সর্বশেষ

ব্রিটিশ লুটেরা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এর বিচার চাই || লুটসম্রাজ্ঞী || বাংলায় গণহত্যা

বাংলাদেশের ভূমি লোপাট হয়ে যায় ১৯৪৭ এর কথিত দেশ বিভাগের সময়ে। এ সময় ব্রিটিশরা ভারতের স্বার্থে কাজ করে। এমন কী আজকের আরাকানও পূর্ববঙ্গ এর সঙ্গে ৪৭ এ যোগ দিতে চেয়েছিল। এ অর্থে আরাকান/রাখাইনের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের কারিগর ব্রিটিশ দখলদাররা।

আসামের করিমগঞ্জ, কলকাতা আমাদের অংশে পড়বে এতে এ পারের কারো আপত্তি ছিলোনা। বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' এর ৭৩-৭৪ পৃষ্ঠা এবং আবুল মনসুর আহমদের 'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' দেখতে পারেন।

কিন্তু দখলদার ব্রিটিশ গং কংগ্রেস, হিন্দু মহাসভা, মুসলিম লীগের সঙ্গে আলাপে যতটা আগ্রহী বাংলাকে নিয়ে ততোটাই উদাসীন ছিল। 

এই ব্রিটিশ দখলদাররাই ১৭৭২ সালের দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী। এই লুটেরারা তাদের দেশীয় পাইক-পেয়াদা-দালালদের মাধ্যমে আমাদের কৃষির ভিত্তিকে ধ্বংস করে নীল চাষ করে। আমাদের কামার, কুমোর, তাঁতীসহ নিজস্ব পোশাক, কুটির শিল্প ধ্বংস করে। এই ব্রিটিশ দখলদার লুটেরাদের জন্য তেতাল্লিশের মহা মন্বন্তর দেখা দেয় যাতে বাংলার কম করে ৪০ লাখ মানুষ মারা যায়। উইনস্টন চার্চিল খুনী এর জন্য সরাসরি অভিযুক্ত।

বাংলাসহ ভারতবর্ষ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা ও দূরপ্রাচ্যের সম্পদ লুণ্ঠন করে গড়ে উঠেছে 'বাকিংহাম লুটপ্যালেস'। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লুটের হিরা-মণি-মুক্তায় খচিত ছিল বেহায়া লুটরানীর মুকুট। ও ঘৃণ্য মুকুটে মিশে আছে সিরাজ-তিতুমির-সূর্যসেন-সিধু-কানু ও তাদের কোটি উত্তর ও পূর্বপুরুষের রক্ত। লুট, হত্যা, গুম, ত্রাসের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে৷ লোপাটকারী ভূমিদস্যু কূটবুদ্ধির ব্রিটিশদের কোনো দরদ-মমতা-মানবতা ছিলোনা! 

নিজেদের স্বার্থে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে বাংলার দুই তৃতীয়াংশ মানুষ হত্যা করে এরা। বেঙ্গল রেজিমেন্টের মাধ্যমে যুদ্ধে জিতেও কৃতজ্ঞতা নেই এদের। খেলাফতের বিরুদ্ধে থেকে অবৈধ ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত করে। বাংলার সম্প লুটে নেয়, প্রাণ হরণ করে।

এসবের জন্য দায়ী ব্রিটিশদের মূলহোতা রানী। আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ এরা দিয়ে যায়নি। আমাদের রক্তমূল্য নিয়ে ওদের আলাপই নাই! কী অমানবিক! 

অবশ্য আমাদের আত্মকেন্দ্রীক ভোগবাদী 'অশিক্ষিত' সমাজ স্কলারশিপ পেয়ে ব্রিটেনে পড়তে যাওয়াকেই জীবনের অভিলক্ষ্য করায় ক্ষতিপূরণের দাবিও করেনি আজো। ওদের মগজে 'কলোনিয়াল স্লেভারি'। ওরা পশ্চিমের মানসিক দাসদাসী।

একবিংশ শতাব্দিতে যে বড় কিছু গণহত্যা চালিয়েছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা শক্তি তার মধ্যে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া রয়েছে। গোটা আফ্রিকা রয়েছে। এর সব গণহত্যায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ব্রিটিশরাও জড়িত। আর এগুলোর জন্য আসামী এই রানীও৷ সঙ্গে তার রাজা, তাদের যুবরাজ, যুবরানী প্রমুখ ভোগবাদী 'প্রিন্স-প্রিন্সেস-ডাচেস'। অপেক্ষাকৃত কম ভোগবাদী ডায়ানাকে খুনের অভিযোগ আছে এই রানীর বিরুদ্ধে! 

বুশ-ব্লেয়ারের সঙ্গে দ্বিতীয় এলিজাবেথও যুদ্ধাপরাধী। তার কথাতেই অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ অনেক দেশ এখনো সৈন্যসামন্ত পাঠায়। কোনোদিন এই দুই নম্বর রানী অতীতের ঔপনিবেশিক শোষণ অথবা বর্তমানের নবউদারতবাদের নামে আগ্রাসনের নিন্দা করেছে এ প্রমাণ নেই। কোনোদিন ক্ষমা চায়নি এই নির্লজ্জ মহাবেহায়া। তাই, এসবের দায় থেকে দখলদার রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মুক্ত নয়। 

প্রতিটি আগ্রাসী, দখলদার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, এমপি, রাজার মত শোষকসহ রানী নামধারী ভিক্টোরিয়া-এলিজাবেথের মরণোত্তর বিচার হওয়া উচিত। 

ঔপনিবেশিক শোষণকাঠামোর মাধ্যমে গোটা পৃথিবীর ভূগোল, শাসনকাঠামো ও সংস্কৃতিকে বিকৃত করেছে এই ব্রিটিশ লুটেরা শোষকপাল। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, অর্থনৈতিক আগ্রাসন, অর্থ পাচারের কারিগর এরা। ভারতবর্ষে ভয়াবহ গণহত্যা যেমন--অমৃতসর বা জালিয়ানওয়ালাবাগ, ক্বতল-ই দিল্লি প্রভৃতি গণহত্যার কারিগর এই খুনী ব্রিটিশরা। স্বদেশে আবার বিরাট 'সভ্যতার প্যাঁচাল' পাড়ে এই অসভ্যতার ঠিকাদারপাল।

ব্রিটিশ অপসাম্রাজ্য ভেঙে গেলেও কৌশলে 'কমনওয়েলথ' নাম দিয়ে সেই দাসত্বের শৃঙ্খলা আজো রেখে দিয়েছে। আমাদের দেশসহ কমনওয়েলথ নামের নব্য সাম্রাজ্যবাদী পতাকাভুক্ত দেশের থেকে অনেকেই ব্রিটেনে গিয়ে হাঁটু গেঁড়ে আজো দাসত্বের ছবক নিয়ে আসে। 

এগুলো নিয়ে চ্যালেঞ্জ করার কথা যাদের সেই একাডেমিশিয়ানদের দাসত্ব সর্বাধিক চোখে পড়বে। আর রাজনীতিবিদরা লন্ডনে ঘাঁটি করে নির্লজ্জরূপে। অথচ আমাদের লক্ষ-কোটি মানুষ হত্যার জন্য ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের দাবি কেউ জানায় না! একটা গবেষণা দেখেছিলাম, ব্রিটিশদের দুর্নীতি ও অপনীতির কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ দুর্যোগের কারণে আজো বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষের মানুষের বিভিন্ন স্বাস্থ্য-সমস্যা দেখা দেয়! কী ভয়াবহ ঔপনিবেশিক কুফল!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেয়েছে। জার্মানি ক্ষমাও চেয়েছে। তো বাংলার মানুষ কেন ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করবেনা লুটেরা ব্রিটিশদের নিকট? ভারতবর্ষের ক্ষমতাসীন মানুষ না হয় প্রভুদের প্রতি অনুগত, আমাদের দেশের একাডেমিয়া, মিডিয়া, ইন্টেলেকচুয়াল বলয়, পলিটিক্যাল স্ফিয়ার এ নিয়ে কেন আলাপ তোলে না? 'ভিসা জটিলতা' এর ভয়, নাকি 'সেকেন্ড হোম' ধসে যাওয়ার দুশ্চিন্তা?

এক লুটসম্রাজ্ঞী দুই নম্বর এলিজাবেথ আজ চলে গেল। আরো একজন আসবে। তাদের কাছে মেরুদণ্ড বন্ধক দেবে অনেকেই, ছায়াসাম্রাজ্যের তল্পিবাহক থেকে খুশি রবে। অল্প কিছু মানুষ লড়াই চালিয়ে যাবে। 

এ লড়াকুদের সেই ১৭৫৭, ১৮৩১, ১৮৫৩, ১৮৫৭, ১৯০৫, ১৯২১, ১৯৪৭ এ ব্রিটিশ শোষকরা ভয় পেতো, এখনো পায়, ভবিষ্যতেও পাবে। 

ব্রিটিশসহ সমস্ত আগ্রাসীদের ত্রাস হবে এই বাংলাদেশ ও তার সন্তানেরা। জাগবে পুরো দুনিয়া। পৃথিবীর নিপীড়িত মজলুম মানুষ জালিম লুটেরাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ দেবে---আজ অথবা কাল অথবা পরশু৷ শুধু সময়ের অপেক্ষা...।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments