সকাল বেলা নয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। বুয়া মেয়েটি আসে নি।
আম্মা অস্থির হয়ে ঘর বার। ইনি বয়স্ক মানুষ, সব কিছু নিয়া অতি হতাশ হয়ে যান। এদিকে অফিস থেকে কল। ডিসি স্যার সালাম দিছেন। বাসা থেকে অফিস এক মিনিটের পথ। দৌড়ে বেরোয়ে যাচ্ছি পেছন থেকে আম্মা শাড়ির আঁচল ধরে টেনে রাখছে। বুয়ার খবর না নিয়ে বেরোতে পারবা না । উনি কানে শোনেন না। চিৎকার করে বেরোয়ে দৌড়।
নীচতলায় বাড়িওয়ালীর ইন্টারোগেশন। আফা , চিৎকার করলেন কার লগে। বল্লাম আম্মার লগে( মনে মনে বললাম, কার লগে করছি বাবা তোর কি?) দৌড়াইতে দৌড়াইতে গাড়ি, অফিস, দেন স্যারের রুম।
উনিশ তারিখের প্রোগ্রাম নিয়ে স্যারের ইন্সট্রাকশন। সে মোতাবেক কাজ শুরু, বাসায় এম এল এস এস রে পাঠালাম, বুয়া আসছে নাকি জানতে। জানালো, আসে নাই। ফোন দিলাম। তার জামাই জানালো, অসুস্থ, আসবে না।
এরপর কোর্টে উঠে নালিশী গ্রহন, ডিজপোজাল , একটায় নেমে হোটেল থেকে মা মেয়ের জন্য ভাত কেনা। বাসায় খাবার দিয়ে আম্মারে ইনসুলিন দিয়ে দৌড় লাগানো ইনজেকশন কিনতে। প্রতি সপ্তাহে ইনজেকশন না দিলে ওনার হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না। রক্ত কিনে আলকেমি হাসপাতালে দৌড়, নার্স নিয়ে বাসায় এসে আম্মারে ইনজেকশন দেয়ালাম।
এডভোকেট সাহেবরা দুইটায় হাজির হবেন সাক্ষি পরীক্ষা করাতে। দুইটা বেজে এক, না খেয়ে দিলাম দৌড়। অত:পর সাক্ষ্য গ্রহন।
সাক্ষী জেরার ধরন এমন।
সাক্ষীকে এডভোকেট সাহেবঃ যেই জমি নিয়া বিরোধ তার খতিয়ান নাম্বার, দাগ নাম্বার জানেন।
সাক্ষীঃ হুজুর, আমি এসব কিছুই জানিনা
এডভোকেট সাহেবঃ যদি না জেনে থাকেন, তাহলে বলেন তো খতিয়ানের মালিক কয়জন?
সাক্ষী বেবুঝ। কি উত্তর দেবে ভাবতে ভাবতে হয়রান। এডভোকেট সাহেব বললেন, হ্যাঁ না আপনাকে উত্তর দিতেই হবে দিতেই হবে! কিছু একটা বলতেই হবে!
আদালত এর ইন্টারফেয়ারঃ এডভোকেট সাহেব, সে তো বললো, সে কিছুই জানে না, কি উত্তর দেবে?
এডভোকেট সাহেবঃ না না, এটা আমার জানতেই হবে জানতেই হবে...
ক্লান্ত,শ্রান্ত,হয়রান হয়ে সন্ধ্যা সাতটায় ঘরে প্রত্যাবর্তন এক প্যাকেট মোরগ পোলাও নিয়ে। আম্মা বায়না ধরসে রাতে সে এইটা খাবে।
( এই হয়রান রোজনামচা পড়তে ক্লান্তিকর লাগলে পোড়োনা , লিখতেও আমার সেই ক্লান্তি লাগছে)
ফেনী, ১৩ নভেম্বর, ২০১৬।
