সর্বশেষ

বঙ্গবন্ধুর তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল

বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবুর রহমানের  তিন পুত্রের নাম যথাক্রমে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল। 

বঙ্গবন্ধুর  সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয়বাদী অসাম্প্রদায়িক বিপ্লবী চরিত্রের একটি প্রামাণ্য এ তিনজনের নাম।
শেখ কামালের নাম রেখেছিলেন আধুনিক তুর্কি প্রজাতন্ত্রের জনক কামাল পাশার নাম থেকে। যখন আরবরা ব্রিটিশ ও ফরাসীদের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করে উসমানীয় তুর্কি খেলাফত ভেঙে দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা তুর্কি সাম্রাজ্যের জমি বাটোয়ারা করে নেয় তখন কামাল পাশাসহ তুর্কি জাতীয়তাবাদী একদল সাহসী মানুষ তুর্কির মূল ভূখণ্ড রক্ষা করে। আরবদের বিশ্বাসঘাতকতায় তুর্কিরা এতই রেগে যায় যে দীর্ঘদিন তুরস্কে আরবী প্রায় নিষিদ্ধই হয়ে যায়! তুর্কি ইউরোপের সংস্কৃতি ইত্যাদি গ্রহণ করে। সে অনেক ইতিহাস! 

শেখ জামালের নামটি খুব সম্ভবত মিশরের জাতীয়তাবাদী নেতা জামাল (অনেকে গামালও  উচ্চারণ করেন) আব্দুল নাসের এর ব্যক্তিত্বকে ভালোবেসে দেওয়া। জামাল বিপ্লবের মাধ্যমে মিশর ও সুদানের রাজতন্ত্র উৎখাত করেন ১৯৫২ সালে। শেখ জামাল ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মিশরের জামাল ব্রিটিশসহ ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের কষা চপেটাঘাত করেন ১৯৫৬ সালে-- সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করে।

শেখ রাসেলের নাম দেওয়া হয় বিখ্যাত দার্শনিক ও সাহিত্যিক বার্টান্ড রাসেলের নাম থেকে। রাসেল জন্ম নেন ছয় দফা দেওয়ার বছর দুয়েক আগে। বঙ্গবন্ধু এ সময় মানুষের মুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে রাসেলের দর্শন পড়ছিলেন বলা যায়। রাসেল সে সময় জীবীত। পৃথিবীর সবচেয়ে নামকরা দার্শনিক। 

এ তিনটি নাম রাখার অর্থ বঙ্গবন্ধু এদের দর্শন, এদের কর্মকে অন্যদের চেয়ে অধিক পছন্দ করতেন। 

ক্ষমতায় আরোহনের পর তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ শুরু করে ব্যক্তিকেন্দ্রীক মুনাফাপন্থার অবসান ঘটাতে সচেষ্ট হন। তিনি তৎকালীন সাম্রাজ্যবাদীদের তাঁবেদারি না করে নিজস্ব নীতি 'মুজিববাদ' নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। আর তার দর্শন ছিল অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, মাটি ও মানুষের জন্য। 

'কামাল, জামাল, রাসেল' এঁদের চিন্তা-ভাবনার প্রভাব ছিল বঙ্গবন্ধুর কর্মে।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments