সলিমুল্লাহ খান - Salimullah খান মাদরাসার মুন্সির জ্ঞান আর যুক্তির সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন টিকবেনা জাতীয় ফালতু কথা বলেও বাহবা পাচ্ছেন। বর্তমান মাদরাসার অনগ্রসরতাকেও গ্লোরিফাই করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন। অথচ মুন্সিরা যে ইলম চর্চা করে তা ভীষণ সংকীর্ণ। তার ব্যাপ্তি অনেক কম। এক দুইজন মুন্সি ব্যতিক্রম, বেশিরভাগের ইন্টারপ্রেটেনশন ক্যাপাবিলিটি তাক্বলিদ্ভিত্তিক। হ্যাঁ, সলিমুল্লাহ খান - Salimullah Khan এর আশেপাশে প্রচুর অযোগ্য শিক্ষক রয়েছেন এটা সত্য। তাদের সঙ্গে তুলনা করলে ঠিক আছে। কিন্তু ইন জেনারেল খাঁ সাহেব বর্তমান সময়ের মাদরাসা শিক্ষাকে ভুলভাল পাঠ করে আমাদের খাওয়াতে চাচ্ছেন। কীভাবে? চলুন বিস্তারিত আলাপ করি।
"ইলম শিক্ষা করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ"
-আল হাদিস
হাদিসটিতে বলা হয়েছে ইলম মানে জ্ঞান। মাদরাসার মুন্সিরা যে ইবনে তাইমিয়া, হাম্বলি বা ওহাবের গোঁড়া কট্টর ব্যাখ্যা পড়ে শুধু সেই জ্ঞানই নয়, আল জাবির, আল হাসান, খোয়ারিজমি, ইবনে সিনা প্রমুখদের যুগান্তকারী বিজ্ঞানেরও জ্ঞান এই "ইলম"। ইলম নিউটনের সূত্র, পীথাগোরাসের উপপাদ্য, সক্রেটিসের নিজেকে জানা আর নিজামুদ্দিন-গাজ্জালির সূফি দর্শনও।
ইলম থেকে উদ্ভূত শব্দ " আলিম"---জ্ঞানী। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের উচ্চারণে "আলেম"।
লোক দেখানো পরিমণ্ডলে আলিম শব্দটিকে সংকীর্ণ "মাদরাসায় পড়া ছাত্র/মওলানা/ক্বারী/হাফেজ/মুফতি" অর্থে ব্যবহৃত হওয়া যুক্তি, তথ্য, উদাহরণ, উপাত্ত, বিতর্ক দ্বারা প্রচারিত ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া ধর্মটির জন্য একটি সংকট।
কারণ, এই ইসলামের আসমানী কিতাবে ইতিহাস আছে, দর্শন আছে, যুক্তিবিদ্যা আছে, গণিত, সমাজবিজ্ঞান, আইন, সাংবাদিকতা, ব্যবস্থাপনা, জ্যোতিষশাস্ত্র, জলবিজ্ঞান, অর্থনীতি আর কাব্য ইত্যাদি আছে। অর্থাৎ জ্ঞানের প্রতিটি আদি মৌলিক শাখার সন্নিবেশ এখানে। আর এই ধর্মকে কেবল চাট্টিখানি ফতোয়ার কিতানে বন্দি করে রাখা চলছে! এটা ইসলামের উপর জাহেলদের দ্বারা জুলুম।
ইসলামের যে সোনালি যুগ সেখানে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চাকে ইবাদত হিসেবেই নিয়েছিল ইবনে সিনা প্রমুখ। আব্বাসীয়দের বাগদাদে ইউরোপ থেকে পড়তে যেতো উচ্চ শিক্ষিত হতে। পারস্যে যেত জ্ঞান শিখতে। মিশরের আল আজহারে শিখতে আসতো পশ্চিমারা। ইউরোপের যে কথিত রেনেসাঁ যা গলধঃকরণ করে বাংলাদেশের অনেকে ইসলাম ও প্রাচ্যকে খাটো করে তার পুরোটা এসেছে মুসলিম মণীষীদের লেখনী ও জ্ঞানের আলো থেকে। সে সময় আরবীতে লেখা গণিত, দর্শন, ভূগোল, যুক্তিবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসাশাস্ত্র ইত্যাদি বই ল্যাটিন, গ্রীক, ইংরেজিতে রূপান্তর করে পড়ে জ্ঞান লাভ করতো ইউরোপ।
আপনি জানেন কি মধ্যযুগের কয়েকশ বছর গোটা পৃথিবীর সাধারণ ভাষা বা লিংগুয়াফ্রাংকা বা কমন ল্যাংগুয়েজ ছিলো মূলত আরবী ও ফার্সি? অর্থাৎ আজ যেমন, চাকরি পেতে আর জ্ঞান শিখতে আপনি ইংরেজি শেখেন তেমনই মধ্যযুগে চাকরী পেতে ও জ্ঞানী হতে ইউরোপ আমেরিকা থেকে এশিয়ার প্রায় সর্বত্র আরবী ও ফার্সি ছড়িয়ে পড়েছিলো? কারণ, সে সময় সুসংবদ্ধ জ্ঞানচর্চার জন্য গড়ে উঠেছিল মাদরাসা---সে সময়ের দুনিয়ার অগ্রসারমাণ, প্রগতিশীল ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
আমেরিকা-ইউরোপের ইতিহাসে যে অন্ধকার যুগ সেই সময়ে আরব-তুর্কি-পার্সী-আব্বাসী মুসলমানরা "মাদরাসায় পড়ে" পুরো মানবজাতিকে আলোকিত করেছে। পুরো ইউরোপ-আমেরিকায় আল আজহারের মত এমন প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় আছে? এই মাদরাসা মানে উচ্চশিক্ষার আলয়, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ। সেখানে ল্যাব বা গবেষণাগার ছিলো। গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরি ছিলো। ফারেগ হওয়া বা সমাবর্তনের যে গাউন বা পাগড়ি দেয়া এইটা আসছেই মুসলিমদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার মাদরাসা থেকে। ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো মূলত একজন মুসলিম নাবিক। মুতাযিলা নামের একটি ভীষণ জ্ঞানী সমাজ তৈরি হয়েছিলো সে সময়। আজকের পাঠচক্র বা স্টাডি গ্রুপ বা সিম্পজিয়াম, সেমিনার এসব মুসলিম মণীষীদের মাধ্যমে দুনিয়ার শিক্ষাক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে।
বিতর্ক স্থান, সরাইখানা, মুসাফিরখানার মত গেস্ট রুম/রেস্টরুম সংস্কৃতির জন্মদাতা ইসলাম। এসবের পাশাপাশি নামাজেরও স্থান ছিলো মাদরাসায়। মসজিদে বসতে আদালত। প্রতিযোগিতা হতো কবিতা, উপস্থাপনা ও নিজস্ব মৌলিক ভাবনার যা আজ কয়েকশ বছর পরেও দুনিয়ায় আধুনিকতম হিসেবেই সর্বজনগৃহীত।
জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা বাদ দিয়ে কেবল ফতোয়া নিয়ে কোনোকালে ইসলামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা মাদরাসা চলেনি যেটি দেওবন্দী প্রমুখ কওমী মাদরাসা ও ইংরেজদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আলিয়া মাদরাসায় চলছে। অথচ আজো প্রাচীনতম আল আজহার মাদরাসায় গণিত, রসায়ন, পদার্থ, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন পড়ানো হয়। আর আমার দেশের মাদরাসায় "দর্শন পড়লে নাস্তিক হয়/বেশি জানলে নাস্তিক হয়" ইত্যাদি রেটরিক গলধঃকরণ করা কমবোধসম্পন্ন ও অকারণচিল্লানো ওরে বাটপার/চিটারগুলো নিজেদের কূপমন্ডুকতাকে "ইলম" বলে চালিয়ে কালেকশনের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে।
সলিমুল্লাহ খাঁ এই ব্যাপারগুলো এড়িয়ে গিয়ে মাদরাসাকে অতিরঞ্জিত প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। এটি সলিমুল্লাহর মাদরাসা বিষয়ক ইলমকেই প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে দিলো, আমার বুঝে।
ইসলামের ক্যালিগ্রাফি ভুবনবিখ্যাত। ইসলামের চার খলিফা কোনকালে পালমিরার এসিরিও সভ্যতার নিদর্শনে হাত দেননি, আলেপ্পোর দারুন সব ভাস্কর্য রেখেছেন, বাগদাদের ভূবনখ্যাত ঝুলন্ত বাগান বা শূন্যোদান রেখেছেন দর্শনার্থীদের জন্য, মিশরের পিরামিড ও স্ফিংস তারা রেখেছেন। সেই নীতি অনুসরণ করেছেন তাবেঈ ও তাবে তাবেঈন।
ইসলামের ইতিহাসে ভাস্কর্য ভাঙচুরের সূত্রপাত উমাইয়া জালেমদের হাত ধরে। ওরা আলী, ফাতেমা, হোসাইন (রা) এর কবরের নিকট গিয়ে কান্নাকে ডিলেজেটিমাইজড করতে এসব কবরের উপরের স্থাপনা ভেঙেছে। এজিদ জানোয়ারের বাহিনী মদিনায় তাণ্ডব চালিয়েছে। এ পৈচাশিক তাণ্ডব জাস্টিফাই করতেই "উঁচু কবর" বা ভাস্কর্য বিষয়ক নানা অতিরঞ্জিত কথাকে এরা হাদিস নামে চালিয়েছে। এরা সেই ফতোয়াবাজ জালেমদের উত্তরসূরী যারা হোসেনকে তাকফির করে তাঁর রক্তকে হালাল করেছিলো। কোনো কোনো জাহেল বলেছিলো," তাড়াতাড়ি হোসেনের কল্লা কাটো, আসরের নামাজের সময় যায়"!
মনে রাখবেন, উমাইয়াদের শাসনামলেই শিয়াদের কাফির, ভাস্কর্য, কবর, মাজার ইত্যাদি এ সংক্রান্ত অধিকাংশ হাদিস সংগৃহীত। এই উমাইয়াদের তাণ্ডবের পরবর্তী সমর্থক ইবনে তাঈমিয়া। তার অনুসারী আব্দুল ওহাব আর ওহাবের ফতোয়ার বাস্তবায়নকারী আল সৌদ বংশ। আল সৌদ গং ওহাবীরা আল বাকী কবরস্থানের উপরে উঠে তাকফিরি সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করে অপর মুসলমানদের রক্তকে হালাল করে। আজকের সন্ত্রাসী আইএস, আল কায়েদা, বোকো হারাম,
জেএমবি, এসব এই তাইমিয়া-ওহাবের ফতোয়াকে ভিত্তি করে খুন-খারাপি করে ইসলামকে কলঙ্কিত করছে।
এই ওহাবী মত সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় ধর্ম আর এই ওহাব-তাইমিয়ার গোঁড়া মতের সমর্থক দেওবন্দ। আর দেওবন্দের আদর্শ ও সিলেবাস অনুসরণ করে বাংলাদেশের মাদরাসাগুলো। সৌদি আরব দেওবন্দী ও বাংলাদেশের কওমী ও আহলে হাদিসের বিভিন্ন মাদরাসায় তাদের এই অসহিষ্ণু ওহাবী মতামত প্রতিষ্ঠার জন্য কোটি কোটি টাকা দান-খয়রাত করে। সৌদি খয়রাতের জন্য দুটি শর্ত বাধ্যতামূলক--
১। শিয়াদের অমুসলিম ভাবা
২। কেতাব পড়ে ঘরে বসে থাকবা (রাজতন্ত্র নিয়ে কথা বলবা তো খয়রাত অফ)।
এর পাশাপাশি মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রমুখ স্থানে স্কলারশিপ দিয়ে নিয়ে গোঁড়া মতবাদে দীক্ষিত করে আল সৌদ পরিবার। সৌদি আরব যে কারণে জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে সেই একই কারণে সৌদি সিলেবাসের মাদরাসাও জ্ঞানে-বিজ্ঞানে মোটেই এগিয়ে নেই।
ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। এতে যেমন, দিন দুনিয়া ছেড়ে বৈরাগ্যের স্থান নেই, তদ্রুপ পরকাল ভুলে অন্ধভাবে দুনিয়া আঁকড়ে ধরারও স্থান নেই। এ দুইটির সম্মিলিত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর সেটি অত্যাবশ্যক, ফরজ। কারণ, আল্লাহ পাক নবী মুহাম্মদ (স) এর মাধ্যমে জানিয়েছেন "দুনিয়া হচ্ছে আখিরাতের ক্ষেত"। তো ক্ষেতে চাষ করতে হলে আপনার যেসব দুনিয়ার জ্ঞান প্রয়োজন ইসলামী নিয়মের মধ্যে থেকে তা অর্জন ফরজ বা অত্যাবশ্যক।
আবার, ইসলাম হচ্ছে জীবনের পূর্ণাঙ্গ বিধান। আর জীবন দুনিয়ার বাইরের কিছু না। যদি ইসলাম সর্বজীবনব্যাপী হয় তবে ইসলামের "জ্ঞান" মাদরাসার বর্তমান সময়ের দর্শন-জ্ঞান-বিজ্ঞানহীন অসম্পূর্ণ সিলেবাসকেন্দ্রীক বানানোর ভাবনা বা মত নিঃসন্দেহে ভুলভাবে ইসলামকে পাঠ। এই সময়ে যা ব্যাপকভাবে প্রচলিত।
একজন নিজেকে "আলেম" বলে সবজান্তা ভাবছে অথচ বিজ্ঞানের ব-ও জানেনা, প্রযুক্তির প-ও বোঝেনা আর দর্শনের দ-ও অনুধাবন করেনা। যা নিয়ে গলাবাজি করে নিজেকে বিশাল "আলেম'' বলছে তার বেশিরভাগ এতো সহজ অভিমত বা ফতোয়া যা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত যেকেউ আত্মস্থ করতে মাস খানেকের বেশি নেবেনা।
এই গোঁমর যাতে ফাঁস না হয় তাই ভার্সিটি, স্কুল ইত্যাদির প্রতি বিদ্বেষ দেখা যায় কিছু মুন্সি-মোল্লাদের মুখে। এ কারণে মাদরাসায় পড়ুয়া মুন্সি শ্রেণী নিজেদের "একচ্ছত্র রিলিজিয়াস অথোরিটি" যাতে সাধারণ শিক্ষার বুদ্ধিদীপ্ত ছেলেমেয়েদের দ্বারা চ্যালেঞ্জড না হয় সেই ভাবনা ভেবেছে।
তারা ইংরেজি শিক্ষা বা বিজ্ঞান শিক্ষা বা সাধারণ শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করেছে। এই শিক্ষায় শিক্ষিতদের ইলমকে " ত্বলাবুল ইলমি ফারিজাতুন" থেকে বাদ দিয়েছে ফতোয়া দিয়ে। অথচ হাদিসে তা নেই।
হাদিসে "ইলমে দ্বীন" নাই, আছে "ইলম"! আর ইলমে দ্বীন থাকলেও যে ধর্ম দুনিয়াকে আখিরাতের শস্যক্ষেত বলে সেই ধর্মের ইলমে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত যে "দুনিয়ার তাবৎ জ্ঞান" এটি সাধারণ মান্তেক বা যুক্তি জানা যে কেউ স্বীকার করবেন। এই বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ। ইলম অর্জন করতে নবী মুহাম্মদ (স) চীন দেশে যেতে বলেছেন। চীন দেশের যে "মাদরাসা" সেইখানে তো কেবল বিবি তালাক, হায়েজ-নিফাজ, মিশওয়াকের ফতোয়া পড়ানো হয়না। সেখানে কাগজ তৈরি হয়, কাপড় বানানো শেখানো হয়, বারুদ বানানো শেখে সেখানের মাদরাসায়৷
এই ধরনের মাদরাসাই পড়েছিলেন মওলানা রুমি, এই মাদরাসা মামুন গড়েছিলেন, এই জাতীয় মাদরাসার ছাত্র ছিলেন জাবির, হাসান, সিনারা। এসব মাদরাসা আজকের মুন্সিদের বিবি-মিশওয়াক ফতোয়ানির্ভর ছিলোনা। যেহেতু নবী চীনে যেতে বলেছেন আর চীন তখন ইসলামের ছায়াতলে নেই তাইলে কী করতে হবে? এই হাদিসটিকেই বাতিল করতে হবে।
আলবানী ও অন্যান্য ওহাবী গং তা করতে সমর্থ হয়েছে। অন্য হাজারো জাল হাদিস মুখস্ত করে তা প্রচার করলেও চীনে যাওয়ার হাদিস শুনলে আলেম নামের জাহেলদের গাত্রদাহ হয়। কারণ, এতে "জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইলম অর্জন ফরজ" তা জাস্টিফায়েড হয়।
এরা আধুনিক পৃথিবীতে নিজেদের অজ্ঞতা ও মূর্খ দশাকে নিয়ে এতই ইনফেরিওরিটি কমপ্লেক্সে ভোগে যে অলীক কথা বলে তা প্রতিস্থাপিত করতে চায়। যেমন, মালাহামা বা মহাযুদ্ধ যেটি মাহদী ও ঈসার নেতৃত্বে সমস্ত মানবজাতির শান্তিকামীরা ইহুদীবাদী দাজ্জাল বা এন্টিক্রাইস্টের বিরুদ্ধে লড়বে সেটি নাকি হাতে আর তলোয়ারে হবে। এতে তাদের বিজ্ঞানবিমুখ অস্তিত্ব প্রয়োজনীয় হয়, অন্যথায় ড্রোনের, টেকনোলজির ব্যাটলগ্রাউন্ডে তারা আগাছা বা নিস্প্রয়োজনীয় হয়ে যায়।
কারণ, এরা, এই মূর্খরা গরু আর ছাগল জবাই দেয়া ছোরা ছাড়া কিছুই চালাতে পারেনা, বানানো তো বহু বহু দূরের কথা। এরা পারমাণবিক বোমা, ট্যাংক, ড্রোন, মিসাইল, এস ৪০০, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, একে-৪৭ প্রযুক্তি সম্পর্কে দারুন অজ্ঞ। আর এগুলো আসে দুনিয়াবী ইলম থেকে। মূর্খদের তা নেই। তাই ভাবে আর কারো এ জ্ঞান থাকবেনা৷ ইরানের উদ্ভাবনীকে এরা সৌদি প্রোপাগাণ্ডার কারণে দেখেওনা।
এ বিষয়ে আমি এ জাহেলদের মুখে এ কথাও শুনেছি সব অস্ত্র নিস্ক্রিয় হয়ে যাবে যা এন্টি-মান্তেক বা যুক্তিবিরোধী। অথচ আমরা সবাই জানি, স্রষ্টা সুনিপুণভাবে যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মতভাবেই সব করেন। তিনি মাহদী বা ঈসার লিডারশিপে শান্তিকামী সর্বধর্মের যে এলায়েস্ন গঠন করবেন তাকে ফেভার দিবেন না, মোহাম্মদ স কেই যেখানে দাঁত ভেঙে লড়াই করতে হয়েছে সেখানে এরা মনগড়া ফতোয়াবাজির অশ্বডিম্ব ভেবে বসে আছে। ত্যাগ করতে হবে এরা এটা বোঝেই না। সে যুদ্ধে এক তৃতীয়াংশ মরবে, বাকি অর্ধেক পালাবে, আর শেষ অর্ধেক দাজ্জালের অপশাসন থেকে মানুষকে মুক্ত করবে।
হাত আর তরবারিতে এত ভয়াবহ যুদ্ধ হয়না এই জাহেলরা তা বোঝেওনা৷, অথচ "বিশাল আলেম হিসেবে চিল্লাইয়া মার্কেট পাওনের চ্যাষ্টা চালাচ্ছে"। আর আমাদের খাঁ সাহেব তাদের পিঠ চাপড়াচ্ছেন। বাংলাদেশ অদ্ভুত। কখন যে এখানে সলিমুল্লাহ খাঁ ফরহাদ মজহার হয়ে যাবেন তা আপনি ঘুণাক্ষরেও টের পাবেন না ----টকশো না দেখলে।
যা বলতে এত্ত কথা। সলিমুল্লাহ খান - Salimullah Khan মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে অর্ধসত্য কথা বলেছেন। তিনি বাগ্মী ঠিক আছে। তার সামনে যারা ছিলেন বা যারা তার এই টকশোর কথাকে আসমানী ভাবছেন তারা জানেননা সত্য। বর্তমান সময়ের মাদরাসার মুন্সিরা ইসলামের প্রকৃত জ্ঞানই চর্চা করছেননা। এরা মাজহাব, লা মাজহাব, গোল টুপি চারকোণা টুপি, নাভিতে না বুকে হাত, বিদায়াত না সালাফ, চাঁদ দেখা না সৌদি, মেয়েরা ফাইভে না অনার্সে, দাড়ি কাটলে ইসলাম থাকে না না থাকে, দান করলে সওয়াব, দান করেন মালে বরকত (অবৈধ আয় হলেও) এসব নিয়ে পড়ে আছে।
এরা পদে পদে তাকফিরি আচরণ করছে। সলিমুল্লাহ খাঁকে এরা ইসলামের শত্রু বানাতে এক মুহূর্ত নেবেনা। কারণ, এদের অনেকের ভুলভাল ফতোয়াবাজিতে নামাজ ছাড়লে বা দাড়ি কাটলে মুসলমানিত্বই থাকেনা।
কিন্তু মাদরাসা এমন হওয়ার কথা ছিলোনা। ইলমের এমন সংকীর্ণ সংজ্ঞায়ন ইসলামের সঙ্গে মানানসই হতে পারেনা। যে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থে প্রথম বাণীই
" পড়, তোমার প্রভুর নামে"
সেই ইসলামের জ্ঞানের পরিধি সমগ্র পৃথিবীময় এমন কি মেরাজের ঘটনা প্রমাণ করে পৃথিবী ছাড়িয়ে তা মহাবিশ্বের প্রতিটি কণায় আমাদের যেতে উৎসাহিত করে।
জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি মানুষ। জ্ঞানার্জন হোক অত্যাবশ্যক। জ্ঞান দিয়ে হোক লড়াই, গালি দিয়ে নয়।
জ্ঞান হোক সবকিছু, সবার---দ্বীন ও দুনিয়ার।
0 Comments