আমাদের অধিকাংশের ভেতর যে একটা ঔপনিবেশিক দাসহৃদয় রয়েছে এটা বুঝার জন্য
বেশি দূর যেতে হবেনা,আশেপাশে তাকালেই হবে।চলুন একটু নামের বানানে চোখ
বুলাই।
ইংরেজরা আমাদের ভাষার শব্দ উচ্চারণে ভুল করতো,এটা ওদের চরম ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা। কিংবা ওদের মনমত বিকৃত করে উচ্চারণ করতো এবং সেই ভুল বা বিকৃত উচ্চারণকেই লিখতো। এভাবে ঐ সাম্রাজ্যবাদী অপজাতি যা লিখে গেছে এখনো তাই ব্যবহার করছি আমরা । লজ্জার কথা হচ্ছে কিছু বুঝে অথবা না বুঝে 'ঔপনিবেসিক দাসে'পরিণত হওয়া কথিত শিক্ষিত সমাজ এই চলন অব্যাহত রেখেছে ।
১।
ওরা আমাদের রাজধানী ঢাকাকে বিকৃত করে উচ্চারণ করতো 'ডেকা বা ডেক্কা' এবং বানান লিখতো Decca । স্বাধীনতার অনেক পরেও এই বিকৃত বানানটি চলেছে এদেশে।পরে কিছু মহত্ লোকের অনুধাবনের পর তা Dhaka হয়।এটাই আমাদের সত্যিকার রাজধানী ।এই আমাদের ঢাকা।
২।
ঠিক একইভাবে বিকৃত করা হয়েছে ময়মনসিংহকে।এই জেলার বানান লিখে দিয়ে গেছে Mymensingh।ঠিক কোন যুক্তিতে একটা স্বাধীন দেশে এই উপনিবেশ যুগের চরম বিকৃত বানানটি টিকে আছে আমরা বুঝিনা।হ্যাঁ,ধরে নিলাম তখন উচ্চারণ করা হতো মৈমনসিংহ,দীনেস চন্দ্রের মৈমনসিংহ গীতিকায় এটি আমরা পাই।তবে এটা যে সুশীলদের উচ্চারণ ছিলনা এটাও বলা যায়না নিশ্চিতভাবে।যদি মৈমনসিংহও হয় তবুও উচ্চারণে কিভাবে Mymensingh আসে?এর একটাই কারণ সাদা চামড়ার ইংরেজ লুটেরারা ভুল বা বিকৃত করে উচ্চারণ করতো 'মাইমেনছিং'।আর আমাদের কথিত শিক্ষিতগোষ্ঠী দাস মানসীকতার পরিপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটায় ঐ একই উচ্চারণ করে এবং বানান লিখে।এমন অনেককে দেখেছি খুব গর্বের সাথে বলে 'ময়মনসিংহ'উচ্চারণ হলেও ইংরেজিতে হবে 'My-men-singh' এবং এটাই শুদ্ধ!হায়রে জাতি!হায়রে প্রজন্ম!শব্দে দাসত্ত্বের শৃঙ্খলে এখনো আটকে আছে গর্ব নিয়ে।
৩।
এভাবে অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়।ওরা এতো সভ্য যে অসভ্যের মতো এখনো 'ব্যাংলাড্যাশ' বলে যাচ্ছে।অথচ এরাই অনেক জটিল জটিল বিজ্ঞান বা চিকিত্সার শব্দ নিখুঁতভাবে উচ্চারণ করে । যত দোষ করেছে বাঙালি?বাংলাদেশী?এমন কি আরব?
আলীকে এলাই,হাসানকে হ্যাজেন,আল জাবেরকে এলজেবরা ইত্যাদি।
ইংরেজরা আমাদের ভাষার শব্দ উচ্চারণে ভুল করতো,এটা ওদের চরম ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা। কিংবা ওদের মনমত বিকৃত করে উচ্চারণ করতো এবং সেই ভুল বা বিকৃত উচ্চারণকেই লিখতো। এভাবে ঐ সাম্রাজ্যবাদী অপজাতি যা লিখে গেছে এখনো তাই ব্যবহার করছি আমরা । লজ্জার কথা হচ্ছে কিছু বুঝে অথবা না বুঝে 'ঔপনিবেসিক দাসে'পরিণত হওয়া কথিত শিক্ষিত সমাজ এই চলন অব্যাহত রেখেছে ।
১।
ওরা আমাদের রাজধানী ঢাকাকে বিকৃত করে উচ্চারণ করতো 'ডেকা বা ডেক্কা' এবং বানান লিখতো Decca । স্বাধীনতার অনেক পরেও এই বিকৃত বানানটি চলেছে এদেশে।পরে কিছু মহত্ লোকের অনুধাবনের পর তা Dhaka হয়।এটাই আমাদের সত্যিকার রাজধানী ।এই আমাদের ঢাকা।
২।
ঠিক একইভাবে বিকৃত করা হয়েছে ময়মনসিংহকে।এই জেলার বানান লিখে দিয়ে গেছে Mymensingh।ঠিক কোন যুক্তিতে একটা স্বাধীন দেশে এই উপনিবেশ যুগের চরম বিকৃত বানানটি টিকে আছে আমরা বুঝিনা।হ্যাঁ,ধরে নিলাম তখন উচ্চারণ করা হতো মৈমনসিংহ,দীনেস চন্দ্রের মৈমনসিংহ গীতিকায় এটি আমরা পাই।তবে এটা যে সুশীলদের উচ্চারণ ছিলনা এটাও বলা যায়না নিশ্চিতভাবে।যদি মৈমনসিংহও হয় তবুও উচ্চারণে কিভাবে Mymensingh আসে?এর একটাই কারণ সাদা চামড়ার ইংরেজ লুটেরারা ভুল বা বিকৃত করে উচ্চারণ করতো 'মাইমেনছিং'।আর আমাদের কথিত শিক্ষিতগোষ্ঠী দাস মানসীকতার পরিপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটায় ঐ একই উচ্চারণ করে এবং বানান লিখে।এমন অনেককে দেখেছি খুব গর্বের সাথে বলে 'ময়মনসিংহ'উচ্চারণ হলেও ইংরেজিতে হবে 'My-men-singh' এবং এটাই শুদ্ধ!হায়রে জাতি!হায়রে প্রজন্ম!শব্দে দাসত্ত্বের শৃঙ্খলে এখনো আটকে আছে গর্ব নিয়ে।
৩।
এভাবে অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়।ওরা এতো সভ্য যে অসভ্যের মতো এখনো 'ব্যাংলাড্যাশ' বলে যাচ্ছে।অথচ এরাই অনেক জটিল জটিল বিজ্ঞান বা চিকিত্সার শব্দ নিখুঁতভাবে উচ্চারণ করে । যত দোষ করেছে বাঙালি?বাংলাদেশী?এমন কি আরব?
আলীকে এলাই,হাসানকে হ্যাজেন,আল জাবেরকে এলজেবরা ইত্যাদি।
আমাদের মধ্যে প্রায় সকলেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে গর্ববোধ করে।সে বাংলা
সাহিত্যকে অনেক দিয়েছে ইত্যাদি।আমি তাঁকে সাহিত্যিক হিসেবে অনেক বেশি
পুঁজিবাদী বললেও তার ছোটগল্পের ভক্ত।সে কথায় যাচ্ছিনা।এই ব্যক্তির নামটাকে
ইংরেজ লুটেরারা উচ্চারণ করে 'ট্যাগর বা টগর'।নামের বানানের ঠাকুরকে ওরা
লিখে Tagore । এমন কি নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির সনদেও এই বিকৃত উচ্চারণের
বানান।দুঃখ ও লজ্জাজনক ব্যাপার হচ্ছে রবীন্দনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকতে একটিবার
এর প্রতিবাদ করে যাননি।সম্ভবত ঔপনিবেশিক দাসত্ত্বের প্রতি তার ও তার
পরিবারের একনিষ্ঠ অনুরাগ এই চিন্তা তাকে করতে দেয়নি।
তো এই Tagore কে আমরা আজো পরিবর্তন করতে পারিনি।দাসপ্রথার ধারবাহিক বিবর্তনে এক প্রজন্ম অন্য প্রজন্মকে খুব গর্বের সাথে শিখিয়ে যায় এই বিকৃতিকে,প্রজন্ম আবার ভুল বানান শিখে আত্মতৃপ্তিতে ভোগে।জাতি বন্দি হয় ঔপনিবেশিক অদৃশ্য দাসত্ত্বের জালে ।
[অসমাপ্ত]
২৮.১১.২০১৪
তো এই Tagore কে আমরা আজো পরিবর্তন করতে পারিনি।দাসপ্রথার ধারবাহিক বিবর্তনে এক প্রজন্ম অন্য প্রজন্মকে খুব গর্বের সাথে শিখিয়ে যায় এই বিকৃতিকে,প্রজন্ম আবার ভুল বানান শিখে আত্মতৃপ্তিতে ভোগে।জাতি বন্দি হয় ঔপনিবেশিক অদৃশ্য দাসত্ত্বের জালে ।
[অসমাপ্ত]
২৮.১১.২০১৪