মিডিয়াকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা যায় । ক্যাপিট্যালিস্ট দৃষ্টিকোণে এটি আপনার সম্মতি বা অসম্মতি উৎপাদনের হাতিয়ার । যেমন ধরুন, সম্প্রতি ভারত থেকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হলো এটি মূলত মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত । স্টেট প্রোপাগান্ডা এতই শক্তিশালী যে তার গোঁড়া খুঁজতে গেলে আপনি বিশাল সাপ পেয়ে যাবেন । সে মুহূর্তে ভারতীয় গণমাধ্যমের এজেন্ডা ছিল, জনগণকে পাকিস্তানে আক্রমণ করতে আবেগী করে তোলা । জনগণও হয়েছিল । এটি সম্মতি উৎপাদন ।
আবার সম্প্রতি ব্রিটেন ইউরোপীয়
ইউনিয়ন ছেড়ে বেরিয়ে গেছে । এর পিছনে ব্রিটেনের গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে ।
তারা অভিবাসীদের ব্রিটেনকে অনিরাপত্তার কারণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে । একই
ভাবে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার বিরুদ্ধেও ব্রিটেনের মানুষকে মিডিয়া
কনটেন্টের মাধ্যমে প্রভাবিত করেছে । এটি অসম্মতি উৎপাদন ।
মার্ক্সিস্ট দৃষ্টিভঙ্গীতে মিডিয়া আসলে বুর্জোয়া তথা রুলিং ক্লাস তথা
পুঁজিবাদীদের শোষণের বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার । আমরা সকাল বেলা ইত্তেফাক বা
যুগান্তর পত্রিকাটি হাতে নিয়ে ভাবছি , আরে এই পত্রিকাটি একটি পণ্য । আমি
এটি কিনেছি । আসলে মূল বিষয় অন্য। আমরাই বরং ঐ পত্রিকার পণ্য । মিডিয়া
মালিকগণের কাছে আমি আর আপনি জাস্ট পণ্য । তারা তাদের কনটেন্ট বিক্রি করে
আমাদের কাছে । আমাদের আবেগ ও অনুভূতিকে পুজি করে । নৈকট্য, দেশপ্রেম,
সিএসআর এসব কিছুই ক্যাপিট্যালিস্ট মিডিয়ায় পণ্য । বিদেশী কোম্পানী রবি বা
গ্রামীণফোন বা এয়ারটেল আপনাকে আর আমাকে বাংলাদেশকে ভালবাসা শেখায় বিনা
স্বার্থে ? নাকি আপনার আবেগ তার পুঁজি?
মিডিয়ার মার্ক্সবাদী অবস্থানটা খবুই বাজে । মানে যারা ধরেন , মিডিয়ায় কাজ করেন আর সেই মিডিয়াটি কোন ব্যবসায়ী তথা পুঁজিবাদীর দখলে, সে কিছুতেই আপনাকে তার বিপক্ষের শ্রেনীর প্রতিনিধি হতে দেবেনা । দেখাবে গরীবের আন্দোলন খুব নৃশংশ । তারা ভাঙচুর করে । তাদের আন্দোলনে কোন ইন্ধন আছে । বু্র্জোয়া মিডিয়া সর্বদা সমাজের কৃত্রিম সেীন্দর্য দেখায় । যতটুকু দ্বন্দ্ব দেখায় তা পুঁজির দ্বন্দ্ব । পুঁজিবাদকে ধ্বংস করার দ্বন্দ্ব নয় ।
কে যে এখানে সুপারস্ট্রাকচার আর কে যে এখানে বেইস সেটাই আমরা ভুলতে বসেছি । এই যে আমরা যারা মিডিয়াকর্মী আমরা বুর্জোয়া সুপারস্ট্রাকচারের একটি ক্ষুদ্র ইউনিট । আমাদের ভিত্তিটা দূর্বল । আমাদের রুটি রোজগারের ব্যবস্থা করে সাধারণ মানুষ । তারা বেইস । তারাই প্রলেতারিয়েত । তারা আমাদের ঘটনা আবার তারাই আমাদের উৎপাদনের মূল কারিগর । তাহলে আমরা তাদের কাছে পর কেন? সাধারণ যে প্রলেতারিয়েত তা সাধারণও ভুলেছে, মিডিয়ায় কাজ করা সাধারণের সন্তানরাও ভুলেছে ।
বাংলাদেশের মিডিয়া থেকে ব্যবসায়ীদের একাধিপত্য ক্ষুন্ন করতে হবে । তা না হলে আমি আপনি সবাই ব্যবসায়ীর পণ্য হবো । ইমদাদুল হক মিলন থেকে খালেদ মহিউদ্দিন, সাজ্জাদ শরীফ থেকে আল মাহমুদ সকলেই কোন না কোন মিডিয়া ব্যবসায়ীর পণ্য । আমরা আবার সেই পণ্যকে ক্রয় করা অডিয়েন্স নামের বিমূর্ত পণ্য । পুরো সমাজটা ক্যাপিট্যালিজমের নোংরা শৃঙ্খলে বন্দি । সেটি থামাবে কে?
বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিষয়ক অধ্যয়নের অবস্থা খুবই করুন । বই পুস্তক দেশের প্রেক্ষপটে লেখা হয়নি । কোন মেীলিক তাত্ত্বিক নেই । মিডিয়া তত্ত্ব পড়তে হয় অধিকাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে । অথচ নিজের দেশের মানুষেল উপর মিডিয়ার কি প্রভাব, কিভাবে আমাদের মিডিয়া দরিদ্রকে প্রান্তীকরণ করে ১ শতাংশ পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের স্বার্থকে উপস্থাপন করছে তা নিয়ে কোন গবেষণা নেই । এটা যে একটি জাতির জন্য কতটা কলঙ্কজনক তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এই অবস্থার পরিবর্তন করতেই হবে বাংলাদেশের স্বার্থে, মাটি ও মানুষের স্বার্থে । বাংলাদেশের খেয়ে , পরে কথা বলবেন আমেরিকা আর ইউরোপের সেই কর্ম আর বেশি দিন টিকবেনা । বাংলাদেশের মিডিয়া, তত্ত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এই ভূখন্ডের কৃষক-শ্রমিক-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবনকে ঘিরে হতে হবে । তবেই বাংলাদেশ জাগবে ।
#মিডিয়া
মিডিয়ার মার্ক্সবাদী অবস্থানটা খবুই বাজে । মানে যারা ধরেন , মিডিয়ায় কাজ করেন আর সেই মিডিয়াটি কোন ব্যবসায়ী তথা পুঁজিবাদীর দখলে, সে কিছুতেই আপনাকে তার বিপক্ষের শ্রেনীর প্রতিনিধি হতে দেবেনা । দেখাবে গরীবের আন্দোলন খুব নৃশংশ । তারা ভাঙচুর করে । তাদের আন্দোলনে কোন ইন্ধন আছে । বু্র্জোয়া মিডিয়া সর্বদা সমাজের কৃত্রিম সেীন্দর্য দেখায় । যতটুকু দ্বন্দ্ব দেখায় তা পুঁজির দ্বন্দ্ব । পুঁজিবাদকে ধ্বংস করার দ্বন্দ্ব নয় ।
কে যে এখানে সুপারস্ট্রাকচার আর কে যে এখানে বেইস সেটাই আমরা ভুলতে বসেছি । এই যে আমরা যারা মিডিয়াকর্মী আমরা বুর্জোয়া সুপারস্ট্রাকচারের একটি ক্ষুদ্র ইউনিট । আমাদের ভিত্তিটা দূর্বল । আমাদের রুটি রোজগারের ব্যবস্থা করে সাধারণ মানুষ । তারা বেইস । তারাই প্রলেতারিয়েত । তারা আমাদের ঘটনা আবার তারাই আমাদের উৎপাদনের মূল কারিগর । তাহলে আমরা তাদের কাছে পর কেন? সাধারণ যে প্রলেতারিয়েত তা সাধারণও ভুলেছে, মিডিয়ায় কাজ করা সাধারণের সন্তানরাও ভুলেছে ।
বাংলাদেশের মিডিয়া থেকে ব্যবসায়ীদের একাধিপত্য ক্ষুন্ন করতে হবে । তা না হলে আমি আপনি সবাই ব্যবসায়ীর পণ্য হবো । ইমদাদুল হক মিলন থেকে খালেদ মহিউদ্দিন, সাজ্জাদ শরীফ থেকে আল মাহমুদ সকলেই কোন না কোন মিডিয়া ব্যবসায়ীর পণ্য । আমরা আবার সেই পণ্যকে ক্রয় করা অডিয়েন্স নামের বিমূর্ত পণ্য । পুরো সমাজটা ক্যাপিট্যালিজমের নোংরা শৃঙ্খলে বন্দি । সেটি থামাবে কে?
বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিষয়ক অধ্যয়নের অবস্থা খুবই করুন । বই পুস্তক দেশের প্রেক্ষপটে লেখা হয়নি । কোন মেীলিক তাত্ত্বিক নেই । মিডিয়া তত্ত্ব পড়তে হয় অধিকাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে । অথচ নিজের দেশের মানুষেল উপর মিডিয়ার কি প্রভাব, কিভাবে আমাদের মিডিয়া দরিদ্রকে প্রান্তীকরণ করে ১ শতাংশ পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের স্বার্থকে উপস্থাপন করছে তা নিয়ে কোন গবেষণা নেই । এটা যে একটি জাতির জন্য কতটা কলঙ্কজনক তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এই অবস্থার পরিবর্তন করতেই হবে বাংলাদেশের স্বার্থে, মাটি ও মানুষের স্বার্থে । বাংলাদেশের খেয়ে , পরে কথা বলবেন আমেরিকা আর ইউরোপের সেই কর্ম আর বেশি দিন টিকবেনা । বাংলাদেশের মিডিয়া, তত্ত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এই ভূখন্ডের কৃষক-শ্রমিক-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবনকে ঘিরে হতে হবে । তবেই বাংলাদেশ জাগবে ।
#মিডিয়া
