সর্বশেষ

অসভ্য ও অমানবিক ত্বক ফর্সার বিজ্ঞাপন এবং নারী


বিজ্ঞাপনে নারীকে যে পরিমাণ অপমান,অবজ্ঞা,উপেক্ষা ও ছোট করা হয় কথিত পশ্চিমা মানদন্ডের আধুনিকতায় আর কোথাও এমন দেখা যায়না।নারীর সফলতা থেকে শুরু করে দুঃখ,কষ্ট,প্রাপ্তি ও বঞ্চনা সব কিছুকেই বিজ্ঞাপনের গায়ের বর্ণ দিয়ে ফুটিয়ে তলে।ফর্সা হওয়ার মত বর্ণবাদী বার্তায় নারীর সফলতা আসে,পুরুষ বস খুশি হয়।পুরুষ প্রেমিক ফেয়ারনেস ক্রিম দেয়া মেয়ের দিকে চায়।মেয়ে খুশিতে গদ গদ করে ৬ সপ্তাহের থেরাপির কাল্পনিক উপকার পেয়ে।শিক্ষা ও পরিশ্রমকে এড়িয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতাকে বিজ্ঞাপন যোগ্যতা বানায়।পুঁজিবাদ ঠিক এইভাবে নারীর উজ্জ্বল ত্বক ব্যবসা করে।ইউটোপিয়ান ফর্সাকরণের টোপ দিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায় পুঁজিবাদী আমেরিকা ও ইউরোপ।সমাজের অফর্সা,অনুজ্জ্বল,শ্যামলা ও কালো মেয়েদের সফলতার কোন গল্প বিজ্ঞাপন বা মিডিয়ায় থাকেনা।কারণ ভোগবাদী মিডিয়ায় নারীর সত্যিকার ইমেজকে ভেঙেচুরে শরীরসর্বস্ব করেছে।বিজ্ঞাপনের নারীর মন নেই, দেহ আছে।এই দেহের বর্ণ ফর্সা।ইউরোপ ও আমেরিকার নয়া ঔপনিবেশিক ক্যামপেইনে যে রেসিস্ট এন্থ্রোপোলজি বিকশিত হয়েছে তাতে হোয়াইট সুপ্রিমেসির মত নিকৃষ্ট ধারনা এসেছে,আবার কর্পোরেট ফেমিনিজমের মত একটি পুরুষতান্ত্রিক নারীবাদের উত্থান ঘটেছে।এই নারীবাদ ক্যাপিট্যালিজমের দারুন সহায়ক।পারফিউম আর ফেয়ারনেস ক্রিমের বর্ণবাদী বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ করা ও রেসিস্ট বার্তার ব্যাপারে এই নারীবাদ নিরব।তারফলে কৃষ্ণবর্ণ নারীদের বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে চরম অবহেলার কথা কেউ ভাবছেনা।বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া নারীদের মধ্যেই তৈরি করেছে বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েত।
[অসভ্য ও অমানবিক ত্বক ফর্সার বিজ্ঞাপন এবং নারী-১]
25.02.2016
পাঠ অনুভূতি