সর্বশেষ

বিপিএলে খেলুক বাংলাদেশের প্রথম সুপারস্টার ও ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক আশরাফুল

অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা স্কোয়াডের সাথে হেসে খেলে মেরে সেঞ্চুরী করে দলে জিতিয়ে এদিন ঘরে ফেরেন আশরাফুল।
২০১৬ এর ১৬ আগস্ট ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের সুপারস্টার ও সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে । তারপরেও #আশরাফুল কেন ২০১৬ এর বিপিএল-এ কোন দল পেলো না? তাঁর অপরাধটা কি , ভাই?

এই ছেলেটা ছোট থাকতে একা একক প্রচেষ্টায়, যোগ্যতায়, মেধায়, প্রতিভায় একটা জাতিকে আনন্দে-সুখে-সাফল্যে ভাসিয়েছে । বিশ্বের কাছে লাল সবুজের পতাকাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে তাঁর বিস্ময়কর সব অবদান অনস্বীকার্য । তা আমরা ভুলে যাই কি করে? আজকের বাংলাদেশের বিশ্বব্যাপাী পরিচয়ের অন্যতম কারিগর এই আশরাফুল । এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরীটা আমাদের বাংলাদেশের করে রেখেছে এই আশরাফুলই । সেদিন সেই এতটুকু কিশোর মুরালিধরণ, চামিন্দা ভাস, মালিঙ্গাদের উপর চড়াও হয়ে বীরের বেশে শতক করে এসেছিল ।

ন্যাটওয়েস্টে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করেছিল তার শতকের উপর ভর করে । ভারতের সাথে বিজয়েও তার রান রয়েছে । দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবার পরাজিত করার দিন সম্ভবত আশরাফুলের ৮৩ রানের অবদান ছিল । সেসব ভুলে যাওয়াি ঠিক নয় । 
প্রিয় মুখ, প্রিয় খেলোয়াড়, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অনেকগুলো বিজয়ের কারিগর ।
আমরা যখন দেড় দিনে টেস্ট হারতাম তখন এই ছেলেটি ১৫৮ রান অপরাজিত করে ইনিংস পরাজয় থেকে দেশেকে বাঁচাতে লড়তো । ভাইরে, সেই সব দিনে একটা জয়  ছিল মহাবিজয় । তখন আশরাফুল ছিল দেবতা । সে কোন ম্যাচে ব্যাট হাতে রান করলেই বাংলাদেশে জেতে এমন একটি প্রবচন দেশব্যাপাী বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছিল । আশরাফুল সেই ক্রিকেটার যে আউট হওয়ার সাথে সাথে টেলিভিশন বন্ধ হয়ে যেত বা টেলিভিশনের সামনে থেকে কষ্ট নিয়ে দর্শকরা উঠে যেতো, যে আউট হওয়ার সাথে সাথে গ্যালারীর দর্শকরা স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যেত । আমি বলছিনা এমন আচরণ প্রশংসনীয়, কিন্তু এটা বোঝাতে চাচ্ছি যে, একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটপ্রীত আর আশরাফুল এক ও অদ্বিতীয় স্বত্মা ছিল । সেসব কথা ভুলে গেছেন? 
আশরাফুল বল পিটিয়ে বোলারের মুখের গঠন চেইঞ্জ করে দিতেন এভাবে!
মনে পড়ে আশরাফুলের স্ট্যাম্প ছেড়ে দিয়ে বাঘা বাঘা বোলারদের ছক্তা হাঁকানো? ব্রেটলির মত বোলারকে পর পর দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকানো আমাদের আশরাফুলে  সারল্যে ভরা চেহারাটা মনে আছে? ভুলে যাবেন না , প্লিজ ।  

সে ভুল করেছে । সেই ভুলের দায় অনেকেরই । এত বাচ্চা বয়সে সুপারস্টার হওয়ার পরে তাকে যথাযোগ্য মানসিক নিরাপত্তা দিলে কোন বাটপার, জুয়াড়ী তার কাছে ঘেঁষার কথা না । তারপরেও তার অপরাধ ধরে নিলাম । সবটুকু শাস্তি তো সে একাই পেয়েছে । আইপিএলে শ্রীশান্ত যখন জুয়াড়ীদের সাথে সম্পর্কিত তা উন্মোচন হলো এবং আইপিএল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো তখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন বাংলাদেশের উৎপল শুভ্র গং । উদোর পিন্ডি পড়লো বুধোর ঘাড়ে । আশরাফুল হলো বলির পাঁঠা । উৎপল শুভ্র আইপিএল সুরক্ষা করে বিপিএলকে বন্ধ করলেন ।

শুধুমাত্র মেীখিক স্বীকারক্তি ছাড়া আজ পর্যন্ত আশরাফুলের বিরুদ্ধে একটিও তথ্য প্রমাণ করতে পারেনি আকসু। এই কারণে আশরাফুল প্রশংসার দাবিদার । এদেশে সকলেই ভুল করে, পাপ করে, দুর্নীতি করে । তারা কয়জন আছে তা স্বীকার করে? ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিক করলো সব লেনদেন, জুয়াড়ী ভারতীয়, আর দোষটা নন্দঘোষ আশরাফুলের ঘাড়ে এসেই পড়লো । 
আশরাফুল এমনই ছিল । সে ব্যাটে এলে তার তান্ডবে বহু কামরান আকমলদের মুখাবয়ব এমন করুণ হতো!
আশরাফুল অল্প বয়সে শয়তানদের জালে বেঁধেছিলেন অনিচ্ছায় । কিন্তু তার আগে বাংলাদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক বিজয়ে রয়েছে আশরাফুলে স্বর্ণালী অবদান । সেসব বিবেচনায় অবশ্যই আশরাফুলের বিপিএলের ২০১৬ সালের আসরে একটি দল পাওয়া উচিত ছিল । কিন্তু ঠিক কি কারণে আশরাফুলকে এবারের বিপিএল থেকে দূরে রাখা হলো তা বুঝতে পারলাম না । আশা করি , বিপিএল কর্তৃপক্ষ এবং কোন না কোন দল আশরাফুলকে নিয়ে আরেকবার ভাববেন ।


২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল এ বিস্ময়বালকের । প্রথম দিন মাঠে নেমেই বিশ্ব ক্রিকেটকে নাড়া দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোতে অভিষেক টেস্টে সবচেয়ে কম বয়সে শতকের রেকর্ড গড়েছিলেন । সর্বমোট ৬১ টেস্ট খেলে আশরাফুলের সংগ্রহ ২৭৩৭ রান। এর মধ্যে ছয়টি শতক ও আটটি অর্ধশতক। আর ১৭৭টি ওয়ানডেতে তাঁর রান ৩৪৬৮। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি শতক ও ২০টি অর্ধশতক। এসব অর্জন এই তো কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের সবার চেয়ে উপরে ছিল ।

আশরাফুল ফিরে আসবে ফের এটা আমরা চাই । পুরো জাতিকে সেই সব “আশরাফুলীয় শট” খেলে আবারো ঐক্যবদ্ধ করবে আশরাফুল এটা আমাদের কামনা । আমরা শুধু বিপিএলে না, বাংলাদেশের জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে দেখতে চাই ।
এই শটটি ক্রিকেট মাঠে প্রচলনই হয় এই বিস্ময়বালকের হাত ধরে । কেউ সাহস পেতোনা,সে পেয়েছিল এটা খেলার সাহস।
আজ যারা প্যাডল স্কুপ বা স্কুপ প্যাডল শট দেখে অভিভূত হয় , তারা জানেই না আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ধরনের শটের প্রচলনকারী এই আশরাফুলই । একসময় ভাষ্যকাররা এই শট কাউকে মারতে দেখলেই বলতো , আশরাফুলে শট । বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপটিতে অকারণে বাদ দেয়া আশরাফুলকে দলে না দেখে এ দেশের মানুষ মানবন্ধন করেছিল । বিদেশীরা এসে বলেছিল,“ তোমাদের আশরাফুল কোথায়?”

এখনো মনে আছে সেই সব দিনের কথা যখন গ্রামের বৃদ্ধ চাচা বসে থাকতেন “ ঐ আশরাফুল যতক্ষণ আছে ততক্ষণ বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আছে” এই কথা বলে । ছোট ছোট ছেলেরা আশরাফুল হতে চাইতো । তার মত শট খেলতে চাইতো । ব্রেট লি থেকে শোয়েব আখতার, বন্ড থেকে ওয়ার্ণ, ম্যাকগ্রার বলে সুইপ করে সেঞ্চুরী কয়জন করতে পারছে? কেউ পারেনি । আশরাফুলের তান্ডবের সামনে যে বোলার এসেছে সে ই অসহায় হয়ে ফিরে গেছে । 
ব্রেটি লিকে এইভাবে বীরের মত ছক্কা কজন মারতে পারতো? আশরাফুল পারতো অনায়েসে । সে এক বিস্ময়!
তা শোয়েব, ব্রেটলি, হার্মিশন, ফ্লিটনটফ,মুরালিধরন, জহির খান, সাকলাইন মোস্তাক, শন পোলক যে সামনে আসুক তাকেই আশরাফুল তুলোধুনা করেছে । বাংলার ছোট্র এই বাঘের গর্জনে কেঁপেছিল ক্রিকেট বিশ্ব । বিশ্বাস করি, এই ক্রিকেট বিস্ময়ের ঝুড়িতে এখনো অনেক কিছু আছে যা বাংলাদেশকে বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করার সুযোগ এনে দিতে ভূমিকা রাখতে পারে । আশরাফুল দলে ফিরুক-বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ও বাংলাদেশের জাতীয় দলের খেলোয়ার হিসেবে আবার সারা দেশেকে গেীরবান্বিত করুক । 
সেই বিখ্যাত শট । ব্যাকফুটে গিয়ে স্ট্যাম্প ছেড়ে কাভার বা একস্ট্রা কাভারের ওপর দিয়ে দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি!
২০১৯ বিশ্বকাপটি লাল-সবুজের বাংলাদেশে আসার ক্ষণে দলে থাকুক বাংলাদেশের অনেকগুলো ঐতিহাসিক বিজয়ের মহানায়ক আশরাফুল ।
 
প্রিয় আশরাফুল । প্রিয় ক্রিকেটার । প্রিয় বাঘ । প্রিয় অধিনায়ক । আমাদের লিটল মাস্টার ব্লাস্টার । আমাদের বিস্ময়বালক । বিশ্বের সেই Wonder Boy । আমরা চেয়ে আছি । কারো অনুগ্রহ নয়, করুণা নয় , যোগ্যতা দিয়েই আশরাফুল দলে ফিরবে । আপনারা শুধু পক্ষপাতিত্ত্বহীন দলটি নির্বাচন করলে আশরাফুলের দলে আসা সময় মাত্র । কারণ আশরাফুল ক্ষেপলে কোন বাঁধা তাকে আটকাতে পারেনা । বাংলাদেশের বিজয় নিয়েই সে ঘরে ফেরে ।

আশরাফুলে ফিরে আসার প্রতীক্ষায় বাংলাদেশের ক্রিকেটার উত্থান-পতন, খারাপ-ভালো উভয় সময়ের একনিষ্ঠ সমর্থক এক ভক্তের এটা বিশ্বাস ।দৃঢ় এ বিশ্বাস । এর জন্ম দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল নিজে । এমন কোটি ভক্ত এখনো আশরাফুলের ফিরে আসবে এই আশায় চেয়ে আছে ।

ভাই আশরাফুল, তুমি যদি এই লেখা পড়ো । যে কোনভাবেই  পড়ো, তবে জেনে রেখো, আমার মত এমন কোটি কোটি হৃদয় তোমাকে ভালবাসে । নিন্দুকদের সংখ্যা সামান্য । প্রত্যেক মানুষের জীবনে ভুল আসে, খারাপ সময় আসে । সেটি তুমি কাটিয়েছো । সাফল্যের সাথে । আমরা তোমার ভাল ও মন্দ উভয় সময়ে পাশে থেকেছি । এবার তুমি আমাদের জন্য খেলো । সবটুকু্ উজাড় করে দাও । তুমি পারবে, পারবেই । এখনো তোমার অভিমানী ভক্তরা ইউটিউব তন্নতন্ন করে তোমার শট খোঁজে ।
 
 এখন নিজেকে , সেই আশরাফুলকে বিশ্বমঞ্চে নায়ক করার অভিপ্রায় নিয়ে মাঠে ফিরে আসতে কঠোর পরিশ্রম করো । ঘরোয়া ক্রিকেটে শতকের পর শতক করো । ঝড়ো ইনিংস খেলো । এটা সোস্যাল মিডিয়ার যুগ । যদি পারফরমেন্স ভাল করো, তবে আমাদের প্রকাশিত আবেগ, উচ্ছ্বাস ও ভালবাসাই তোমাকে দলে নিয়ে আসবে । এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে গ্রামের চায়ের দোকানে, শহরের গলি কিংবা গ্রামের মোড়ে মোহাম্মদ আশরাফুল আলোচনায় আসে, আসতেই হয় । তুমি ফুরিয়ে যাওনি । ‍তুমি ফের জ্বলে ওঠো । ত্রাস সৃষ্টি করো সকল বোলারদের ওপর ।  বাংলাদেশের দীর্ঘ একটি ব্যাটিং লাইন আপ প্রয়োজন । সেখানে তোমাকে চাই । আমরা দোয়া ও আশির্বাদ করি তোমার জন্য । তুমি ফিরে আসো, ক্রিকেট মাঠে। আমাদের হৃদয় থেকে দাবড়ে বেড়ায় বিশ্বের তাবৎ বোলারদের ত্রাস সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করে দিতে । তোমার জন্য শুভ কামনা । তুমি আগুন । শুধু জ্বলে ওঠো । পুড়িয়ে দাও নিন্দুকদের সব নিন্দা । প্রতিপক্ষ বোলারকে মনের মত পিটিয়ে তছনছ করে আবার উড়াও বাংলাদেশের বিজয়কেতন , বিশ্বের বুকে ।
পাঠ অনুভূতি