সর্বশেষ

সাক্ষাৎকার || সাক্ষাতকার || কৌশল || কী কেন || What is Interview? Details

#সাক্ষাৎকার 


#সাক্ষাৎকার 
একটি সংবাদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়ের একটি হচ্ছে সাক্ষাৎকার। ঘটনা সংশ্লিষ্ট এক বা একাধিক ব্যক্তির মন্তব্য সংগ্রহ করাকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ বলে। যে ব্যক্তি সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন তিনি সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী আর যে ব্যক্তি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন তিনি সাক্ষাৎকারদাতা।

আবার অনেক সময়, কেবল প্রসিদ্ধ, পরিচিত জনব্যক্তিত্ব যেমন, রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড়, অভিনেতা, শিল্পী, গায়ক, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, সফল ব্যক্তির জীবনের গল্পগুলো তুলে আনতে তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের জীবনের চিত্র তুলে আনা হয় তাও সাক্ষাৎকার। 

তবে অনেক সাধারণ মানুষ যেমন, একজন ভিক্ষুক, কিংবা একজন পতিতা বা একজন বেকার যুবক বা একজন কৃষকের সাক্ষাৎকারও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আধুনিক সাংবাদিকতায় সাক্ষাৎকার আবশ্যক বিষয়। একটি প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার তথা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বা মন্তব্য না থাকলে সেই প্রতিবেদন সম্পূর্ণরূপে অসম্পূর্ণ একটি প্রতিবেদন হিসেবে পরিগনিত হতে পারে ; গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে। সে কারণে সংবাদ করার সময় বিভিন্ন তথ্য, ছবি সংগ্রহের পাশাপাশি সাক্ষাৎকারও গ্রহণ করা আবশ্যক। এসব সাক্ষাৎকারে প্রাপ্ত তথ্য সরাসরি সংবাদ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে, আবার কোনো সংবাদের একটি বিশেষ অংশ হতে পারে।

সাক্ষাৎকার সাধারণত নিচের কয়েকটি উপায়ে গ্রহণ করা যায়।

১। সরাসরি সাক্ষাৎ করে
২। টেলিফোন বা মোবাইল টেলিফোনের মাধ্যমে
৩। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে
৪। ইমেইলে প্রশ্ন পাঠিয়ে দিয়ে
৫। ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা আদান-প্রদান বা কল করে
৬। হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ভাইবার, স্কাইপ, জুম, লাইন ইত্যাদি ভিডিও ও অডিও কলিং এপের মাধ্যমে কল করে
৭। ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে বা ফোনে কথা বলে প্রশ্ন জানিয়ে রেখে বা দিয়ে পরে এসে সংগ্রহ করা ইত্যাদি।

সাক্ষাৎকার গ্রহণের পূর্ব প্রস্তুতি 

একজন প্রতিবেদক যখন সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে যাবে তখন তাকে খুবই সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। যদি সরাসরি কথা বলতে হয় তবে মার্জিত পোশাক পরে, চুল আঁচড়িয়ে, পরিচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া উচিত যাতে করে প্রথম দর্শনেই নেতিবাচক অবয়ব না দাঁড়ায়।

এরপর কৌশলগত সকল প্রস্তুতি নিতে হবে। রেকর্ডার বা ক্যামেরা সঙ্গে নিতে হবে। তবে সাক্ষাৎকারদাতাকে সন্তুষ্ট করতে রেকর্ডিং এর পাশাপাশি হাতে ডায়েরি নিয়ে কলম দিয়ে বিশেষ পয়েন্ট লেখা যেতে পারে। সংবেদনশীল তথ্যের ব্যাপার থাকলে মোবাইল ফোনের রেকর্ডিং বাটন হিডেন বা গোপনীয় উপায়ে আগেই প্রস্তুত রাখতে হবে। 

যদি ভিডিও কলে কথা বলেন সেক্ষেত্রে নোট নেয়ার পাশাপাশি ভিডিও কলটি রেকর্ড করে রাখতে হবে। রেকর্ডের আগেই সাক্ষাৎকারদাতাকে বিনীতভাবে জানাতে হবে যে, "তথ্য সংগ্রহের সুবিধার্তে আমি আপনার বক্তব্যটি রেকর্ড করছি"। যদি এমন মনে হয় যে রেকর্ড করছেন এটি বললে সে আর তথ্য দেবেনা তবে গোপন করতে পারেন রেকর্ডের বিষয়টি।

মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় অবশ্যই মোবাইল ফোন কল রেকর্ডার চালু রাখবেন। এতে করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন বাদ যাবেনা তেমনই আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলারও সুযোগ কেউ পাবেনা।

ইমেইলে সাক্ষাৎকার বা ইন্টারভিউ নেয়ার সময় উপরে কেন এই সাক্ষাৎকারটি প্রদান করলে সাক্ষাৎকারদাতার জন্য ইতিবাচক ভাবমূর্তি আসতে পারে এটি উল্লেখ করা যেতে পারে। এ ছাড়া কোনো সংবেদনশীল তথ্য চাইলে তার যৌক্তিকতা ও গোপনীয়তার ব্যাপারে কঠোরতার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

সাক্ষাৎকার নেয়ার আগে সময় নিতে হবে। যে সময়টিতে তিনি অবসর থাকবেন সে সময়ে যাওয়া উচিত। অবশ্যই মনমতো যাওয়া বা যেকোনো সময় কল করার, টেক্সট করার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। খাওয়ার ও ঘুমানোর সময় কল করছেন কী না তা মনে রাখবেন। 

সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় 

অবশ্যই সাক্ষাৎকারদাতার চোখে চোখ রেখে সাক্ষাৎকার নিবেন। কিছুতেই যেন তিনি আপনি তার কথা শুনছেন না এটি যেন বুঝতে না পারেন। তাহলে আপনার প্রতি বিরক্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান থেকে তিনি বিরত থাকতে পারেন। আবার সাক্ষাৎকারের শুরুতেই বিব্রতকর প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন। আগে একটু খোশগল্প বা এমন বিষয় যা তিনি পছন্দ করেন তা নিয়ে আলাপ করুন। তারপর একটু কঠিন প্রশ্নে যান। তাতে হচকচিয়ে গেলে আবার তাকে সহজ করে নিন খোশগল্প বা সহজ প্রশ্ন করে। এ পদ্ধতিটি 
ই-নে-ই এই সহজ শব্দে মনে রাখুন। ইতিবাচক-নেতিবাচক-ইতিবাচক। এভাবে চক্রাকারে ঘুরে আসুক প্রশ্ন। 

সাক্ষাৎকারের মধ্যে বাঁহাত দেয়া থেকে বিরত থাকুন। যতক্ষণ তিনি বলতে চান বলতে দিন। আপনি স্টুডিওতে তাকে চ্যালেঞ্জ করছেন না, আপনার প্রয়োজনে তার তথ্য প্রয়োজন; এটি মাথায় রাখবেন। যথেষ্ট সময় হাতে নিয়ে যাবেন। 

সাক্ষাৎকারের পর

সাক্ষাৎকারের পর যথাযথ সম্বোধন করে ফিরে আসবেন। পারলে তাকে জানিয়ে আসবেন কবে বা কোন সময়ে প্রচার হবে তার বক্তব্য। তার সঙ্গে ছবি তুলতে পারেন। সেলফি তুলে তার সঙ্গে ফেসবুকে যুক্ত হতে পারেন যাতে করে পরবর্তীতে আরো সহজে তাকে পেতে পারেন। 

সাক্ষাৎকারদাতা অপরাধী হলে তাকে আশ্বস্ত করে আসবেন যে তার বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ নয়, মূল ব্যক্তব্যই প্রচারিত হবে। সাক্ষাৎকারদাতার নিকট হতে কোনো ধরনের অর্থ, উপহার, টিকেট ইত্যাদি নেয়া যাবেনা। মনে রাখবেন, আপনাকে একবার উপহারের ছলেও কিছু নেয়াতে পারলেই আপনিও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়লেন।

নৈতিকতা 
সাক্ষাৎকার গ্রহণ করার পর সংবাদ বা প্রতিবেদনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অংশ সংবাদে সন্নিবেশ বা সংযোজিত করতে হবে, সাক্ষাৎকার প্রদানকারীকে ইচ্ছা করে হেয় করতে কোনো বিশেষ অংশ বাছাই করা যাবেনা। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে হবে। অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয়ের বক্তব্যকে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করতে হবে। তা না হলে সংবাদের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পক্ষপাতদোষে দুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। 

পত্রিকা বা অনলাইন পত্রিকায় এমন কিছু প্রকাশ করা যাবেনা যা সাক্ষাৎকারে বলেনি। আবার অডিও বা ভিডিও সাক্ষাৎকার থেকে এমন অংশ কেটে প্রচার করা যাবেনা যার আগে এমন কিছু রয়েছে যেটি প্রচারিত তথ্যের সাপেক্ষে প্রচার অত্যাবশ্যক। 

আর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অবশ্যই সাক্ষাৎকার প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখতে হবে। আবার যখন পরিচয় প্রদান জরুরি তখন নির্ভুলভাবে শুদ্ধ পরিচয় প্রদান করতে হবে।

এসব বিষয়ে নজর রাখলে সাক্ষাৎকারগ্রহণপূর্বক একটি ভালো প্রতিবেদন তৈরি করতে সক্ষম হবেন বলে আশা করা যায়।

আজকে বিদায়। সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম ও গণযোগাযোগ বিষয়ে কোন কিছু জানতে চাইলে কমেন্ট করুন। প্রিয়জন ও বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। 

ছবি/পার্সটুডে বাংলা
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments