ফররুখ আহমদের মতই পাকপন্থী ছিলেন সুফিয়া কামাল।
সুফিয়া কামাল দিওয়ানা হয়ে পাকিস্তান ও কায়েদে আযমের হয়ে কবিতা লিখেছেন "দুই হাত তুলে", কবিতা লিখেছেন পেয়ারের পাকিস্তান নিয়ে।
পাকিস্তানের পক্ষে টানা ৯টা মাস বিবৃতি দিয়েছেন আমাদের ঝকঝকাঝক শামসুর রাহমান।
হুমায়ুন আহমেদ ও জাফর ইকবাল পাকপন্থী ছরছিনা পীরের দরবারে আরাম আয়েশে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময়ে। তাদের পুলিশ পিতা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হয়ে ছিলেন বলে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছিলেন।
পশ্চিমের একনিষ্ঠ সেবক হুমায়ুন আজাদ তাগড়া জোয়ান অথচ মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে তার কোনো পাকা কথা নাই।
আহসান হাবিবকে পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষে বিবৃতিতে সাক্ষর করতে হয়েছিলো! তার সন্তান মইনুল আহসান সাবের মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করে এ দায় থেকে কিছুটা মুক্তির চেষ্টা করেন।
মুক্তিযুদ্ধকে "দুই কুকুরের কামড়াকামড়ি" বলা বামপন্থী অনেকেই এখন মুক্তিযুদ্ধের বড় সমরনায়ক।
বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চাওয়া কিংবা প্রতিপক্ষকে শ্রেণিশত্রু বলে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাওয়া কমরেডপাল এখন এক জাহাজে পাবলিকের খরচে হজ্ব করতে যান!
পারিবারিকভাবে মুসলিম লীগ করা অনেকেই এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সিপাহশালা!
আরো অনেক লেখক, সাহিত্যিক, ডিসি, এসপিসহ সরকারি চাকরিজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনীতিক এবং অন্যান্য চেতনার দণ্ডবাহীদের ১৯৭১ এর চরিত্র ভীষণ বিব্রতকর।
তালিকা অনেক দীর্ঘ। তারা রঙ বদলিয়ে সাফল্যের সঙ্গে মিশে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্যে।
কেউ নৌকায় চড়েছেন, কেউ ধানের শিস কাঁধে নিয়েছেন, আর কেউ সেই জামাতি দাঁড়িপাল্লায় উঠেছেন, আবার কেউ বামকামে নিমগ্ন হয়েছেন, কেউ প্রবাসে রাস্তা ঝাড়ু দিতে দেশান্তরি হয়েছেন।
কিন্তু বেচারা ফররুখ আহমেদ ছাড়া বা তার মত বাকিরা কেউই অবহেলিত হননি।
শামসুর রাহমান ৯ মাস পাকিস্তানের বেতন খেয়ে, পাকিস্তানের পক্ষে লিখেও "বন্দি শিবির থেকে" লিখে আমাদের "স্বাধীনতা তুমি" শেখাইছেন।
সুফিয়া কামাল তার জনক কায়েদে আযমকে পাশ কাটিয়ে সেরা মহিলা কবি হয়ে উঠলেন, তার কন্যা সুলতানা কামাল মা জিন্নাহগিরি করলেও নিজেকে মোদিগিরিতে নিযুক্ত রেখে ফায়দা লাভ করছেন।
হুমায়ুন আহমেদ যুদ্ধ না করে '১৯৭১' লিখে সিনেমায় 'ভালো মওলানা' আঁকলেন, তার ভাই গর্ত থেকে বেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তম ফেরিওয়ালা হয়ে উঠলেন।
হুমায়ুন আজাদ ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল জুড়ে ঘৃণার চাষাবাদ করে ১৯৭১ এর ৯ মাস তার ভূমিকাকে সাফল্যের সঙ্গে আলোচনার বাইরে রাখতে সফল হলেন।
কিন্তু আপাদমস্তক সৎ ও সাধারণ বেচারা ফররুখ এসবে পাকাপোক্ত হতে পারলোনা! পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থানের পর তার আর মুখ ছিলোনা কিছু বলার!
তাই তার সুরক্ষায়ও আহমদ ছফা ছাড়া কোনো পাঞ্জেরী এলোনা। ফলে এদেশে সে সময়ের প্রতিভাবান কবি হয়েও ফররুখের প্রতিভার হেলাল বাংলার সমগ্র আকাশে উঠলোনা!
অবহেলিত ফররুখ আহমদ বিনা চিকিৎসায় মরলো, তার মেয়েও মরলো! আর আমরা তালি বাজালাম আরো একটি পাকপন্থী কবি ও তার পরিবার ধসে যাওয়ায়!
আজকাল, করোনার এই অলস সময়ে লোকে দেখি ফররুখ ফররুখ করতেছে!
বহু আগে এমন বৃষ্টির দিনে ফররুখের " বিষ্টি এলো কাশবনে" পড়তেন যারা তারা পাঞ্জেরী হয়ে ফররুখের জন্য এগিয়ে আসছেন দেখছি কেউ কেউ!
আমি আগেপাছে নাই। আমি সাংবাদিকতার শিক্ষক। যা ঘটেছে তার বাইরে আমি কিছু বলতে বা লিখতে পারিনা। তাই কিছু কথা বলা আমার কাছে জরুরি মনে হলো।
আপনি মুখ খুলবেন কবে? আপনার রাত পোহাবার কত দেরী, পাঞ্জেরী?
0 Comments