যতবার আমি লিখতে বসেছি রোমাঞ্চের ছবিটা,
প্রণয়ের বিচিত্রগাঁথা,বিচ্ছেদ,ভালো লাগা
ততবার তা হয়েছে একেকটি শ্রমিকের কবিতা।
এ সভ্যতা কার?এ অট্রালিকা,গাড়ি,বাড়ি ও বিলাসিতা?
এই দেশ কার?এ নগর,কারখানা,সমৃদ্ধি ও স্বাধীনতা?
হ্যাঁ,শ্রমিকের;মনে করোনা ক্ষণিকের।
বন্ধু,খোঁজ রাখোনা কার রক্ত ঘাম হয়ে ঝরে
মিষ্টি নদী প্রবাহিত হয় তোমার জীবন তরে।
ঐ যে পোশাক শ্রমিকের দল,ওরা তোমাদের বোকা
দিনরাত্রির খাটিয়ে ক টাকা দিয়ে দাও বড় ধোঁকা
আহারে শরীরে মাংশ যে নেই অপুষ্টিতে ভোগা
তোমাদের যে প্রাচুর্য এনে দেয় সেই শ্রমিকেরা রোগা ।
উঁচু বিশাল ভবনে তুমি মস্ত কর্মকর্তা
সেই রাজমিস্ত্রির খবর কে রাখে যে বানিয়েছে তা,
সারাদিন ভর দাঁড়িয়ে থাকা দ্বারওয়ান ছেলেটা
তার যেন নেই জীবন কোন তোমাদের সেবা ছাড়া
ঐ ড্রাইভার,বাসের মামা তোমাদের পার করে
গালি ছাড়া কভু দিয়েছো কি তারে ঘৃণা থেকে মাঝে সরে?
ইট ভাঙছে যে সুফিয়া পরিবার চালাতে
তার বুঝি নেই সাধ আহ্লাদ জড়াতে মালাতে
পথে পথে ঐ কাগজ কুড়ানো ছেলেমেয়েদের ঝোলায়
তোমাদের সব মানবাধীকার উপহাস করে দাপায়
তোমার ঘরের কাজের মেয়েটি সে ও কি নারী নয়?
তার প্রতি যে অবিচার করো নেই কি কোন ভয়?
হায়!শ্রমিকের জন্য গালগল্প করে ওঠো যার রিকশায়
তার খবর কি নিয়েছো কখনো কি না কি সে খায় !
হোটেলে মোটেলের বাচ্চা কিশোর তোমারে খাবার দেয়
মুরগীর রান সে কি চায়না ভেবেছো কি তার ন্যায়?
যতবার আমি লিখতে বসেছি কথিত প্রেমের কথা
ততবার সব শব্দ গেয়েছে যে কৃষকের কবিতা
তোমাদের পেটের অন্নদানা হাড়ভাঙা খাটা খেটে
ঐ যে চাষা ফলাচ্ছে কিভাবে দেখনি কখনো ঘেটে
সারের দাম কি তার নাগালে খোঁজ কি তোমরা নিয়েছো?
গোলটেবিলে বৈঠকে বসে সঙ কেন তবে সেজেছো?
তোমাদের যে মে দিবস আর যত বিচিত্র বাণী
সবই যে বিরাট ধান্ধাবাজি,জানি আমি সব জানি।
লাঙল কাঁধে,কোদাল হাতে বেরোলে শ্রমিকের দল
পার্টি ধ্বসাবে,না খেয়ে মরবি,বন্ধ হবে কল
হাতুড়ি হাতে যদি চলে আসে তোদের মুখোমুখি
কোন মুখে তোরা অস্ত্র হাতে করবি চোখাচোখি?
তোদের গায়ের ইউনিফর্ম থেকে অস্ত্র কেনার টাকা
সব কিছুতো শ্রমিকের দান,তাকাস কেন বাঁকা?
ঐ নীলাকাশ,ধূলির ধরা,বৃক্ষরাজি মরায়
সাম্যের গান গাইলেই শ্রমিক স্বর্গ নামবে ধরায় ।
ওহে কবি,তোমার নারীবাজী আর কতকাল চলবে,
শ্রমিকের তরে কাব্য কি এবার বইমেলাতে আসবে?
ওরে মিথ্যুক,রাজনীতিজীবী,নিয়ে শ্রমিকের প্রতীক
নির্বাচনে জিতেই তুই উড়াল দিলি সঠিক
ওরে ব্যবসায়ি,কত বড় গাড়ি বাড়ির মালিক তুমি
কতবার তুমি ভুলে যাও শ্রমিক তোমার জ্বালানি
সেই জ্বালানিরে জ্বালাইছো খুব এবার দাও ক্ষ্রান্ত
ভেঙেচুরে নাইলে শ্মশানের মত করে দেবে উদভ্রান্ত ।
যারে বেচে তোরা বেঁচে আছিস, ওরে পুঁজিবাদির দল
তারে না বাঁচালে মরবি তোরাও ইতিহাসে হবি খল
এখনো সময় আছে ফিরে আয় শ্রমিকের আঙিনায়
পৃথিবী টিকবে,মানুষ বাঁচবে,শান্তি ও সমতায় ।
(২০১৫ সালের ১ মে লিখিত)

0 Comments