সর্বশেষ

ইসলামের শত্রু কট্টরপন্থী কাঠমোল্লারা কেন?


এদেশের চরোমানাই-ছরছিনা-হাঠাজারি-আলীয়া-মৌদুদিবাদী-ঘোপেরডাঙ্গা-আটরশী-ফুরফুরা-লালবাগ-রাহমানিয়া-তামিরুল-মারকাজুল-আহলে হাদিস-কওমী প্রমুখদের অধিকাংশরাই সৌদি ওহাবী খারেজী সংকীর্ণ মতবাদ বিশ্বাস করে। এদের ধ্বংসাত্মক ওহাব-তাইমিয়া মতাদর্শ ইসলামের শান্তিবাদী প্লুরালিস্ট রূপে বিশ্বাস করেনা। এরা নিজেদের বিশ্বাসকে শ্রেষ্ঠ ভেবে অন্যদের উপর তাকফির করতে এক মিনিট সময় নেয়না। মানে ত্যাঁনা পেঁচিয়ে ওহাব-তাইমিয়া-দেওবন্দি ফতোয়া দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে আপনাকে ইসলাম থেকে খারিজ করে আপনার রক্তপাত এরা হালাল করে নেবে। 

এরাই শিয়াদের অমুসলিম বলবে তারা নবী করিম স ও তাঁর পরিবারকে ভালোবাসে বলে। অথচ "সামষ্টিক তাকফির" কোনো হাদিসে নেই। কোরআনে তো নেইই। এদের পূর্বপুরুষ মক্কা ও মদিনার শত শত সাহাবি (রা) এর কবর গুঁড়িয়ে দিয়েছিলো। হাজার হাজার ইসলামী ঐতিহ্য ভেঙে চূরমার করেছিলো "সহীহ ইসলামের" নামে ওহাবী চ্যাঁলারা অথচ এই বদমায়েশদের গুরু ওহাব ও আল সৌদ ব্রিটিশদের নির্লজ্জ দালালী করে মুসলিমদের খেলাফত পর্যন্ত ভেঙে দেয়! 

উপমহাদেশের ইতিহাস দেখেন। মুসলমানদের পিছিয়ে দিতে ইংরেজি না শেখার ভুলভাবে ফতোয়া দিয়েছে, মৌলিক ইবাদত থেকে অর্থ খেয়েছে আর অনুৎপাদনশীল ইউরোপীয় স্টাইলের ক্লেরিক সিস্টেম রেখেছে। মানে ফতোয়ার বিনিময়ে খাদ্য, যেটি ইহুদী রাবাই আর খ্রীস্টান পাদ্রিরা করতো। 

ইসলাম কায়িক শ্রমে বিশ্বাসী ধর্ম। এর নবী (স) ছাগল চরিয়েছেন জীবীকার জন্য, এক নারীর ব্যবসার দেখাশোনা করেছেন আয়-উপার্জনের জন্য। এইখানে ভুঁড়ি নামিয়ে পরের দান-খয়রাত খেয়ে চলার স্থান নেই। ইংরেজি শিখতে নিরুৎসাহিত করে ইংরেজি শব্দ কালেকশননির্ভরতা সম্পূর্ণ অনৈসলামিক কার্যক্রম।

ইসলাম শ্রমিক ও শ্রমের মূল্য দেয়, সাম্যবাদ প্রচার করে৷ খ্রীস্টানদের মত পাদ্রীর কাছে গিয়ে মাফ চাওয়া ইসলামে নাই। ইসলামে আল্লাহই সর্বজ্ঞ, একমাত্র আরাধ্য। খাঁটি ইসলামে " মুন্সি মওলানাদের দোষ ত্রুটি ধরতে নাই। তাদের বিচার কিয়ামতের মাঠে পর্দার আড়ালে হবে" এই অসাম্যের কোন স্থান নাই। এখানে আমির আর ফকির এক কাতারে নামাজ পড়ে সিজদা দিয়ে আল্লাহর কাছে সমান ছোট হিসেবে হাজিরা দেয়। নবী স বলছেন, ইসলামে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড আল্লাহভীতি। কে কত বড় চিল্লানি দিতে পারো, কে কত ফতোয়া দিতে পারো, কার কত বেশি হাদিয়া আসে, কার মুরিদ বেশি এসব দিয়ে ইসলাম চলেনা। ইন্ডিড, এর কোনো গুরুত্বই নাই ইসলামে। পাশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান-নাস্তিক-মুসলিম-গরীব-হিজড়া প্রতিবেশী না খেয়ে থাকলো আর আপনি ভুঁড়ি ভরে হাদিয়া খেয়ে "আল্লাহুম্মা বিছমিকা..." পড়ে নাক ডাকলেন, আপনার এই ইবাদত ইসলামে মূল্যহীন।

ইসলামের এই সাম্যবাদী রূপকে ধ্বংস করছে গণ্ডমূর্খ কিছু মুন্সি৷ এরা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের কথিত পুরোহিত-পাদ্রী-রাবাই যেমন ধর্মব্যবসা করেছে তেমন বা তারচেয়ে অধিক বেশি বেচাকেনা করছে ধর্মকে। মাওলানা মানে আমাদের প্রভু! ভাবা যায়? নবী মুহাম্মদ (স) এদের ব্যাপারেই কি বলেছিলেন,"শেষ জামানায় আসমান ও জমিনের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট হবে 'আলেম' পরিচয়ধারীরা"?

সমাজে খোঁজ নিন। প্রত্যেক অত্যাচারীর সপক্ষে এরা আছে। হারাম আয় যে করে তার অর্থের পাশে এরা আছে তার দান গ্রহণ করে তাকে রিলিজিয়াস পানিশমেন্টের ইন্ডেমনিটি দিতে। বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকা যারা আয় করে এরা মাদরাসায় দান করে তা কথিত 'সাদা' করে আর এই জাহেল মুন্সি মাওলানা তাদের ফিরিয়ে না দিয়ে গ্রহণ করে! অথচ হারাম আয় ও হারাম খাদ্য ইবাদত কবুল হওয়ার অভেদ্য দেয়াল। মুন্সিরা তা বলে? চোর-বাটপার-ঘুষখোর-সুদখোর-দুর্নীতিবাজ-দখলদার-পাচারকারীদের দান যে আল্লাহর দরবারে কবুল হবেনা তা মুখের উপর বলে দেয়?

এরা যে কীভাবে শিমরের মত টর্চার করে বাচ্চা-কিশোর ছাত্রদের তা যে কোনো বিবেকসম্পন্ন মানুষকে কষ্ট দেবে। আরবী শেখার এই বর্বরতাপূর্ণ আচার ইসলাম-সম্মত নয়। ইসলাম শিশুদের স্নেহ করতে বলে, অবুঝকে সময় নিয়ে আখলাকের সহিত বোঝাতে বলে। খচ্চরের মত ছাত্রদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জোর করে ইসলামী নিয়ম শেখানো কবে নবী স্বীকৃতি দিয়েছেন? এক অন্ধকে সময় দেননি, কম গুরুত্ব দিয়েছেন বলে নবী মুহাম্মদ (স) কে-ই আল্লাহ শাসিয়েছেন। সেই ধর্মে অমানুষের মত এই মারামারি ধর্মের নামেই চলছে! নজরুল লিখেছিলেন তার 'মানুষ' কবিতায় এই ভজনালয়ের ভণ্ড ধ্বজাধারীদের নিয়ে।

কওমে লূতের মহাপাপাচার খবিশগিরি যুগের পর যুগ এরা গোপনে করেছে। যখন প্রকাশ হওয়া শুরু করলো তখনো এরা এর শাস্তির দাবি করেনা। এরা জাহেলের উপর জাহেল। এরা আছে স্থাপত্য নিয়ে। অথচ পকেটে ফোন, তাতে ছবি আর ভিডিও। এমন কি ওয়াজ মাহফিল ও গজল দিয়ে এরা ইন্টারনেট ভরে রেখেছে। তাদের ছবির প্রাণ তারা দেয়না কেন?

মূর্খের দল কিছু জাল হাদিস অথবা বাস্তবতাহীন ফতোয়া এনে ইসলামকে আধুনিক পৃথিবীর কাছে তামাশা করছে। এদের জ্ঞান দাও প্রভু। জ্ঞানের অযোগ্য হলে আইয়ামে জাহেলি যুগের জাহেলদের মত অপদস্থ করো। 

দেখেন, মুসলিম প্রধান বিভিন্ন দেশে অনেক স্থাপত্য আছে। খোলাফায়ে রাশেদিন থেকে তা অক্ষত। কিন্তু যেইনা ইবনে ওহাব আর তাইমিয়ার গোঁয়ারতুমি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে ছড়িয়ে পড়লো সেই এইসব স্থাপত্যবিরোধী ফতোয়াবাজি শুরু হইলো। কারণ এই এজিদের জাত দেখলো মুসলিমরা মহানবী স এর সাহাবি ও আহলে বায়াতের কবরের কাছে গিয়ে রোনাজারি করে, হোসেনের বিপ্লব তাঁদের মনে পড়ে। আর হোসেনের আলাপ আসলেই উমাইয়া অপকর্ম ও তৎপরবর্তীকালে ইয়াজিদের মতই ওহাব-আল সৌদের অনুসারীদের মক্কা-মদিনায় তাণ্ডব ভেসে ওঠে। তাই উঁচু কবর গুঁড়িয়ে দেয়ার নামে এই বাতিল ওহাবীরা কত যে স্থাপত্য ভেঙেছে হেজাজ ও অন্যান্য আরব ভূখণ্ডে!

এই ওহাবের মতাদর্শে বিশ্বাসী তাক্কফিরি সন্ত্রাসী আইএস, আল কায়েদা, নুসরা এসব সন্ত্রাসীরা তাদের আমেরিকান প্রভুদের নিয়ে সিরিয়া ইরাকের হাজার বছরের পুরোনো বহু সভ্যতার নিদর্শন ভেঙেছে। অথচ চার খলিফা, এমন কী উমাইয়া-আব্বাসিয়-ফাতেমী-উসমানি কোন শাসকই এসব ভাঙেনি। 

এত্ত বছর পরে এসে গোঁড়া তাইমিয়া আর ওহাব-সৌদ গংয়ের অন্ধ অনুসারীরা ইসলামকে একটি কট্টর ধর্মীয় রূপ দিয়েছে। এদের কট্টর স্বার্থবাদী ধর্ম আর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স) এর কাছে অবতীর্ণ আল্লাহর  "সিরাতুল মুস্তাকিম" এর মধ্যে বহু পার্থক্য।

বাংলাদেশের কওমী, মৌদুদী,আহলে হাদিস, দেওবন্দী এরা সবাই কম বেশি ইবনে তাইমিয়া আর  ইবনে ওহাবের মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত। এদের সিলেবাস ও পুস্তক ঘাটলেই তাই পাওয়া যাবে। সেই শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্বের সময় জেতার জন্য মনগড়া অভিমত দিছে আর এই সর্বাধুনিক যুগে এসে সেই গোঁড়ামি কেউ কেউ বিশ্বাস করছে। তাইমিয়া ওহাবের ফতোয়ায় সর্বনাশা ইহুদী জাতিও শিয়াদের চেয়ে উত্তম! আইএস-আলকায়েদা শিয়া মুসলমানদের উপর গণহত্যা চালাতে এই দুই কট্টর ক্লেরিকের ফতোয়াকে ভিত্তি ধরেছে। আর এদের বই-পুস্তক দেওবন্দী মাদারাসায় বাধ্যতামূলক পড়তে হয়! ওহাব-আল সৌদ যেমন শিল্প-সাহিত্য-স্থাপত্য-নারী বিরোধী, বাংলাদেশের দেওবন্দী-কওমীও তার কম নয়।

দেওবন্দের ইফতা বিভাগের কিছু ফতোয়া দেখে মনে হয় এই বোধে খাটো অনাধুনিকগোষ্ঠী কীভাবে আমাদের উপমহাদেশে ফতোয়াবাজির নেতৃত্ব দিচ্ছে! এই দেওবন্দই ''ইংরেজি শেখা হারাম" এই মূর্খ ফতোয়া দিয়েছিলো। এই একবিংশ শতাব্দিতে এরা এখন ফতোয়া দিচ্ছে "ছবি তোলা হারাম" অথচ ভারত জুড়ে মুসলমানদের উপর কট্টর মৌলবাদী হিন্দুদের অত্যাচার নিয়ে,কাশ্মীর নিয়ে, রোহিঙ্গা নিয়ে এদের অবস্থান নাই। এই জায়গা এসে আরএসএস, দেওবন্দী আর বাংলাদেশের জামাতি-কওমী এক হয়ে যায়। এরা আছে কেবল কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হার্ডলাইনে যেতে৷ 

এই যুগে যারা টিভি দেখা হারাম বলে, যারা ছবি তোলা,ইন্টারনেটকে হারাম বলে ---এদের চেয়ে ইসলামবিরোধী আর কেউ নাই। কারণ, ইসলাম সর্বযুগোপযোগী ধর্ম। এদের বয়ান শুনলে মনে হবে ইসলাম বুঝি এই কালের জন্য বেমানান। অথচ এই কবিতাবিরোধীরা জানেনা সাবিতের কবিতায় মুগ্ধ হয়েছেন মুহাম্মদ স, পুরো কোরআনই শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, এরা জানেইনা যে,  হাজরে আসওয়াদের আর্ট ও এইস্থেটিক গুরুত্ব কতটুকু। এরা অবুঝ!

ভাস্কর্য বা স্থাপত্য ইস্যুতে এমন চিৎকার না করে এরা যদি দেশ জুড়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ডাক দিতো সেটি হতো উত্তম কাজ। টাকায় এরা ছবি দেখেনা? সেই টাকা কীভাবে পায়জামায় গুঁজে কেউ দিলেই? সৌদি দিনারেও তো আল সৌদ তাকফিরি খারেজির ছবি৷ তখন টাকা বা দিনার বা ডলার বয়কট কেন করেনা?

 এখন এরা গোটা বিশ্বের কাছে ফের ইসলামকে অসহিষ্ণু রূপে নিয়ে আসবে। অথচ ইসলাম যুক্তির ধর্ম, মান্তেক এখানে প্রাধান্য পায়। ইসলাম বাহাস বা তর্ক করে তৎকালীন সময়ের সেরা মতবাদকে হারিয়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ইসলাম কঠোর হলে পৃথিবীর সর্বত্র যেতে পারতোনা। কঠোরতা যারা করে তারা হারিয়ে যায়।

১২০৪ সালে তুর্কিদের বীরত্ব নয়, ইসলামের সুমহান সাম্যের বাণী দেখে ব্রাহ্মণ্যবাদী সেনদের অত্যাচার থেকে ইসলামের ছায়াতলে আমরা এসেছিলাম। আজকের এই চিৎকার করা "ওরে বাটপারগুলো" সে সময় থাকলে ইসলাম প্রচার হতোনা৷ এদের ঘৃণা, মিথ্যাচার, বিভাজন আর হারাম আয় ও আচার ইসলাম সমর্থন করেনা। ইসলাম কোমল, ইসলাম প্রশান্তি, ইসলাম মুক্তি।

 ইসলামকে কঠোর করতে চায় যারা ওদের ব্যাপারে সাবধান হোন। কথায় কথায় যারা অন্যের ঈমান নেই ইত্যাদি বলে তাদের জ্ঞান দাও প্রভু। এরা আইএস-আল কায়েদার মত জঘন্য কঠোরতা দিয়ে ইসলামের শান্তিপূর্ণ রূপকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে৷ এদের কঠোরতা থেকে কোমল ইসলামকে রক্ষা করো প্রভু।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments