সর্বশেষ

মহিউদ্দিন আহমদ : বঙ্গবন্ধু হত্যায় জাসদের ভূমিকা নিয়ে নীরব কেন?

মহিউদ্দিন আহমদ স্বাধীনতার পর তৈরি হওয়া কট্টরপন্থী জাসদপন্থী লেখক এবং প্রথম আলোর একজন পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ব্যক্তি। তিনি লিখেছেন আজ '১৫ আগস্ট: আসল সত্য জানা জরুরি'।  কী সত্য? 
তার পুরো লেখার উদ্দেশ্য ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাদের ভূমিকা বের করা। সাধারণ চোখে খুবই সরল মনে হলেও এই লেখার সমস্যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরি করা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নামের উগ্রপন্থীদের ব্যাপারে একটা শব্দও না লেখা। মহিউদ্দিন ভাই বাংলাদেশের হত্যার রাজনীতির তাত্ত্বিক গুরু সিরাজুল আলমের শিষ্য। 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে রক্তারক্তি এর সূচনা এদের হাত ধরেই আসে।
জাতির পিতা সপরিবারে সেনাবাহিনীর নরপিশাচদের মাধ্যমে হতাহত হলে জাসদের আরেক খুনী মাস্টারমাইন্ড কর্নেল তাহের বলেছিল,' বঙ্গবন্ধুর লাশ বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেওয়া উচিত।' এই তাহের গং বেঈমান খন্দকার মুশতাকের শপথ অনুষ্ঠানেও ছিল। তাহের উচ্চ প্রশিক্ষণ নেয় মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে। 

জাসদ তথা তাহের গংয়ের ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জেড ফোর্সের জিয়াউর রহমান, অবেলার বিপ্লবী খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম। খালেদকে তাহেরের নির্দেশে অনুগত মেজর জলিলের বাহিনী হত্যা করে। জিয়াকে পারেনি তার অনুগত সৈন্যরা তাঁকে ঘিরে রাখায়। আর জিয়া এক সময় আইএসআই তে কাজ করায় তার ইন্টেলিজেন্স ছিল, ক্যান্টনমেন্টের বাইরে তাহেরের জনবল অধিক, তাদের সঙ্গে পারা যাবেনা। সে আরেক ইতিহাস। 

আমি বলতে চাচ্ছি, বাংলাদেশের ইতিহাসের রক্তারক্তির সূচনা জাসদের মাধ্যমে। একটি সদ্য স্বাধীন দেশে জাতির পিতাকে ৫ টি বছরও কাজের সুযোগ না দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হানাহানি, থানা দখল, হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক কূটচাল এসব জাসদের মাধ্যমে শুরু হয়। এ সুযোগে স্বাধীনতাবিরোধীরাও জাসদের মাধ্যমে এবং পরবর্তীকালে সায়েম, জিয়া ও এরশাদের সময়ে পুরোপুরি মূলধারার রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়। 

অন্যদিকে জাসদের রক্তাক্ত 'বিপ্লবে' সরাসরি সমর্থন ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। সে সময়ে ভারত ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন এর বলয়ে। এ কারণে, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ব্যাপারে খালেদ মোশাররফ বিপ্লব শুরু করলে তাহের, তার বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা, গণকণ্ঠ, গণবাহিনী খালেদ মোশাররফকে 'ভারতের দালাল' উপাধি দিয়ে 'হত্যাযজ্ঞ' করার এজেন্ডা নেয়। তাহেরের ভাইরা ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সমর সেনকে গুম করতে গিয়ে এক ভাইকে হারায়। আর মার্কিন সাংবাদিক ও লেখকদের নিকট 'তাহের আনফিনিশড রেভুলোশনারি'। কীভাবে?

জাসদের অবাস্তব বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র ছিল মূলত পশ্চিম তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুসারী। এ কারণেই জাসদের ক্ষমতা দখলের নিমিত্ত খুন-গুমের তাত্ত্বিক (কা)পুরুষ সিরাজুল আলম খান পুঁজিবাদের ভিত্তিভূমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থালাবাসন মেজে এক বিশাল 'কচুর রহস্যাবৃত' জীবন যাপন করছেন। সে যদি বিপ্লবী হতো তার গন্তব্য হবে সোভিয়েত ইউনিয়ন, কিউবা, নিদেনপক্ষে আরেক কমিউনিস্ট খুনী রাষ্ট্র চীন। কিন্তু সমাজতন্ত্রের এক নম্বর শত্রু মার্কিন মুল্লুকে কেন যায় কথিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের অন্যতম ঠিকাদার? সেই একই মার্কিন দেশে না বঙ্গবন্ধুর খুনীরা অবস্থান করছে?

হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধুর খুনে কুখ্যাত খন্দকার মোশতাক, সেনাপ্রধান সফিউল্লাহসহ আওয়ামীলীগের অনেকেই বেঈমানী করেছে। এ ইতিহাস সর্বজনস্বীকৃত। যে রক্ষীবাহিনীর কারণে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দূরত্ব হয়, তারাও জাতির পিতা হত্যার পর সাক্ষিগোপাল হয়। কিন্তু তাহেরের আস্তো একটা বাহিনী সেনাবাহিনীতে ছিল যার নাম 'বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা'। এ বাহিনী নিশ্চয়ই জানতো জাতির পিতার ব্যাপারে আর্মিদের একাংশের ষড়যন্ত্র। তা না হলে তাহের এতদ্রুত 'সিপাহী সিপাহী ভাই, ডালিম তাহের ভাই ভাই, খালেদের রক্ষা নাই' বলে কীভাবে? আর তাহের কেনইবা মোশতাকের শপথ অনুষ্ঠানে যায়? 

খালেদ মোশাররফের বিপ্লব কেন জাসদ ভেস্তে দিলো। খালেদের মা ও ভাইই রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে সবার আগে মিছিল করে। আর কোনো বাপের ব্যাটার হিম্মত ছিলোনা। সেই খালেদকে মহিউদ্দিন খলনায়ক বানাতে লেখেন খালেদ নাকি খুনীদের ট্যাংকে গোলাবারুদ দেয় যা সম্পূর্ণ জুলুম। সে সময় খালেদের নিকট থেকে বিপ্লব ছিনিয়ে নিতে এই জাসদ, তাহের গং হত্যার উৎসব শুরু করে। আমি বিশ্বাস করি, খালেদ মোশাররফসহ শতশত মুক্তিযোদ্ধা হত্যার দায়ে তাহের, সিরাজুল আলম খান গংয়ের বিচার শুরু হলে জাতির পিতা হত্যার আরো নানা দিক উন্মোচন হবে। 
এসব কিছুই নাই এ লেখায়। মহিউদ্দিন এই ইতিহাস গুম করতে চান। এদের প্রোপাগাণ্ডার শিকড় অনেক গভীরে। এদের বয়ান নিজেদের সুরক্ষার নিমিত্ত তৈরি হয়। এ কারণেই, জাসদ ও তাদের পন্থী হইতে সাবধান।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments