সর্বশেষ

বিপ্লবী মুহাম্মদ (স): শ্রেষ্ঠ মানব কেন?

মানবতা ও সাম্যবাদী রাষ্ট্রনায়ক, দার্শনিক নবী মুহাম্মদ (স)

প্রাচ্যনিউজ ডেস্ক:


তিনি সাম্যবাদী,
প্রবল রুক্ষ-মূর্খ মরুর বুকে তিনি বলেছিলেন, অনারবের উপর আরবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি খোদাভীতি
তিনি বলেছিলেন, তুমি যা খাও ও পরো সেটাই খাওয়াতে হবে তোমাদের অধীনস্ত ব্যক্তিদের। তিনি সত্যের সমার্থক। তিনিই তো কৃষ্ণাঙ্গ কিংবা দাসদের নিয়ে অভিজাত সুবিধাভোগীদের শোষণকে চ্যালেঞ্জ করেন, তিনিইতো ঘোষণা করেছিলেন সমতা, সততা ও শান্তির। তিনিইতো বলেছিলে বলিষ্ঠ কণ্ঠে যে, আমি আল্লাহর মনোনীত বার্তাবাহক কিন্তু আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমিও একজন বান্দা-ই। তিনি গরীবের রক্তচোষা সুদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তিনি সম্পদের সমবণ্টনের জন্য যাকাত নামের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রবর্তক।

তিনি বিপ্লবী,
শোষকের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন গুটিকয়েক বঞ্চিত মানুষকে নিয়ে, রক্তাক্ত হয়েও ময়দান না ছেড়ে তিনি ছুঁড়ে ফেলেছিলেন অত্যাচারীদের ইতিহাসের নর্দমায়, তিনি বিনির্মাণ করেছিলেন মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব। তাঁর বিপ্লব শ্রমিকের বিপ্লব, তাঁর বিপ্লব দাসদাসীর অধিকার আদায়ের বিপ্লব, তাঁর বিপ্লব ভোগবাদীদের কবল থেকে নারীর মুক্তির বিপ্লব, তাঁর বিপ্লব পুঁজিবাদী আত্মকেন্দ্রীকদের গরীব-দুঃখীকে সম্পদের ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দেওয়ার বিপ্লব, তাঁর বিপ্লব মানুষ ও মানবতার বিজয়গাঁথা রচনার বিপ্লব। তিনি তা করেছিলেন। তিনি জালিমের গদিতে মজলুমের বিজয় নিশান পুঁতে দিয়েছিলেন।

তিনি নারীমুক্তির প্রথমপুরুষ
যিনি বলেছিলেন, যার প্রথম সন্তান কন্যা সেই তো ভাগ্যবান, তিনি নিষিদ্ধ করেছিলেন কবরে জীবীত পুঁতে ফেলা মায়ের জাতিকে
তিনিইতো বলেছিলেন, মায়ের মূল্য তিনগুণ বেশি পিতার চেয়ে, তিনিইতো বলেছিলেন, নারী ও পুরুষ একে অপরের ভূষণ।তিনি নারীর সত্যিকার বন্ধু। তিনি বলেছিলেন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। তিনি নিজের পাগড়ি বিছিয়ে বসতে দিতেন দুধ মাতাকে। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ বলেছেন আমাদের যে, তোমরা পিতামাতার উপর বিরক্ত হয়ে উঁহ আহ শব্দটিও করোনা।

তিনি সফলতম রাষ্ট্রনায়ক
সেই ১৪০০ বছর পূর্বেও যিনি সাম্যবাদী রাষ্ট্র গঠন করেছিলেন সর্বহারাদের নিয়ে, সেই রাষ্ট্রের ধর্মবর্ণগোত্র নির্বিশেষ নির্দ্বিধায় বাস করতো সুখে ও শান্তিতে। সেখানে কোন বৈষম্য ছিলনা, কোন লাঞ্ছনা ছিলনা, ছিল স্নিগ্ধ বণ্টণ প্রক্রিয়া, ছিল ভালবাসা। তাই মদিনার খ্রীস্টান, মূর্তিপূজারি, ইহুদীরা এক হয়ে তাঁর আগমনে হর্ষধ্বনি দিয়ে সমবেত কণ্ঠে গেয়েছিল:
তালাআল বাদরু আলাইনা…।

তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মানবতাবাদী
যিনি প্রচার করেছিলেন, যে বিনাকারণে কোন মানুষ হত্যা করলো, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করলো, আর যে একজন মানুষের জীবন বাঁচালো সে যেন সমগ্র মানবকুল বাঁচালো। এর চেয়ে মানবতাবাদী আহবান যুগে যুগে আর আসেনি, আসবেওনা। তিনি তো সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর জীবনব্যাপী কেবল আহত, রক্তাক্ত হয়েছেন সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্যই। তিনি তো সেই ব্যক্তি যার মাধ্যমে খোদা মানুষকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, যারা বিশ্বাস করেনা তাদের ভুল বিশ্বাস নিয়ে তোমরা গালি দিওনা, কারণ অজ্ঞতাবশত তারাও তবে আল্লাহকে গালি দেবে।

তিনি প্রাণি ও প্রকৃতিপ্রেমী
যিনি বলেছিলেন, যদি জানো কাল কিয়ামত তবে আজ একটি বৃক্ষ রোপন করে যেও, যিনি গাছের ডাল বা পাতা ছিঁড়তেও নিষেধ করেছেন অকারণে, যিনি পিঁপড়ার ব্যথার কথা ভেবেছেন, যিনি রাত জেগে কেঁদেছেন প্রতিটি প্রাণের মুক্তির জন্য।

তিনি শ্রেষ্ঠ বার্তাবাহক
যাঁর কথা বিশ্বের সবকটি ধর্মগ্রন্থে ভবিষ্যদ্বানী করা হয়েছে, যিনি আসবেন মানবজাতির শান্তি ও মুক্তির বাণী নিয়ে, যার জন্য প্রতিটি পয়গম্বর তার স্বজাতিকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। তিনিই তো বলেছিলেন, আমি তোমাদের মুক্তির জন্য হাশরের মাঠে দাঁড়াবো। তিনি না সৃষ্টি হলো কিছুই হতোনা সৃষ্টি। তিনি আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা।

তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক
যাঁর দর্শনে মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ নেই, যাঁর দর্শনে এক থালায় ভাত খেতে বাধ্য হয় অভিজাত ও দরিদ্র, যার দর্শন বাধ্য করে ক্ষমতাবানকে এক কাতারে ক্ষমতাহীনের পাশে এসে সিজদা দিয়ে নিজের অসহায়ত্ব ঘোষণা করতে, যাঁর দর্শনে মানুষের সেবা করাকে বলা হয়েছে খোদার সেবা করা। সে কারণেই তাঁকে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন বিশ্বপ্রতিপালক।

তিনি কে?
তিনি বিশ্বনবী, তিনি মরুময় আরব থেকে উঠে সমগ্র বিশ্বকে আলোড়িত করেছেন স্বীয় দ্যূতিতে, তিনি বঞ্চিত, অত্যাচারিত, অসহায়, বিশ্বাসহীনের আত্মিক, দৈহিক, জাগতিক ও পারলৌকিক মুক্তিদূত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি আরব্য দম্পতি আব্দুল্লাহ ও আমিনার পুত্র হয়েও পুরো জগতের মানুষের জন্য এসেছিলেন, ভেবেছেন। তিনি সকল মানুষের জন্য কেঁদেছেন। এ কারণেই তাঁর প্রতি ভালবাসায় সিক্ত কোটি কোটি মানুষ। এখনো মৃত্যুর প্রায় ২ হাজার বছর পরেও পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত মানুষ তিনি। তাঁর জন্ম ও ওফাত দিবসে তাঁর প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধার দরুদ পাঠ করছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। আসমান, জমিন, বৃক্ষ-প্রাণ ও মানবহৃদয় একত্রে গাইছে তাঁর আগমন ও প্রস্থানের মোহনীয়তা স্মরণ করে:

ইয়া নবী, সালামু আলাইকা… ইয়া রাসূল, সালামু আলাইকা… ইয়া হাবিব, সালামু আলাইকা…।

লেখক: মঈনুল রাকীব, উপসম্পাদক, প্রাচ্যনিউজ ডটকম।

পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments