১।
২ মার্চ,১৯৭১
পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।এতে সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করে।স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে ঢাকা বেতারসহ সব আঞ্চলিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা,কর্মচারী ও বিক্ষুব্ধ শিল্পীরা অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।ফলে ২ মার্চ থেকে 'রেডিও পাকিস্তান' শব্দগুচ্ছ বাদ দিয়ে 'ঢাকা বেতার কেন্দ্র','চট্রগ্রাম বেতার কেন্দ্র' ব্যবহার শুরু করে জাতীয়তাবোধসম্পন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা।
২ মার্চ,২০১৭
ধুর, কে ঐসব ইতিহাসের খোঁজ রাখে? ইতিহাসের চেয়ে তো ভারতীয় গানে, শীলায় মুন্নীতে, শচীনে,আফ্রিদিতে, বলিউডে বেশি মজা, বেশি টাকা। কে এই দেশের চাষাভুষাকে নিয়ে ভাবে বলুন? ওসবের টাইম আছে? আমরা সানিলিওনপ্রিয়, দেবপ্রিয়, শাহরুখ, আমিরের পা চাটা প্রজন্ম।
আজকে কারা গণমাধ্যমে কাজ করে? এরা বোঝে জাতীয়তাবোধ কি? এরা জানে কি করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হয়?না,এরা একটি আত্মমর্যাদাহীন ভোগবাদী গোষ্ঠী।বেতনের লোভে এরা লাল সবুজকে বিক্রি করে দিতে পারে,প্রচার করতে পারে অন্য দেশের নানা এজেন্ডা।
২।
আজ ২ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে প্রথমবারের মত আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ছাত্র ও সংগ্রামী জনতার পক্ষে এ পতাকা উত্তোলন করেন ডাকসুর সেসময়ের সহসভাপতি আ স ম রউফ। তিনি স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিলের গঠিত বিতর্কিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদে যোগ দেন। জাসদ বাংলাদেশের উন্নয়নে বাধাপ্রদান করা একটি দল হয়। এই দলে কর্নেল তাহেরও ছিল। এদের ধারাবাহিক কর্মকান্ডে বীরউত্তম জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসার সুযোগ পায়।
২ মার্চ ১৯৭১ সালে যে পতাকাটি উড়ানো হয় সেটি বর্তমানের পতাকা ছিলনা।সেই পতাকার মাঝখানে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র। ৭ মার্চ এই পতাকা হাতে নিয়েই হাজার হাজার লোক স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য শুনতে তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানে ছুটে আসে।
তবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা অনানুষ্ঠানিকভাবে ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে উডায় সিরাজ শিকদারের পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি।
১৯৭০ সালের শেষের দিকে ঝালকাঠি, ঢাকা ও ময়মনসিংহের বেশ কয়েকটি জায়গায় পাকিস্তানী ঘাঁটিতে হামলা করে সর্বহারা পার্টি এবং সেখানে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয় সর্বহারারা। সিরাজ শিকদারের উড়ানো সেই পতাকা আর আজকের বাংলাদেশ পতাকা প্রায় এক। শুধু সিরাজ শিকদারের উড়ানো পতাকাটির লাল সূর্যের মাঝে দেশের মানচিত্র ছিল।
যাহোক, স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পতাকা উত্তোলন অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কার্যত এর মাধ্যমে হানাদার ও সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানীদের বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার একটি চূড়ান্ত বার্তা পাঠানো হয়।
৩।
২ মার্চ, ১৯৭১। স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতা বঙবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দেশজুড়ে অসহযোগ আন্দোলন পালিত। গণমাধ্যম জুড়ে পূর্ব পাকিস্তান শব্দ নিষিদ্ধ করে দেশপ্রেমিক কর্মীরা ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো হয়। চূড়ান্ত বার্তা দেয় বাঙালি যে, আর নয় অত্যাচারী সাম্প্রদায়িকের সঙ্গে! এবার বাংলাদেশ একাই পথ চলবে। জাতির সামনে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক জনসভার ডাক। সেই ডাকে সংগ্রাম ও বিপ্লব ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ।
এই পতাকা রক্ত দিয়ে কেনা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত থেকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই ৯ মাস ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মাবোনের সম্ভ্রম দিয়ে অর্জিত এই পতাকা। এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করলে তার বাংলাদেশের বাস করার অধিকার নেই। স্টেডিয়ামে হানাদার পাকিস্তানী পতাকা নিয়ে যারা যায় ওরা এই পতাকার শত্রু। বাংলাদেশের পণ্য ব্যবহার ও দেশিয় সংষ্কৃতি চর্চা করলেই এই পতাকার সম্মান রাখা হবে। জয় বাংলা। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

