সর্বশেষ

নারী ও পৃথিবী ও পিশাচপুরী


দেখেছি সে মেয়েটির চোখের নিচে কৃষ্ণবর্ণ দাগ, রাজ্যের চিন্তায় কপালে ভাঁজ
শুনেছি তার নিপীড়িত হওয়ার শখানেক ঘটনা
পুরুষ পশুদের বিচিত্র অমানুষীর শিকার মেয়েটির মুখে মলিন হাসি-
তবু লেগেই থাকে । কখনো সে ঘরের মেঝেতে কাজের মেয়ে,
কখনো সে কর্মজীবী ব্যস্ত নারী, কখনো সে ছাত্রী, কখনো সে পথচারী
তবে সবক্ষেত্রেই এক কাহিনী
পিশাচের রিপু, হস্ত ও নেত্রের ধারাবাহিক অত্যাচারে
এখন সে আঁকড়ে ধরেছে অবিশ্বাসের কঠিন মালা
সে মেয়ে, সে বালিকা , সে নারী লাম্পট্যে পূর্ণ সামাজিক বিন্যাসে
বন্দি আজো,আমি দেখেছি-কত কত কতবার যে তার ও তার মত তাদের আহাজারী
কেউ আসেনি তা শুনে,কোন মানবতাবাদী,দেখিনা কোন ছিঁচকে নারীবাদী ।


বলছি,অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে
হে নারী,হে আমার জননীর ভ্রাতী
তুমি স্রষ্টা আদম পরবর্তী জীবনের,তুমি বড়,তুমি মানবের আশ্রয়,
এবার জ্বালাও নিজেকে
তাতে প্রজ্জ্বলিত হোক অজ্ঞবর্গ অথবা পুড়ে ছাই হোক খারাপের পাল
তুমি নিংড়ে ফেলে দাও হিংসা,অপকাম ও দ্বেষ
যত সব শত্রুতার অদৃশ্য জাল।

অনেক পিছিয়েছো, আর না
এখন ভবিষ্যতের পরের ভবিষ্যত্‍ গড়তে হবে তোমার মমতা ও বিচক্ষণতায়
তুমিই পারো বখে যাওয়া প্রজন্মকে লাগাম দিতে
তুমিই পারো চপেটাঘাত করে পুঁজিতন্ত্র ধ্বসাতে
তুমিই পৃথিবীর আশা,তুমিই জগতের শেষ ভালবাসা ।

তোমার প্রতিভার বিচ্ছুরণে নিভিয়ে দাও মন্দের কৃত্রিম ঝলক,
উড়াও হৃদয়ে উত্‍সবের রঙিন ফানুস
আঁচলের মায়াতে টেনে নাও সব অমানুষ ।

হুংকার দাও হে নারী,হে মেয়ে, হে কিশোরী , হে বালিকা, হে কন্যা
দেখো,পশুদের বালির দুর্গ তোমার পদতলে ঝরে পড়বে
তারপর দুহাতে সূর্যের আলো মেখে স্নান করো ইচ্ছেমত
আর কোন নির্লজ্জ, পাপী চোখ তাকাতে সাহস পাবেনা
তোমারও চোখে।

এই পিশাচপুরীটা ও এর শাখাপ্রশাখা ধ্বংস করো
তোমার মানুষ ছেলেদের নিয়ে,নারী
তারপর কল্যাণের নিমিত্তে তাবত্‍ পৃথিবীটা অধিগ্রহণ করো ।

December 13, 2015 at 12:35am
পাঠ অনুভূতি