সর্বশেষ

ভারতীয় বাঙালিদের ভণ্ডামি : গোমূর্খ হিন্দু সংহতির গোঁড়ামি ও ধৃষ্টতা || বাংলাদেশ বনাম ভারত বিতর্ক

বাংলাদেশের বাংলা ভাষা নিয়ে হিন্দু সংহতির ধৃষ্টতা 
~~~~~
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিতমূর্খ সাম্প্রদায়িক শ্রেণিটির পরিচয় সংকট বহু আগের। এরা নানাভাবে তার প্রমাণ দেয়। 
পূর্ববঙ্গের ফসল লোপাট করে এদের পূর্বপুরুষদের চামড়া মোটা হয়েছিলো। সেই মোটা চামড়া কালের বিবর্তনে নানাভাবে আমাদের সামনে আসে। এরা বাংলার স্বার্থের চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে চিরকাল ব্যস্ত ছিলো। সুভাষের মত কিছু ব্যতিক্রম আছে। কিন্তু বেঁচে থাকতে সুভাষকে এরা মূল্যায়ন করেনি। এরা মাথায় নিয়ে নেচেছে বঙ্কিমচন্দ্রের মত কাঠমৌলবাদীদের নিয়ে...

এরা অতীতেও দিল্লির পদলেহন করেছে জাত বিকিয়ে দিয়ে, এখনো বেশিরভাগ নিজের ভাষা বাংলা ছেড়ে হিন্দির আধিপত্য গ্রহণ করে সেই কাজ নিপুণভাবে করে চলেছে। 

নির্লজ্জের মত ব্রিটিশদের প্রভু হিসেবে গ্রহণ করে জাত একেবারে শেষ করে দিয়েছে এই রায় দুর্লভ, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ বেঈমানদের বাচ্চারা। এদের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য বলতে কিছুই নাই। যা আছে তা হচ্ছে মূলত দিল্লি ও লণ্ডনের মানসিক দাসত্বের ফসল। 

২)
বাংলাদেশ তথা পূর্ব বাঙলার প্রতি এদের বিদ্বেষ আজকের নয়, তাও বহু আগের। 

স্বাধীন বাংলাদেশ ওদের চোখের বালি। সেই ব্রাহ্মণ্যবাদী আর্যরা যখন পূর্ববঙ্গে তাদের সাম্প্রদায়িক বর্ণবাদী প্রভুত্ব বিস্তারে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের "অনার্য" বলে গালি দিয়ে বিদায় হয় তখন কিছু কুলাঙ্গার আধিপত্যবাদীদের দালালী করে। এরা সেই দালালের বংশধর। 

ইংরেজ দখলদাররা যখন বাংলার নবাব সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তখন ক্লাইভের দলে ঐ পশ্চিমবঙ্গ-কলকাতা দেশীয় প্রায় ২-৩ হাজার সৈন্য ছিলো। এখন যারা বাংলাদেশ বিরোধী---এরা ঐ বেঈমানদেরই বংশধর। 

৩)
১৯০৫ সালের দেশ বিভাগের সময় কথিত "মায়ের অঙ্গচ্ছেদের" অজুহাতে এরা পূর্ববঙ্গের মানুষের উন্নত হওয়াকে মেনে নিতে না পেরে সন্ত্রাসী আন্দোলন করে। 

১৯১১ তে বঙ্গভঙ্গ রদ করে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শোষকেরা। কিন্তু এই যে যারা মায়ের অঙ্গ বাঁচাতে জিহাদ করলো ১৯০৫-এ, এরাই ১৯৪৬-৪৭-এ কলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গায় জিহাদ করলো মায়ের অঙ্গচ্ছেদ করতে, মাকে কেটে ভাগ করে নিজের স্বার্থ আদায় করতে। কোন লেভেলের হিপোক্রেট এই পশ্চিমবঙ্গের বর্ণবাদীরা বোঝেন? 

কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানের দাঙ্গায় হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের হাতে হাজার হাজার সাধারণ মুসলিম নিহত হলো। এমন কী সাধারণ হিন্দুরাও নিহত হলো এদের জঘন্য বিভাজননীতির কারণে। অথচ এরা যদি ভালো মানুষ হতো তবে বৃহত্তর বা সংযুক্ত বাংলাদেশ হয় তখনই এবং তা ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী এনটিটি হিসেবে আবির্ভূত হতো। কারণ, গোটা বঙ্গোপসাগর ও বর্তমান পূর্বভারতের বিশাল অংশ বাঙ্গালি অধ্যুষিত এই দেশটিতে যোগ দিতো। 

ভারত বা পাকিস্তান ভৌগোলিক কারণেই কখনো সেই যুক্ত বাংলাদেশকে সিকিম বা হায়দারাবাদ বা কাশ্মিরের মত অধিগ্রহণ করার সাহস করতে পারতোনা! 

যাহোক, তারপর স্বেচ্ছায় সাধের বাঙালিত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে, জাতপাত ভুলে ইতিহাসে প্রথমবারের মত স্বেচ্ছায় দিল্লির পদানত হলো বাংলার একটি অংশ! 

সেই বেঈমানদের বংশধররা হিন্দু সংহতি, বজরঙ্গী পার্টি, বিজেপী, আর এস এস, শিবসেনার ছত্রচ্ছায়ায় এখনো দিল্লির পদলেহন করে চলেছে। এরা বাংলাদেশই যে প্রাচীন বাংলার মূল ভূখণ্ড বা 'হার্টল্যান্ড' এটা ভুলে বসে আছে। কারণ কী? 

বাংলাদেশের মুসলমান আর হিন্দু জানে তার জাতীয়তা বাঙালি, কিন্তু 'কলিকাতা হার্বাল' বাহিনীর জাতীয়তা কী? ভারতীয়---এই উত্তর না দিলে হিন্দুস্থানি গোঁড়া হিন্দুনিয়ন্ত্রিত দিল্লি পিঠের ছাল তুলে ফেলবে, নাকি দাদা/দিদি?
৪)
ভাষার ব্যাপারে বলি। এদেশের সাহিত্যের কিছু ভাঁড় ছাড়া কোনো মানুষ কলকাতার ঐ হাস্যকর, বিকৃত ভাষায় কথা বলে? কেউ বলেনা।

বাংলাদেশের পত্রিকার চমৎকার নিজস্ব ভাষা, টেলিভিশন সংবাদ বা অনুষ্ঠানে আমাদের নিজস্ব ধারার বাংলার জয়জয়কার। কলকাতাকেন্দ্রীক আজ্ঞে, ফাজ্ঞে, এসচি, যাচ্চি, এসব পূর্ববাংলা তথা বাংলাদেশ কোনকালেই নেয়নি আর নেবেওনা। আমরা এমন কী নাটক, সিনেমায় আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষাকে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করেছি। 

হ্যাঁ, এটা সত্য জাতীয়তাবোধহীন নীতিনির্ধারকদের কারণে সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রয়োগ নাই, কিন্তু যতটুকু বাংলা বেঁচে আছে তার ষোলআনাই বাংলাদেশে হচ্ছে৷ 

এই দেশের বাংলা কট্টরপন্থী হিন্দু সংহতির ''সনাতনী" ধারার হবেনা। এ বাংলা, বাংলাই থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গের সুযোগসন্ধানীরা বাংলাদেশে এসে এদেশের ভারতীয় মানসিক দাসদাসীদের পাম্পট্রি দিয়ে বেশ বই বেচে যায়, চাকরি করে কর ফাঁকি দিয়ে ভারতে টাকা পাচার করে ফাও খেয়ে যাওয়ার আগে ও পরে অকৃতজ্ঞতার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বাংলাদেশের বদনাম করে যান। 

গার্গি চ্যাটার্জি নামের এক নিমকহারাম আছে 'বাংলা পক্ষ' নামের সংগঠন চালায়। বাংলাদেশের খেয়ে পরে পেটে দুমুঠো ভাত যোগাতো ইউল্যাবে কামলা দিয়ে। সেই খান থেকে ঘাড়ধাক্কা খাওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষে সে ভারত সরকারের কোনো চুক্তি যেমন--তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি করতে দিতে চায় না। কত বড় অকৃতজ্ঞ! অথচ বাংলাদেশের ইলিশ ভিক্ষা না পেলে ভারতের পূজাই বন্ধ হয়, বাংলাদেশ থেকে পর্যটক না গেলে ভারতীয়দের বিড় একটি অংশ ভিক্ষা করতো!

তারপরও এরা বাংলাদেশের বিরোধীতা করে। এ নিয়ে আমাদের সাহিত্য, রাজনীতি বা মিডিয়াপাড়ায় প্রতিবাদ একেবারেই কম দেখা যায়। কারণ কী?

যেসব ভারতীয় বাংলাদেশ থেকে নানা ক্ষেত্রে সুবিধা লুটে, আখের গুছিয়ে থাকে তারা হিন্দু সংহতির সাম্প্রদায়িক রেটরিকের নিন্দা করবেনা? আমাদের দেশের কলকাতার মানসিক দাসদাসীরা প্রতিবাদ করবেনা? 

এভাবে ভাষাকে সাম্প্রদায়িকরণ অনেক আগে একটি শ্রেণী করেছিলো বাংলাকে হিন্দুয়ানীর ভাষা বলে। সেই শ্রেণিকে  আব্দুল হাকিম ও তার উত্তরসূরীরা পরাজিত করে ১৩৫৮ তে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করে; আর এই ভাষার উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তোলে। 

আর এই বাংলাদেশী বাঙ্গালির ভাষা নিয়ে ধৃষ্টতা করার সা্হস আসে কোত্থেকে হিন্দি ও ইংরেজিতে মোহগ্রস্ত কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাসদাসীদের?
৫)
নিজের চর্কায় তেল দাও হে, পরান্নজীবী দাদা ও দিদিরা। দিল্লির পদলেহন করতে সেই যে ৪৭ এ গেলে হিন্দুত্ববাদী ভারতের পেটে এরপর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে তেমন কী আছে তোমাদের? বই যা বেচে খাও তাও এই বাংলার বই মেলায় আসতে হয় বেচতে। একটু মানুষ হও। আর কত বর্ণবাদী থাকবে? দিল্লির ছুঁড়ে দেয়া হিন্দির কাছে তোমার বাংলার পরিচয় নিভু নিভু। যদি নিজের আত্নপরিচয়ের দেহে জ্বালানি দিতে চাও তবে তোমাকে আসতে হবে বাংলাদেশে।

বাংলা, বাঙ্গালি ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন অস্তিত্ব। এর বাইরে যা আছে সব বাংলাদেশের আশেপাশে আছে বলে টিকে আছে। আজ থেকে ৫০ বছর পর ভারতের বাংলাভাষীদের নিজের আত্নপরিচয় খুঁজতে বাংলাদেশে আসতে হবে। ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবার পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সংহতিমার্কা আবর্জনাদের মুখে লাগাম দেয়া উচিত। তা না হলে একেবারে অস্তিত্বহীন হয়ে হা-হুতাশ করে এ পৃথিবীতে পদে পদে অপদস্থ হতে হবে।

শোনো দাদা/দিদি, আর কয়েক বছর পর থেকেই পৃথিবীতে বাঙ্গালি বলতে বাংলাদেশী বাঙ্গালকেই বোঝানো হবে। আর বাংলা ভাষা এখনই সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাষা। আমাদের অনুসরণ-অনুকরণ করেই টিকে থাকতে হবে যদি গায়ে বা হৃদয়ে বাংলা বা বাঙালিত্ব জাতীয় কিছু রাখতে চাও। 

এমন কী ঐ হিন্দুত্ববাদ প্রকাশ করতেও এই বাংলাদেশের বাংলা, সফটওয়্যার ও আরো অনেক কিছু লাগবে। বাংলা তো রোমান হরফে লিখে বেড়াও নির্লজ্জের মত, পোষাকে, খানায় বা মননেও বলিউড বা পশ্চিমের সাংস্কৃতিক দাসত্ব করো। তো এখন, নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করতে তোমাদের কী করার আছে?

বাংলাদেশের মুখাপেক্ষী হওয়া, বাংলাদেশের কাছে আসা। এটা কীভাবে করা হবে সেটি নিয়ে আলোচনা জরুরি। সেটি নিয়ে আলাপ শুরু করেন হে পশ্চাৎবাসী...

[যে জন্য এতো কথা তা কমেন্ট বক্সে দিলাম]
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments