সর্বশেষ

কাতার বিশ্বকাপের সমালোচনা কেনো?

কাতার সমাচার
®
মধ্যপ্রাচ্যের ধনাঢ্য দেশ কাতারের নানা সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে এই দেশটিতেই অধিক আয় করার সুযোগ রয়েছে। এখানে অভিবাসীদের গরমে কাজ করতে হয় কিন্তু তারপরও অনেক দিক থেকে আরব ও ইউরোপীয় অনেক দেশের চেয়ে উত্তম।

সৌদি আরব বা আরব আমিরাত, কুয়েতে যে রকম নারী কর্মীদের ওপর অত্যাচার হয় তা কাতারে নেই। 

হ্যাঁ, অভিবাসীদের প্রতি এখনো সমান নাগরিক সুবিধা নেই, কিন্তু যা আছে তা অন্য পশ্চিমাপন্থী আরব দেশের চেয়ে উত্তম৷ 

২০০ বিলিয়ন এর অধিক অর্থ খরচ করেছে কাতার, এ অর্থের একটি বড় অংশ শ্রমিকরাও পেয়েছে। মৃত্যুর যে সংখ্যা প্রকাশ পেয়েছে তা দুঃখজনক। 

আশা করি এর জবাবদিহি কাতার করবে এবং একই সঙ্গে অন্যান্য পশ্চিমা রাষ্ট্রে কতজন অভিবাসী বৈষম্যের শিকার সে ডাটাও প্রকাশ পাবে।

পশ্চিমা ইহুদিবাদী ও ভারতীয় গণমাধ্যম আপনার কানে কাতারের ব্যাপারে বিষ ঢালছে। আপনি সেই বিষাক্রান্ত হওয়ায় অন্যের এজেন্ডার বয়ানকে ফেরি করছেন। কেন?

কাতার ছোট্ট দেশ, তবে নানা দিক বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্র এটি। কিন্তু ধনী হলেও সিঙ্গাপুর বা লুক্সেমবার্গের মত রাজনৈতিকভাবে কাতার পশ্চিমের অন্ধ অনুসারী নয়। কাতারের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান আছে।

এ জন্য কাতারের ওপর সৌদি অবরোধ আসে। তারপর কাতারে মার্কিন ও তুর্কি ঘাঁটি আছে। কাতার আফগানিস্তানের তালেবানদের সঙ্গে পশ্চিমের রাজনৈতিক মিমাংসার ভেন্যু হয়।
এ জন্য কাতার অন্যান্য ছোট্ট ধনী দেশের মত বোবা নয়। বরং পিতার কাছ থেকে ক্ষমতা (অনেকটা রক্তহীন অভ্যুত্থানে) গ্রহণ করা বর্তমান কাতারি আমির রাজনীতিতে সক্রিয়। এ সক্রিয়তার প্রকাশ আপনারা দেখবেন কাতারের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা নেটওয়ার্কে। সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে বার্গেইনিং করতে আল-জাজিরা বন্ধ করার শর্ত রাখে!

আরব দেশসমূহে যারা কাতারের নিন্দা করে তারা বলেন, আরব বসন্ত সম্ভব হতো না আল-জাজিরার কাভারেজ ছাড়া। অনেকটা সাহসী 'সাংবাদিকতা' করায় এ সংবাদমাধ্যম যেকোনো অথোরিট্যারিয়ান রেজিমের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সংবাদজগতে আল-জাজিরার আই-ইউনিট বেশ নাম করা। 

কাতারের প্রকাশ্য অবস্থান ফিলিস্তিনের পক্ষে। বাংলাদেশের মত কাতারও ইসরায়েলের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেয়নি। এ কারণে ফুটবল শুরু হওয়ার আগে ইসরায়েলকে এরা লিখেছিল 'Occupied Palestinian Territory'!
 বৈশ্বিক ময়দানে এই ধরনের একটি আলাপ তোলা যে ফিলিস্তিনের জন্য কত বড় সমর্থন এটি চিন্তাশীলরা বুঝতে পারবেন। যেখানে, সৌদি আরব, আমিরাত ইসরায়েলের কাছে নত হচ্চে সেখানে কাতার ইসরায়েলের অস্বিস্ত্বকেই অস্বীকার করছে। 

এ কারণেই মূলত ইসরায়েলবান্ধব পশ্চিমা গণমাধ্যম কাতারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করছে। তা না হলে কাতার যা করেছে তা অসামান্য, এর ১০%ও কোনো অমুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র করলে বিশ্বকাপের ১ বছর আগে ও ১ বছর পর থেকে মিডিয়ায় 'ওয়াও' ভিডিও চলতো। এটি নির্মম সত্য!

মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি স্বৈরাচারী শাসককে টিকিয়ে রাখছে বা রেখেছে মার্কিন ও অন্যান্য পশ্চিমাদের সমর্থন। তা নিয়ে টুঁ শব্দটি নেই, কাতারের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তার আমিরকে মেনে নিয়েছে এটিতে সমস্যা! এই বাছাইকৃত সমস্যাও সমস্যা। 

কয়দিন আগে মিশরে অনুষ্ঠিত হলো #COP27 এবং এ দেশে আব্দুল ফাত্তাহ সিসি নামের একটি ভয়ানক অগণতান্ত্রিক পশ্চিমা ও ইসরায়েলপন্থী মিলিটারি ডিকটেটর আছে। শার্ম আল শেখে গিয়ে ফূর্তি করে আসা পশ্চিমা নেতা বা মিডিয়া সেই সিসি নিয়ে মুখে এলকোহলিক শিশি ঢুকিয়েছে। এটাই বাস্তবতা!
সৌদি আরব ও ইসরায়েল কাতার থেকে বিশ্বকাপ সরাতে কম চেষ্টা করেনি। তাতে ব্যর্থ হয়ে একে বিতর্ক করতে চেষ্টা করছে৷ এতে ঘি ঢালছে পশ্চিমের মিডিয়া, কথিত মানবাধিকারকর্মীরা। 

এখন আসেন আরেকটি বিষয়ে আলাপ করি। সংস্কৃতি নিয়ে।  কাতার সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশে গেলে এর নিয়ম ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা করবেন এটাই স্বাভাবিক। 

কাতার যদি ৯০ মিনিট মাঠে এলকোহল নিষিদ্ধ করে তাতে কেন কষ্ট হবে। খেলার মাঠে বা এর বাইরে এলকোহল তো উপকারী এ কথা মদ্যপ ডাক্তারও বলবে না। কাতার মুসলিম দেশ। সে তার মুসলিম ও আরব সংস্কৃতি দেখাবে এটাও স্বাভাবিক। 

যেখানে পশ্চিমা নিওলিবারেল সমাজেই সমকামীরা এখনো গ্রহণযোগ্যতা পায়নি সেখানে কীভাবে ইসলামের অনুসারী সমাজে এর গ্রহণযোগ্যতা চায়? ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মে রয়েছে, কওমে লূতকে আল্লাহ ধ্বংস করে দেন এই পাপের কারণে। ইহদি-খ্রিস্টান ধর্ম থেকে দূরে সরে গেছে বলে মুসলমানদের সেই লাইনে হাঁটতে হবে কেন? 
আপনি ব্রাজিলে হওয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সংস্কৃতি হিসেবে উলঙ্গ হওয়াকে সংস্কৃতি হিসেবে গ্রহণ করলে, গ্রীসে সে দেশের উন্মোচন দেখলে কাতারের সংস্কৃতি হিসেবে কাতারিদের অনুন্মোচিত সংস্কৃতি কেন দেখবেন না? সমস্যা তো হোস্ট কান্ট্রির না, আপনার ভয়ানক ইসলামবিরোধী স্ট্যান্ডপয়েন্টে।

ভার‍তের মিডিয়া ও হিন্দুত্ববাদীরা কাতারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের বিশেষ উদ্দেশ্যে। কাতার নুপুর শর্মার ইসলামবিরোধী বক্তব্যের পর কঠোর বার্তা দিয়েছিল। ভারত সেই জন্য কাতারবিরোধী। কিন্তু ভারতের লক্ষ লোকের জীবননির্বাহ হয় কাতারে কাজ করে, কাতারের কিচ্ছু আসবে যাবে না ভারতের শত্রুতায়। এ কারণে সে জাকির নায়েককে দাওয়াত দিতেই পারে সে দেশে, যদিও ফুটবল রিলেটেড আলাপে জাকির নায়েক নেই বলে কাতার দাপ্তরিক বার্তা দিয়েছে। কিন্তু নায়েককে আনলেও ভারতের এতে আপত্তি জানানো অশ্লীল। ভারত যে গণহত্যার অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা খাওয়া ব্যক্তিকে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে এতেও যদি আপত্তি জানায় অন্য দেশ? 

মরুর বুকে কাতার যে হিম্মত ও চমক দেখাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে তা মুসলিম, আরব ও এশিয়ার শক্তিমত্তার পরিচায়ক। পশ্চিমারা একে বিতর্কিত করতে চায়। কিন্তু আপনি প্রাচ্যের লোক কেন নিজের ভাইয়ের বদনামে শরিক হন তা ভেবেছেন? 

ভাবেন নি, কারণ আপনার মগজ বন্ধক দেওয়া। আপনি মূলত অন্যদের বিশেষ করে পশ্চিম ও ইহুদিবাদী পশ্চিমের এশিওপ্রতিনিধি হিন্দুত্ববাদীদের অপপ্রচারে নাম লিখিয়েছেন। আপনার জন্য সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কী করার আছে?
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments