সর্বশেষ

বাংলাদেশে ইসলাম || কট্টরপন্থী কাঠমোল্লা-মুন্সিদের অসহিষ্ণু বয়ান

এদেশের মোল্লা-মুন্সিদের মধ্যে এতো কঠোরতা চলে এসেছে যা আমাদের সমাজে অসহিষ্ণুতা ছড়াচ্ছে। এই বঙ্গে ইসলাম কঠোরতা ও ভীতির মাধ্যমে আসেনি। তুর্কি বীর ইখতিয়ার নদীয়া বিজয়ের পর এখানকার নমঃশুদ্র, বৌদ্ধ ও সাঁওতাল, কোল, মুণ্ডা প্রভৃতি আদিবাসী ইসলামের সাম্যবাদী রূপ দেখে এ ধর্মে দীক্ষিত হয়। সূফিবাদকেন্দ্রীক নরম-উষ্ণ সে ইসলাম। অনেক ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুও এতে আকৃষ্ট হয়ে এ নতুন ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। 

এ উপমহাদেশে ইসলাম গলাবাজি করে, কঠোর কথা বলে, অন্য ধর্মকে ছোট করে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইসলাম সাম্য ও ইনসাফের ধর্ম। শান্তির বার্তা নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা পায় এ ধর্ম। 

আমরা ছোটবেলায় নবী মোহাম্মদ (স) এর উপর দরুদ পড়েছি। "ইয়া নবী সালামু আলাইকা" পড়েছি, বালাগাল উলা বিকামালিহি পাঠ করেছি, ইমাম সুরেলা কণ্ঠে গেয়েছেন "তুমি যে নূরের রবি, নিখিলের ধ্যানের ছবি" ইত্যাদি। আর আজকে তা কট্টর মোল্লাদের চোখে বিদায়াত। এই মোল্লা বলে বিদায়াত, সেই মোল্লা বলে জায়েজ, এই মোল্লা বিদায়াত, সেই মোল্লা হারাম---এভাবে ইসলামকে একটি কঠোর জীবনবিধান হিসেবে এরা আমাদের সামনে নিয়ে আসে। ফলে ইসলাম যে দিল নরম করে সেটি আর হচ্ছেনা। ফাতিহার সিরাতুল মুস্তাকিমকে এই কট্টর বিশ্লেষণশক্তিহীনরা কঠোর বানিয়ে তুলছে। 

এরা যদি ১২০৪ সালে এই বাংলায় প্রচারে নামতো তবে এই বাংলার হিন্দু-বৌদ্ধ ঝাঁকে ঝাঁকে ইসলামের উষ্ণ ছায়ায় আসতো কি? এদের ফালতু হুংকার আর অনুৎপাদনশীল পরনির্ভর জীবন ও কঠিন কথাবার্তা ইসলামের ব্যাপারে নেতিবাচক "ভাবমূর্তি" দাঁড় করাতো। এই যে সাকিব আল হাসানকে এক গোঁয়ার খুন করতে চাইলো এরা এই কট্টরপন্থী, লেখাপড়াহীন মুন্সিদের মনগড়া ফতোয়া ও তীব্র কঠোর মতাদর্শ প্রচারের ফলে জন্ম নেয়। আমি দেখেছি কীভাবে খুব কোমল-প্রাণ একজন মানুষ এদের ভুলভাল ব্যাখ্যায় প্রচলিত জীবনে কঠোর হিসেবে আবির্ভূত হয়। 

এরা আমাদের লোকায়ত জীবনাচারকে বিদায়াত বলে নাকচ করবে, তাকে ডিমোনাইজড করবে কিন্তু নিজেদের "চেয়ে বেড়ানো" কে বিদায়াত বলবেনা, নিজেদের উচ্চস্বরে মাইক বাজানোকে বিদায়াত বলবেনা, হারাম উপার্জনের দান-খয়রাতকে ফেরত দেবেনা, কোরআন পড়িয়ে-নামাজ পড়িয়ে অর্থ নেওয়াকে বিদায়াত বলবেনা, অন্যের হক্ব নষ্ট করে দেয়াকে এরা হারাম বা মহাপাপ বলবেনা, নিজেরা একে অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা রটালেও তাকে গীবত বলবেনা, গণতন্ত্রকে হারাম বললেও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিতদের নিকট হতে অর্থ ও ক্ষমতার সুবিধা না নিতে ফতোয়া দিবেনা, কওমে লূতের জঘন্য অপকর্ম এদের আচ্ছন্ন করলেও তা নিয়ে মুখ খুলবেনা; আরো অনেক কিছুতে এরা নীরব থেকে নিজেদের আখের গোছাবে।

আর যত ফতোয়া কেবল সাধারণ মানুষের ব্যাপারে। আমি বলছিনা সব মুন্সি এমন। এখনো অনেক কোমলপ্রাণ চমৎকার আখলাকের মুন্সি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি তাবলীগের ভাইদের অমায়িক ব্যবহার দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছেন অনেকে। 

কিন্তু নিজ ধর্মের সাধারণ মানুষের লোকাচার ও অন্য ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি আঘাত করে তাদের কাছে যাওয়া যাবেনা। মানুষকে, তার বিশ্বাসকে সম্মান করতে হয় তার মন পেতে হলে। তারপর যুক্তি, উপাত্ত দিয়ে দেখাতে হয় কেন তার বিশ্বাসটি বদলালে তার নিজেরই উপকার হবে। এটি মহানবী (স) এর দেখানো পথ বা তরীকা। 

মুহাম্মদ (স) বাহাস করতেন মন্দির-গীর্জায়-সিনেগগে গিয়ে। তাদেরকে সত্যের পথে উত্তম ব্যবহার ও মান্তেক বা যুক্তি দিয়ে আহবান করতেন।

সেই পথে না এলে এই কট্টর মোল্লা-মুন্সিরা নিজেদের পাশাপাশি ইসলামকেও বিতর্কিত করবে। তাদের সে সুযোগ দেয়া উচিত হবেনা। এদেরকে প্রতিহত করতে হবে সামাজিকভাবে। এরা হারাম-হালাল আয়ে ফোকাস করুক----দেখি কতটুকু ঈমান আছে। ঘোষণা দিক---হারাম আয়ের দান খয়রাত গ্রহণ করা হবেনা।

তা পারবেন মোল্লা-মুন্সিগণ?
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments