সর্বশেষ

তুমি নারী বলেই


(উৎসর্গ: আমার মা, যিনি একাই লড়াই করে চলেছেন জীবনযুদ্ধে।যিনি আমার জীবনের অনুপ্রেরণা, আমার সংগ্রামের উৎস।)
তুমি নারী বলেই
সভ্যতার ভাঙা পাঁজর জোড়া লাগিয়েছো তুমি,
পৃথিবীকে করেছো উর্বর,মায়া ও মমতা ঢেলেছো দুহাতে
স্নেহ ও ভালবাসার অদ্বিতীয় উত্‍স হয়ে এসেছো
মা হয়ে,বোনের বেশে,কন্যার সাজে, অপার্থিব প্রণয়িণী
এক দেহে এত কিছু সম্ভব তুমি কেবল নারী বলেই।



তুমি নারী বলেই
তীব্র খরায় আঁচলের ছাউনীতে ক্লান্ত পুরুষকে বাতাস করো,
যুদ্ধে কি শান্তিতে, আবেগ কি বাস্তবতায় তুমি-
মনে আর বাহুতে শক্তি দাও, হৃদয় আন্দোলিত করো নিভৃতে
দশ দশটা মাস অনায়েসে একটা ভারী বোঝা হাসিমুখে বহন করো-
একবার, দুইবার, কয়েকবার; আর কিছু না, তুমি নারী বলেই।

তুমি নারী বলেই
সংগ্রামের দুর্গ, তপ্ত খরায় কি অনাবৃষ্টিতে তুমি শ্লোগান
তুমি কোটি কোটি পথিকের বৃক্ষ, পরোপকারী চিরন্তন
উত্‍পাদনের শক্ত হাতিয়ার, তুমি এ জগতের দুর্ধর্ষ জীবনী
সংগ্রামী, বিপ্লবী; নিরহংকারী তারপরও তুমি নারী বলেই।

তুমি নারী বলেই
ওরা -পিশাচ, সুশীল, ক্যাপিট্যালিস্ট ভীষণ ভয় পায় তোমাকে
সস্তায় বিক্রি করতে চায় তোমার অমূল্য জীবনসম্পদ
তোমার শরীরকে পুঁজি করে কোটিপতি হয় ভোগবাদী পুরুষ,
তোমার মাতৃছায়াকে বিকিনী দিয়ে ঢেকে দিতে চায় আধুনিকতার মুখোশে নষ্ট পুঁজিবাদী,
তোমার মেধা ও মনন, ব্যক্তিত্ত্বকে দেহসর্বস্ব গ্ল্যামারে ঝলসে দেয় লোভী ব্যবসায়ী
চোখ খোলো, দ্যাখো: পিছনে ঠেলে দেয় ওরা কেবল তুমি একজন নারী বলেই।


তুমি নারী বলেই
এ পৃথিবী তোমার পদতলে থাকার কথা, তুমি জননী
থাকেনি, তোমাকে যুগে যুগে পুতুল করেছে পশুরা
নারীবাদের চটকদার শ্লোগানে তোমার বস্ত্রহরণ করেছে পুঁজিপতি,
অধিকারের ফুলঝুড়ি দেখিয়ে তোমার অধিকার কেড়ে নিয়েছে পশ্চিমের সেবক-সেবিকা,
সুযোগের দোহাইয়ে তোমাকে অসম প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিয়েছে ফেমিনিস্ট
তোমাকে বুঝতে দেয়নি, পেয়ালায় বিষ দিছে, তুমি বোঝোনি-
ওদের এনজিও’র স্বার্থে এসব করেছে তুমি কেবল নারী বলেই।

ওরা ভয় পায় তোমার কর্তৃত্ত্ব, তোমার বিপুল সম্মান, তোমার সতীত্ত্বকে
তাই কৌশলে মেকাপ ধরিয়ে দিয়ে তোমার হাত থেকে সিংহাসন কেড়ে নিয়েছে
সম্রাজ্ঞী থেকে আটক করেছে ফ্ল্যাট, ব্রোথেল নামের নব্য হেরেমে
তোমাকে পরিয়েছে মশারী, ছেড়ে দিয়ে শত শত ডেঙ্গু মশা
নিজেদের কুৎসিত চোখ না আটকে ওরা দোষ দিয়েছে তোমাকে শরীরী
তোমাকে প্রতিরোধ করতে ওদের সব ব্যাখ্যা, তুমি  শুধু নারী বলেই।



তুমি নারী বলেই
পৃথিবীতে এতোটা প্রেম, এতোটা স্নেহের সমুদ্র, করুণার প্রবাহ
বুক চাপড়ে সন্তানের জন্য কান্না
অথচ আজ তোমাকেই ভোগবাদীরা যন্ত্র বানাতে চাচ্ছে,
তোমার নিযুত আবেগ, আকর্ষণ, তোমার সম্মান ও মর্যাদা লুন্ঠন করতে চাচ্ছে
তোমার কাছ থেকে ভালবাসার নাটাই কেড়ে নিয়েছে ওরা, তোমার প্রবল প্রতিপত্তি
বঞ্চিত করেছে প্রাপ্তিরেখা থেকে, তুমি জাগো- তোমাকে জাগতে হবে, নারী প্রলয়ঙ্কারী ।

পৃথিবীর মহাবিপর্যয়ে তোমাকেই হাল ধরতে হবে
ফিরে আসতে হবে বিশ্ব মায়ের কোটি কোটি অবয়বে,
এই বৈষম্য, অশান্তি ও অবিচার, যুদ্ধ, অসাম্য বিলুপ্ত হবেই-
তোমার হাতে-তুমি যে নারী; অজস্র প্রাণের জন্মদাত্রী।



তুমি আসো লক্ষ্মী বাঈ থেকে তারামন বিবি হয়ে, তুমি মরিয়ম থেকে ফাতিমার বেশে, দুর্গা থেকে এথেনা হয়ে, তুমি আসো রোকেয়া থেকে তাওয়াক্কুল কারমেইনের বেশে
তুমি ফিরো আসো পৃথিবীতে প্রীতিলতা, ক্লিওপেত্রা, তুমি আফ্রিকার পশ্চিম তাড়ানো মহাবিপ্লবী নারী তাইতু বেতুল হও,
তুমি হও ব্রিটিশ ভীত কাঁপিয়ে দেয়া কান্দাহারের বটবৃক্ষ মালালাই, বঙ্গের সেতারা-ইলা মিত্র
তুমি আসো, এই অস্থিতিশীল পৃথিবীতে, আলেপ্পোয়, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া, ইয়েমেন, ইউক্রেন, ইরাক, ফার্গুসন, শ্রীনগর, আফ্রিকা থেকে আমেরিকা, সুমাত্রা থেকে কোরিয়া তোমাকে প্রয়োজন
তুমি আসো মহাখরা থেকে বাঁচাতে মানবতাকে মহাছায়ার পরম নির্ভরশীল এক বিশ্বস্ত আঁচল নিয়ে।

জাগো, হাতে নাও বিশ্বের চাবি
তোমার বিজয়, তোমার কীর্তি, তোমার স্তুতি, আজীবন রইবে জারি
তুমিই তো স্রষ্টা মনোনীত একমাত্র উপস্রষ্টা, তুমি যে মহিয়সী নারী ।

(২০১৫ এর ৮ মার্চ লিখিত। ২০১৭ সালে একটু সম্পাদনা করে আবার লিখলাম।)
পাঠ অনুভূতি