘ
ইউনিটে ৫২৩ তম হয়েও চলে আসি জাবিতে । এর তিনটি কারণ ছিল: ১- ঢাকার
যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি । ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেই আমি জাবির প্রকৃতি ও
পরিবেশের প্রেমে পড়ি । ২- জাবির পূর্ণ আবাসিকতা । ঢাকা কলেজে পড়ার সময়
উত্তর ছাত্রাবাসে এক ধরনের বন্ধুত্ত্ব পরিবেষ্টিত রাজত্ত্ব ছিল । ঢাবিতে
আবাসিক আসন সংকট কাছ থেকে দেখেছি । সেসময় জাবির ওয়েবসাইটে একটি নোটিশ দেখি
এমন যে,’জাবিতে সিংগেল রুমে থাকার সুব্যবস্থা আছে’।এটা আমাকে প্রবলভাবে
আকৃষ্ট করেছিল ।৩- সাংবাদিকতায় পড়ার ইচ্ছা । প্রথম পছন্দ দিয়ে এটা পেয়ে যাই
। যেহেতু আমাদের দিয়ে জাবির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের
সূত্রপাত ,সুতরাং ইতিহাস হওয়ার ইচ্ছা ছিল ।
তারপর জাবির কিংবদন্তিতূল্য উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির স্যার আমাদের বরণ করলেন । দিনটি ছিল একুশে ডিসেম্বর । আমার জন্মদিন । খুব কম মানুষ নিজের জন্মদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ করে । সৌভাগ্যক্রমে আমি তাদের একজন । কিছুদিন পর জানলাম আমার এলোটমেন্ট আল বেরুনী হলে । আল বেরুনী হলের দুটি অংশ । একটি মূল ভবন , আরেকটি সম্প্রসারিত ভবন। আমি দ্বিতীয়টিতে উঠলাম দুপুর ১২ টার দিকে । সম্ভবত ২৬ বা ২৭ ডিসেম্বর ২০১১। সন্ধ্যার একটু পর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রিয় বন্ধু ফাহিম ফয়সাল আমাকে মূলভবনে নিয়ে আসে । সেই থেকে আমি মূলভবনেরই ।
আমি প্রচন্ড আহত হলাম যখন দেখলাম আমার কল্পনার সিংগেল রুম কেবল ওয়েবসাইটেই সীমাবদ্ধ। আমাকে হলের গার্ড মামা গণরুমে নিয়ে গেল।সেই রাতে অঝোরে কান্না করলাম। ভাবলাম, যদি ঢাবিতে ভর্তি হতাম তবে তো মামার রুমে গিয়ে তবু থাকতে পারতাম এইসব কত কথা। হতাশা বেড়ে গেলে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়ে বাড়ি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই । ফেসবুকে লিখি কি যেন। সেই রাতে আমার অভিভাবক ও প্রিয় শিক্ষক শেখ আদনান ফাহাদ স্যার ইনবক্সে টেক্সট করে দেখা করতে বললেন। পরদিন স্যার আমার হতাশা দূর করতে কিছু কথা শোনালেন । সেইসব কথা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এখনো মনে আছে স্যারের সেই কথাটি:
সত্যিকার বিশ্ববিদ্যালয় বলতে যা বোঝায় সেটিই জাহাঙ্গীরনগর। কষ্ট করো , ধৈর্য ধরো ,ফল পাবে।প্রথমবর্ষ শেষে সত্যিই ইতিবাচক ফল পেলাম ।
তারপর জাবির কিংবদন্তিতূল্য উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির স্যার আমাদের বরণ করলেন । দিনটি ছিল একুশে ডিসেম্বর । আমার জন্মদিন । খুব কম মানুষ নিজের জন্মদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ করে । সৌভাগ্যক্রমে আমি তাদের একজন । কিছুদিন পর জানলাম আমার এলোটমেন্ট আল বেরুনী হলে । আল বেরুনী হলের দুটি অংশ । একটি মূল ভবন , আরেকটি সম্প্রসারিত ভবন। আমি দ্বিতীয়টিতে উঠলাম দুপুর ১২ টার দিকে । সম্ভবত ২৬ বা ২৭ ডিসেম্বর ২০১১। সন্ধ্যার একটু পর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রিয় বন্ধু ফাহিম ফয়সাল আমাকে মূলভবনে নিয়ে আসে । সেই থেকে আমি মূলভবনেরই ।
আমি প্রচন্ড আহত হলাম যখন দেখলাম আমার কল্পনার সিংগেল রুম কেবল ওয়েবসাইটেই সীমাবদ্ধ। আমাকে হলের গার্ড মামা গণরুমে নিয়ে গেল।সেই রাতে অঝোরে কান্না করলাম। ভাবলাম, যদি ঢাবিতে ভর্তি হতাম তবে তো মামার রুমে গিয়ে তবু থাকতে পারতাম এইসব কত কথা। হতাশা বেড়ে গেলে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়ে বাড়ি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই । ফেসবুকে লিখি কি যেন। সেই রাতে আমার অভিভাবক ও প্রিয় শিক্ষক শেখ আদনান ফাহাদ স্যার ইনবক্সে টেক্সট করে দেখা করতে বললেন। পরদিন স্যার আমার হতাশা দূর করতে কিছু কথা শোনালেন । সেইসব কথা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এখনো মনে আছে স্যারের সেই কথাটি:
সত্যিকার বিশ্ববিদ্যালয় বলতে যা বোঝায় সেটিই জাহাঙ্গীরনগর। কষ্ট করো , ধৈর্য ধরো ,ফল পাবে।প্রথমবর্ষ শেষে সত্যিই ইতিবাচক ফল পেলাম ।
গণরুম গণঘুম
তারপর আমার আনন্দদায়ক গণরুম জীবনের শুরু । কত রকম মজামাস্তি , আড্ডা আর ঝগড়া । ৩৯ এর ভাইদের সাথে অপার্থিব আন্তরিকতা । দেশের ৬৪ টি জেলার বিচিত্র মানুষের সাথে পরিচয় । কত যে ভাষা । কত যে সারল্য । কত যে মজা । গ্রাম থেকে আসা ছেলেগুলো প্রথমবার পরিবার ছেড়ে এসে কঠিন ও মধুর এক বাস্তবতার শিকার।
মায়ের সাথে একটু কথা বলা । সবার সাথে সবার পরিচিত হওয়া।আরো যে কত কি!এখানেই পেয়েছি সেই জাবির অদ্বিতীয় পরিচয়স্বত্ত্বাটি। আমি অনেক গুছিয়ে পরিচয় দিতে শিখেছি এখানে। আমার ক্যাম্পাস আমাকে শিখিয়েছে, আমি মঈনুল রাকীব
৪১ তম আবর্তন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, আল বেরুনী হল, গোপালগঞ্জ!
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক
জাবিই সম্ভবত বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান । এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকদের অভিভাবকই ভাবেন । আর শিক্ষকরাও ছাত্রদের সন্তানের মতই ভাবেন । এখানে কেউ অসুস্থ হলে তার চিকিত্সার খরচ বহন করতে পুরো ক্যাম্পাস একসাথে উঠে পড়ে লাগে । জাবি সতীর্থকে বাঁচানোর জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে খাটতে থাকে সকলে । জুলহাস ,স্বপ্না ,অর্কের জন্য এমন করতে দেখি । এখানে ফিল্ম ফেসটিভ্যাল করা হয় বন্যায় আক্রান্ত কিংবা শীতার্তদের অর্থ প্রদানের লক্ষে । গরীব পিতামাতার সন্তানের চিকিত্সায় অর্থ তুলতেও মুভি দেখাতে হয় ।
জাবিইজম
জাবির সিনিয়র আর জুনিয়রের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান । এইখানে শিক্ষার্থীদের একটি সমন্বিত আইডেনটিটি আছে । সেটি হচ্ছে তার আবর্তন বা ব্যাচ । এখন পর্যন্ত ১ থেকে ৪৫ পর্যন্ত মোটা ৪৫ টি আবর্তন রয়েছে । এ বছর আসবে ৪৬ তম আবর্তন । ধরুন ,কেউ বান্দরবান ট্যুরে গেল ।সেখানে দায়িত্ত্বরত এএসপি সাবেক জাবি শিক্ষার্থী । তিনি যদি জানেন যে জাবির কেউ এসেছে শত কাজ ফেলে চলে আসবেন এবং দুজনে এমনভাবে কথা বলবেন যেন তারা বহুকালের পরিচিত দুই ভাই । এই যে জাবিয়ানদের হৃদ্যতা এটা মনে হয় স্রষ্টাপ্রদত্ত এবং এটি আবর্তন পরম্পরায় অক্ষুণ্ন রয়েছে ।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সফল উপাচার্য
অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ত্বে দেশ সেরা । তাঁর আছে ৩৫০
টির অধিক মৌলিক গবেষণপত্র এবং বর্তমানে রসায়নের এই অধ্যাপক বাংলাদেশ কর্ম
কমিশনের সদস্য । বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম দেশের প্রথম নারী
উপাচার্য । তিনি মমতা আর আন্তরিকতা দিয়ে ক্যাম্পাসের প্রতি নিষ্ঠার সাথে
দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বাংলাদেশের কোটি মানুষের আবেগ মাশরাফি মোর্তজা
জাবির দর্শন বিভাগের ৩৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী । দেশের অন্যতম সেরা অধিনায়ক
মুশফিক এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩৬ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।
বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সাতারু মাহফিজুর রহমান সাগর, নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম
সদস্য শারমিন সুপ্তা এ সবুজ ক্যাম্পাসেরই ছাত্র। প্রয়াত শক্তিমান অভিনেতা
হুমায়ূন ফরিদী জাবির ছাত্র। জীবীতদের মধ্যে শহীদুজ্জামান সেলিম , মনপুরার
মিলি ,সুভাসিশ ভৌমিক , ফারুক আহমেদ ,সুভাসিশ সিনহা, সুমাইয়া শিমু , মম ,
সজল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী । পৃথিবীর অন্যতম বড় প্রজাপতি
মেলা হয় এখানে। প্রতি বছর শীতে পাখি মেলা ক্যাম্পাসের জাতীয় এবং
আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয় অনেকখানি।
জাবি একমাত্র জায়গা যেখানে আপনার কাছে অর্থ নেই , কড়ি নেই তাও তার অভাববোধ হবেনা । ক্যাম্পাসের প্রতিটি দোকানদারের সাথে শিক্ষার্থীদের দারুন প্রাণের সম্পর্ক । বাকি দিতে একটুও দ্বিধা করেনা খাবারের দোকানীরা । রিকশাওয়ালা মামাদের সাথেও দীর্ঘদিন দেখা হতে হতে আন্তরিকতা তৈরি হয় । এখানের মেডিক্যালে ধনী দরিদ্র , উচ্চবিত্ত নিম্নবিত্ত সকলেই চিকিত্সা নিতে পারে ।
সাংষ্কৃতিক স্বাতন্ত্র
জাবিকে এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাংষ্কৃতিক রাজধানী বলে গৌরববোধ করে । নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন এ নাম দেন । বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সাথে সম্পৃক্ত জাবির জীবনধারা । রয়েছে গান, নাচ,বিতর্ক, কবিতাসহ প্রায় একশটি সাংষ্কৃতিক সংগঠন । বিদায়ী ব্যাচ এখানে ঘটা করে ৩ দিনের আয়োজনের মাধ্যমে র্যাগ উত্সব করে । তাতে মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বিপুল আনন্দঘন সাংষ্কৃতিক সন্ধ্যা । র্যাগের জন্য রাজা ও রানী নির্বাচিত করা হয় গণতান্ত্রিকভাবে। হয় শোভাযাত্রা ,রঙখেলা । আরো কত কি !
আন্দোলনের সূতিকাগার
জাবিকে বলা হয় আন্দোলনের সূতিকাগার । এখান থেকে জন্ম নিয়েছে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কয়েকটি শক্তিশালী প্লাটফরম । এরমধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ও নিপীড়ণের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ইত্যাদি । এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি স্বাধীনচেতা এবং এই ক্যাম্পাস তাদের নিরাপদ বিচরণের নিশ্চয়তা দেয় । সান্ধ্য আইন ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে জাবি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করে । ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার জাবি । সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের নেতৃত্ত্ব দিচ্ছেন জাবি অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ স্যার। জাহাঙ্গীরনগর আমাদের ভালবাসা । এখানে জীবনের প্রয়োজনে জীবনকে ভালবাসার শিক্ষা নয় , নিঃস্বার্থ ভালবাসার দীক্ষা দেয়া হয়।
জাবিকে বলা হয় আন্দোলনের সূতিকাগার । এখান থেকে জন্ম নিয়েছে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কয়েকটি শক্তিশালী প্লাটফরম । এরমধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ও নিপীড়ণের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ইত্যাদি । এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি স্বাধীনচেতা এবং এই ক্যাম্পাস তাদের নিরাপদ বিচরণের নিশ্চয়তা দেয় । সান্ধ্য আইন ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে জাবি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করে । ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার জাবি । সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের নেতৃত্ত্ব দিচ্ছেন জাবি অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ স্যার। জাহাঙ্গীরনগর আমাদের ভালবাসা । এখানে জীবনের প্রয়োজনে জীবনকে ভালবাসার শিক্ষা নয় , নিঃস্বার্থ ভালবাসার দীক্ষা দেয়া হয়।
এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বাইরে থেকে শুধু যারা নিন্দা করেন তারা এখানকার হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের সাথে জুলুম করেন । যারা ‘র্যাগিং’ জাতীয় অসুখে ভোগেন তারা আসলে পূর্ণ সত্য জানেন না। এখানে সকলেই একটি পরিবারের অংশ । ক্যাম্পাসের ঝাড়ুদার থেকে বটতলার দোকানদার মালেক বা নুরু কিংবা সিকিউরিটি অফিসার সজল থেকে অধ্যাপক খালেদ হোসাইন স্যার সকলেই সকলের পরিচিত। আর এখানকার মেয়েদের মধ্যে মানবিকতা ও আন্তরিকতা অন্য কোথাও থেকে অধিক । একটি ঘটনা বলে শেষ করি। ঘটনাটি আমার দুই বড় আপুর । একজন ৩৪ ব্যাচের খুকু আপু । আরেকজন ৩৭ ব্যাচের মৌ আপু । দুজনেই ছিলেন এক হলের ছাত্রী।
তো একদিন বাথরুমে কাপড় ভিজিয়েছেন মৌ আপু । কি যেন তাড়া থাকার কারণে দ্রুত তিনি হল থেকে বেরিয়ে যান । ফিরে এসে দেখেন তার সব কাপড় ধুয়ে নাড়া আছে হলে।কিভাবে এটা হলো তিনি বুঝলেন একটু পর । তার পরপরই বাথরুমে আসেন ৩৪ ব্যাচের খুকু আপু । তিনি ছোটবোনের সব কাপড় পরম মমতায় ধুয়ে দিয়েছেন । তাতেই ক্ষান্ত হননি । শুকাতে নেড়েও দিয়েছেন।মৌ আপুর এমন মমতায় চোখে জল চলে আসে।এই ঘটনা শুনেছি মৌ আপুর নিজের মুখ থেকে।আজ দুজনেই তার কর্মজীবনে সফল । খুকু আপু ম্যাজিস্ট্রেট আর মৌ আপু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ।
এমন হাজারো স্বর্গীয় সম্পর্কের সূতিকাগার আমাদের প্রিয় জাহাঙ্গীরনগর বা জাবি অথবা কারো কারো কাছে জানবিবি । এখানে মানুষ প্রান্তিক থেকে চৌরঙ্গী , পুরাতন থেকে নতুন কলা ভবন, সমাজবিজ্ঞান থেকে বিজ্ঞান বিষয়ক অনুষদে জীবনের দেখা পায় । পরিবহন চত্ত্বর , শহীদ বেদী , মুক্তমঞ্চ , কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ , পিঠাচত্ত্বরের ছোঁয়ায় জীবনের গান গায় প্রতিটি জাবির সন্তান । লাল ইট আর সবুজ সমুদ্রে প্রাণের প্রবাহ চলতেই থাকে একেকটি নতুন আবর্তনিক পরিচয়স্বত্ত্বায়। আমিও একটি অদৃশ্য আইডি কার্ড নিয়ে গেীরবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিই । জাবির আকাশ-বাতাস-প্রকৃতি-বৃক্ষ-পাখি-প্রজাপতি জানে আমার পরিচয় । জাহাঙ্গীরনগরে যারা আগামীতে পড়তে আসবেন, সবাইকে আগাম অভিনন্দন রইল। যারা সুযোগ পাবেন না, বা অন্য কোথাও পড়বেন, তাদের দাওয়াত রইল, ক্যাম্পাসে আসেন, দেখেন একটি ক্যাম্পাস কীভাবে সৌন্দর্য আর বিশালতা নিয়ে বিশ্বকে বরণ করার সামর্থ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আপনাদের খুব কাছে।
