সর্বশেষ

জাতীয়তাবাদ নিয়ে তিনটি কথা


১।
আমাদের দেশে একটা শ্রেণীর উদ্ভব হয়েছে ইদানিং।এদের কাছে জাতীয়তাবাদের প্রয়োজন নেই।এরা বলতে চায়,জাতীয়তাবাদ একটি সংকীর্ণ ধারনা।জাতীয়তাবাদের দিন শেষ।জাতীয়তাবাদ দিয়ে দেশের কিছু হয়না।আদৌ কি তাই?এরা কি বোঝে জাতীয়তাবোধ কি?
এর উত্তর 'না'।একটি জাতিরাষ্ট্রের উন্নয়নের পূর্বশর্ত তার শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ(Nationalism।জাতীয়তাবোধসম্পন্ন একটি জনগোষ্ঠী ছাড়া জাতি ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব।জাতীয়তাবোধই স্বদেশের পণ্য কিনতে আগ্রহী করে,স্বদেশকে ভালবাসতে উত্‍সাহিত করে তাহলে যারা জাতীয়তাবাদ নিয়ে কুত্‍সা করে এরা কারা?কেন করে?
২।
এরা হচ্ছে জাতির ক্যান্সার।প্রথমত এই ক্যান্সাররা নিজেরাই সংকীর্ণমনা।এই মানসীকতার যতগুলোকে আমি দেখেছি প্রত্যেকটি চরম আত্মকেন্দ্রিক এবং স্বার্থান্বেষী।নিজের স্বার্থে এরা দেশ বা জাতি উভয়টাকে বিক্রি করে দিতে পারে।যারা নিজেরা এমন আত্মবাদী তারাই আবার ভন্ডের মত একটি সামষ্টিক চেতনা জাতীয়তাবাদের বিরোধী।স্ববিরোধী ক্যান্সারগোষ্ঠী।জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞায়নটাই এরা ধারন করতে পারেনি।বাংলাদেশপন্থী চিন্তাভাবনা এরা করেনা।এরা হয় হৃদয়ে ভারতপন্থী না হয় পাকিস্তানপন্থী,হয় ইউরোপে পাড়ি দিতে চায় নইলে আমেরিকায়।বাংলাদেশ এদের পরিকল্পনার বাইরের একটি রাষ্ট্র।জাতীয়তাবাদের এরা কি বুঝবে?এদের এই ছোট মানসিকতার কয়েকটি কারণ-
ক.এরা মানসিকভাবে পাকিস্তান অথবা ভারতের নাগরিক,দৈহিকভাবে বাংলাদেশের
খ.এরা প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংষ্কৃতি,অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে অজ্ঞ।অনার্য সংগ্রামের ইতিহাস এরা জানেনা।ফলে হীনমন্যতায় ভোগে এবং তা এদের কথায় ও কাজে প্রকাশ করে
গ. এরা জাতীয়তাবাদ বলতে বোঝে অন্য জাতিকে ঘৃণা যেটা একটি চরম ভুল ধারনা।জাতীয়তাবাদ সমতা ও আত্মমর্যাদা নিয়ে অন্য জাতির প্রতি ইতিবাচক ধারনা রাখে।তবে কেউ আগবাড়িয়ে আঘাত করলে জাতীয়তাবোধ সেটাকে ফিরিয়ে দিতে দ্বিধা করেনা।
এসব কারণে এই অপপ্রজন্ম জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে অপপ্রচার করে।এদেরকে বাংলাদেশে আসলেই মানায়না।এরা এমন করে কারণ এরা সারাদিন ভারতীয় সংষ্কৃতির গান ও ছবি দেখে,বিদেশী পণ্য ব্যবহার করে,পাকিস্তান আর ভারতের খেলোয়াড়দের নিয়ে স্বপ্ন বোনে,ওয়ালটন বা টেলিটক ব্যবহার করেনা।এরা কেয়া,তিব্বত,কুল,স্কয়ার,কোহিনূর,বেক্সিমকো বা আকিজ গ্রুপ চেনেনা।এরা মোজো ক্লেমন স্পিড ফেলে কুত্তার মত কোক,পেপসি বা মাউনটেইন ডিউ বা মিরিন্ডা খেয়ে বেড়ায়।দেশের তৈরি পণ্যের কুত্‍সা রটাতে রটাতে এদের মুখে নোংরা ফেনা জমে যায়।ফলে অন্য কেউ দেশের পণ্য ব্যবহার করলে এদের সহ্য হয়না।এদের মোবাইল অপারেটরটা এয়ারটেল,গ্রামীণ রবি বা বাংলালিং।ফলে যে টেলিটক ব্যবহার করে তার সাপেক্ষে এরা দেশত্যাগী ও অপরাধী।এই অপরাধবোধ ঢাকতে এইসব পরগাছা মানসিকতার লোকে জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে নিম্ন ধারনা পোষণ করে।কারণ এরা নিজেরা জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গীতে দেশদ্রোহী হয়ে যায়।ফলে জাতীয়তাবাদের সমালোচনা ছাড়া এদের অস্থিত্ত্ব এদেশে অবৈধ এবং এরা অপরাধী।দেশপ্রেম ও বাংলাদেশকেন্দ্রিক চিন্তা ও কাজকে এরা 'উগ্র জাতীয়তাবাদ' বলে নিজেদের নির্লজ্জ আচরণ ঢাকতে চায়।
৩।
সত্যি বলতে বাংলাদেশ তখনই উন্নত হবে যখন এদেশের মানুষ উগ্রভাবে বাংলাদেশের সংষ্কৃতিকে ভালবাসবে,উগ্রভাবে এদেশের পণ্য ব্যবহার করবে,উগ্রভাবে বিদেশী পণ্য বর্জন করবে।কথিত এই উগ্র জাতীয়তাবাদই একটি জাতির উন্নতির চাবিকাঠি।এই উগ্রতা ধারন করলে সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের পণ্য দেশে ঢোকাতে পারেনা,তাই প্রকৃত জাতীয়তাবাদকে 'উগ্র' ট্যাগ দিয়েছে।ভালো হোক মন্দ হোক নিজের জিনিস ব্যবহার করে দেশীয় কৃষক শ্রমিক ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে হবে,ওরাই পরে উন্নত পণ্য তৈরি করবে-এটাই জাতীয়তাবাদ।জাতীয়তাবাদকে নিন্দা করা বাংলাদেশবিরোধী এই অপপ্রজন্মকে ধিক্কার।এরা হয়তো মুখে সাম্রাজ্যবাদ বা আধিপত্যবাদের বিরোধীতা করে অথচ কার্যক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদ প্রসারে ভূমিকা রাখা বিশ্বায়ন ধারণাকে প্রচার করে।এদের এই বোধটুকু নেই যে বাংলাদেশকে সর্বক্ষেত্র অগ্রাধীকার দিলে এদেশের রাজনীতি,অর্থনীতি,সমরনীতি,সংষ্কৃতি ও উত্‍পাদন ব্যবস্থায় কেউ অনুপ্রবেশ করতে পারবেনা।বাংলাদেশ সব দিক দিয়ে শক্তিশালী ও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।
তবে মনে রাখিস ভন্ডের দল,প্রিয় বালাদেশ জাগবেই-আজ অথবা কাল।এদেশে বাংলাদেশপন্থী ছেলেমেয়ে এখনো আছে,আরো হবে।এদেশ বাংলাদেশপন্থীদের,কোন ভন্ড স্বার্থান্বেষী,আত্মকেন্দ্রিক ও বিদেশমুখী অপপ্রজন্মের নয়।
পাঠ অনুভূতি