সর্বশেষ

ভাস্কর শামীম শিকদারের অজানা জীবন

ভাস্কর শামীম শিকদার মারা গেছেন। শামীম শিকদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভাস্কর্য বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। 'স্বোপার্জিত স্বাধীনতা'সহ অনেকগুলোর ভাস্কর্যের ভাস্কর ভদ্রমহিলা। বাসস জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে শামীম শিকদার বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। ঢাবির জগন্নাথ হলে স্বামী বিবেকানন্দের ভাস্কর্যও তিনিই নির্মাণ করেন।
২০০০ সালে একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাস্কর শামীম শিকদার নাম শুনলেই অনেকে পুরুষ ভেবে থাকেন। আসলে সেই সময়ে শামিম শিকদার "শামীমা'' হিসেবে প্রথাগত উপায়ে সমাজের 'পুরুষীকরণ' বা 'নারীকরণ' প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছিলেন। যদিও নামের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জকে আমার নিকট গৌণ মনে হয় তথাপি সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এই চেষ্টা সাধুবাদ পেতে পারে। একই সঙ্গে পিতার বংশ 'শিকদার' কে তিনি ধারণ করেছেন যেটি নারীদের ক্ষেত্রে কম দেখা যায়। 

আহমদ ছফা'র 'অর্ধেক মানবী অর্ধেক ঈশ্বরী'তে যে ক'জন নারীর সঙ্গে ছফা তার সম্পর্ককে রসিয়ে কষিয়ে বর্ণনা করেছেন শামীম শিকদার তার মধ্যে অন্যতম। 

ছফা খুব নির্লজ্জের মত 'শামীম শিকদারের স্তনের আকার-আকৃতি' তার লেখায় নিয়ে এসে 'ঈশ্বরী' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি নিয়ে শামিম শিকদার প্রতিবাদ জানিয়েছেন কী না জানিনা। লেখক হিসেবে ছফা বা তসলিমা হলেই কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারেন না৷

অবশ্য তসলিমাও কখনো তার শয্যাসঙ্গীদের 'লিঙ্গের আকার-আকৃতি' নিয়ে লিখেছেন বলে মনে পড়েনা। শুধু 'ক' এ পড়েছিলাম, ইমদাদুল বা নাইমুল তাকে পুরুষতান্ত্রিক খায়েশে ভোগ করে দায়িত্ব না নিয়ে 'পালিয়েছেন'; নাইমুল ইসলাম তাকে গর্ভপাত করিয়ে ক্ষান্ত হননি, তার রাজাকার বাবার সেবা করতে বাধ্য করেছেন এইসব!

শামীম শিকদারে ফিরে আসি৷ তিনি সেই ষাটের দশকে জিন্স প্যান্ট-শার্ট পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা এর আশেপাশে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াতেন। তসলিমা যদি সৎভাবে স্বীকার্য দেন আমি মনে করি শামীম শিকদারের জীবনযাপনের একটি অংশ তাকে প্রভাবিত করেছিল এটি বলবেন। 

শামীম শিকদার সে সময় প্যান্ট পরে, শার্ট ইন বা গিরা দিয়ে কাছে একটি চাকুও রাখতেন কখনো--সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে। 

এর আরেকটি কারণ হতে পারে, তিনি ছিলেন পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ শিকদারের বোন৷ সিরাজ শিকদার সেই সময়ে একটি সমাজের কাছে আলোড়ন তুললেও আরো অনেকের নিকট 'খুনের রাজনীতির' দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। 

তো, শামীম শিকদারের লেখাটেখা সম্পর্কে জানিনা। এ জন্য তার রাজনৈতিক আদর্শও জানিনা। বাংলাদেশের নারীদের অধিকার আদায় বা স্ট্যাটাসকো চ্যালেঞ্জ করার মত কোনো 'সিগনিফিক্যান্ট ইন্টেলেকচুয়াল কন্ট্রিবিউশান' কিছু তার আছে বলে আমার মনে হয়না। ভাই সিরাজ শিকদারের লড়াই, আদর্শ নিয়েও কিছু লেখেননি বা বলেননি তিনি যা ছিল ভীষণ জরুরি! সরকারের নিকট থেকে সুবিধাও নিয়েছেন! সর্বশেষ কি তিনি আত্মকেন্দ্রীক এলিট শ্রেণির ঘুমন্ত প্রতিনিধি হয়ে উঠেছিলেন?

লন্ডন থেকে ফিরে তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন! আমাদের পুঁজিবাদবিরোধী কথিত 'বিপ্লবীদের' একটি বড় অংশের জীবনের গন্তব্য একটি সময়ে পুঁজিবাদী লন্ডন বা প্যারিস বা বার্লিন বা আমেরিকা হয়ে যায়! কেন হয় তার আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামগ্রিক বিশ্লেষণ জরুরি। 

আমরা শামীম শিকদারের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
#শামীম #শিকদার 
#শামিম #শিকদার
#শামিমশিকদার #শামীমশিকদার
#shamimshikdar #shamimshikder

ছবি : শামিম ও ছফা।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments