সর্বশেষ

ফারাজ Faraaz: হোলি আর্টিজান সন্ত্রাসী হামলার সিনেমায় কী আছে?

এতো মানুষের আত্মত্যাগ, পুলিশের জীবনদান, আর্মিদের সাহসী 'অপারেশন থান্ডারবোল্ট' এবং দেশের মানুষের জঙ্গীবিরোধী দৃঢ় অবস্থানকে ডিফোকাসড করে একজনকে বা একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে নির্মিত 'উদ্দেশ্যমূলক' চলচ্চিত্র 'ফারাজ'। 

নুরুজ্জামান লাবু নামের বাংলাদেশের একজন সাংবাদিকের একটি বইয়ের উপর ভিত্তি করে এ সিনেমা বানানো বলে সিনেমার শুরুতেই জানানো হয়েছে। কাহিনী, সংলাপ, নির্মাণ ও বাস্তবতা সব মিলিয়ে আমার কাছে ততোটা আকর্ষণীয় মনে হলো না! 

মনে হলো, জঙ্গী সন্ত্রাসী অসভ্য জঘন্য নিব্রাসের ভেতরের ছোট্ট ইতিবাচক অংশেরও একটি প্রদর্শন ছিল ছবিতে। বাকি ৪ জঙ্গীকে ভীষণ নেতিবাচক দেখিয়ে বড় জঙ্গী নিব্রাসের মাধ্যমে তাদের নিবৃত করা হচ্ছিল। নিব্রাস কথিত উচ্চবিত্ত বলে তার জঘন্য চিত্র দেখানো যাবেনা? ২২ টি মানুষের প্রাণের মূল্য দিতে জানতে হবে।

চলচ্চিত্রে এ ধরনের খলচরিত্র উপস্থাপনে সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ এই 'টাইপেজ' একটি নেতিবাচক চরিত্রকে দর্শকচিত্তে কীভাবে গ্রহণ করছে সেটি নির্ধারণ করে। ভুলে গেলে চলবেনা, নির্বোধ বেহায়াদের একটি অংশ সে সময় এই ইতর নিব্রাসের উপর 'খ্রাস' খাচ্ছিল। 

এমন সংবেদনশীল বিষয়ে আরো গবেষণা করে চলচ্চিত্রটি বানানো উচিত ছিল। এ চলচ্চিত্র 'ফারাজ' এর পরিবার এন্ডোর্স করেছে কী না জানিনা, তবে এতে 'ফারাজ' ও জঙ্গী 'নিব্রাস' পূর্বপরিচিত এটি দেখানো হয়েছে। সিনেমার বয়ান, তারা একসঙ্গে ফুটবল খেলেছিল কিছুদিন! এই বিষয়ে ২০১৬ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বিতর্ক চলছিল।
তবে এটা সত্য, ফারাজকে দিয়ে ইসলামধর্মকে কেন্দ্র করে হওয়া ইসলাম ও মানবতাবিরোধী জঙ্গী তৎপরতা  ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে দারুন ইতিবাচক কিছু বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে (যেটি সে ঐ মুহূর্তে বলেছিল কী না জানার উপায় নেই)। যেমন-- জঙ্গীদের জন্য মুসলিম কমিউনিটির সবাই ভুক্তভোগী হয় ইত্যাদি। 

এতে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ যেমন--র‍্যাব, ডিএম্পির মধ্যে শীতল সম্পর্কও আনা হয়েছে! সোয়াত ও র‍্যাবের একটি যৌথ অভিযান না হওয়ার কারণ দেখানো হয়েছে।

চরিত্র রূপায়নের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে পর্যাপ্ত রিসার্চ করা হয়নি। বেনজীর আহমেদ, মনিরুল, আছাদুজ্জামান, হাসনাত, তাহমিদ প্রমুখকে ফুটিয়ে তোলা যায়নি ঠিকমতো। 

উচ্চবিত্তের সন্তান তাহমিদ হাসিব ও হাসনাত করিমকে নির্দোষ দেখানোর চেষ্টা ছিলো চোখে পড়ার মত। এক জঙ্গী আরেক জনকে গুলি করে মারে এটাও ছিল। 

এ সিনেমা বানাতে আরো মনোযোগী হওয়া দরকার ছিল।  এদের ভুল বা অসঙ্গতির আতঙ্কেই শহিদ অবিন্তা কবিরের মা রুবা আহমেদ হোলি আর্টিজান নিয়ে বানানো চলচ্চিত্রে তার মেয়ের নামে কোনো চরিত্র না রাখার লিগ্যাল নোটশ পাঠিয়েছে দেশ ও বিদেশের সিনেমাওয়ালাদের। 

আর ছোটখাটো ভুল তো আছেই। 'মেট্রোপোলিতান' লিখে পুলিশের গাড়ি এনেছে! পুলিশের ইউনিফর্মের নেইমপ্লেটে নাম লেখায় ভুল করেছে! বাংলাদেশে কি 'পুরো নাম' লেখা হয় ব্যাজে? 

একটি উদাহরণ দিই। তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার জনাব 'আছাদুজ্জামান মিয়া'কে নেইমপ্লেটে 'আচাদুজ্জামন মিয়াঁ' লিখেছে! 

এরকম নানা অসঙ্গতি রয়েছে। সত্যি বলতে, এটি তেমন ভালো মানের নির্মাণ মনে হলো না। তবে চেষ্টা করা হয়েছে কী না সেটিই আমার সন্দেহ! চেষ্টা বা গবেষণা করলে তাহমিদের মাথায় এতো বড় চুল দেওয়া হয় কীভাবে? সন্দেহভাজন জঙ্গী হিসেবে তার হাতে অস্ত্র থাকা ছবিতে তার চুল ছোট, হাসনাতের চুল একটু কম ইত্যাদি দেখা যায়। সেগুলো কই?

অন্যদিকে, কোরিয়ান নাগরিকের ভিডিও থেকে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই আমাদের গৌরবের সেনাবাহিনীর 'ডু অর ডাই' কমান্ডো বাহিনী 'অপারেশন থান্ডারবোল্ট' এর মাধ্যমে কী অসমসাহসিকতা দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটেই জঙ্গীদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেয়! সেই অপারেশনটিকে বীরোচিত উপায়ে দেখানোর চেষ্টাই হয়নি। এ সিনেমার চেয়ে কোরিয়ান নাগরিকের সেই ক্যামেরায় ভিডিওটিকে আপনার বেশি সিনেমাটিক মনে হবে! বললাম না, গবেষণা অপর্যাপ্ত ছিলো অথবা এতো ব্যাপক পরিসরের একটি চলচ্চিত্রে একটি ব্যক্তি বা পরিবারকে চেরাগায়িত করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। 

যেমন ধরেন, ইতালির ও জাপানের যথাক্রমে ৯ ও ৭ জন নাগরিক মারা গেছে! তাদের চরিত্রায়ন শক্তিশালী ছিলো না, দূতাবাসের কয়েকটি চিন্তিত খণ্ডচিত্র দেখানো যেতো; রাষ্ট্রে  শোকের ছায়া নেমেছে ইত্যাদি! এসব নাই, তবে নির্মাতাদের দেশের একজন মাত্র নাগরিকের সৎকার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। এ ধরনের চলচ্চিত্রে এ সব বিষয় সংবেদনশীল তা ভুলে গেলে চলবেনা। 

যাহোক, হিন্দি 'ফারাজ' আমার মতে দেখার মতো, তবে সত্য বা ফ্যাক্ট অনুসন্ধানের জন্য এটি দেখা উচিত হবে না। ফ্যাক্টের জন্য সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা সংবাদ এরচেয়ে অথেন্টিক। 

এখন দেখবো, বাংলায় যিনি বানিয়েছেন 'শনিবার বিকেল' তিনি কী করেন! এর আগে তিনি হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে যে 'ডাব' বানিয়েছিলেন আশা করি আমাদের জাতীয় জীবনে প্রভাব ফেলা একটি ঘটনাকে সেই ফলে অন্তত রূপ দেবেন না।

২।

'ফারাজ' দেখলাম। মানুষের এতো ত্যাগ, পুলিশের আত্মত্যাগ থেকে জোর করে 'ফারাজ' কে বড় করে দেখানোর এজেন্ডা বলা যায় এ চলচ্চিত্রকে। 

হোলি আর্টিজানের আগে 'প্রিন্স অব বাংলাদেশ' ফারাজকে কেউ চিনতো? মনে হয় না। তবে এ চলচ্চিত্রের সবকিছু লতিফুর রহমানের পরিবার এন্ডোর্স করেছে কী না সেটি কেউ জানেন? 

দেখলাম, জনাব বেনজির আহমেদকে ফারাজের মা চাকরি খাওয়ার থ্রেট দিচ্ছেন! পুলিশ ও র‍্যাবের মধ্যে শীতল ও উত্যপ্ত বাক্য বিনিময় দেখানো হচ্ছে। ফারাজের মা মানে লতিফুর রহমানের কন্যা লতিফুরকে বলছেন 'আর্মি পাঠাতে'। মনে হবে কেবল সিমিন রহমান একাই বাবার মাধ্যমে 'আর্মির কমান্ডো বাহিনী ডেকে এনে' 'অপারেশন থান্ডারবোল্ট' করতে বাধ্য করেন। অথচ এ সময় সবাই আলাপ করছিল সমঝোতার মাধ্যমে সবার নিরাপদে মুক্তি নিশ্চিত করা। সিনেমার একটি অংশে এটিই দেখানো হয় যে, বেঞ্জির ও মনিরুলের র‍্যাব ও সোয়াতের যৌথ অভিযান প্রধানন্ত্রী ফোন করে থামিয়ে রক্তপাতহীন 'নেগোশিয়েশন' এর নির্দেশ দেন। অর্থাৎ আর যেন রক্তপাত না ঘটে। 

সিনেমায় ফারাজ এবং নিব্রাস যে পূর্বপরিচিত ছিলো এটিও স্বীকার করা হয়। সেই সময় ফারাজের সঙ্গে নিব্রাসের যোগাযোগ থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এ সিনেমায় ইতিবাচকভাবে তাদের পরিচয় দেখানো হয়েছে! 

অন্যদিকে তাহমিদের বড় চুল কোথায় পেলো কে জানে? প্রাপ্ত ছবিতে সে সময় তাহমিদকে ছোট চুলেরই দেখা গেছে। অন্যদিকে, তাহমিদকে জঙ্গীদের সঙ্গে খুবই স্বাভাবিকভাবে অস্ত্র হাতে ঘুরতে দেখা গেছে!

হাসনাত করিমকেও স্বাভাবিক দেখা গেছে! এ দুইজনের সঙ্গে ছাদের দৃশ্যটি ফোটাতেই পারেনি। এদের কারো চরিত্রই পারফেক্ট হয়নি।

ফারাজের প্রশংসা করতে এসে পরিচালক আমার মনে হয় জঙ্গী খুনি নিব্রাসের ভেতরের ইতিবাচক অংশ তুলে আনতে চেষ্টা করেছে! এটা অন্যায়। এসব জঙ্গীদের মধ্যে ইতিবাচক কিছুই নাই।

সব মিলিয়ে বলবো এটা বাজে সিনেমা হইছে। প্রোপাগাণ্ডা সিনেমা হইছে তবে এতে সত্যকে ফুটিয়ে তোলার চেয়ে একটি পরিবারকে ফোকাস করা হয়েছিল বলা যায়!

কস্টিউম খুবই বাজে। পুলিশের নাম কখনোই বাংলাদেশে পুরোটা লেখা হয়? মনে হয় না। আবার, 'মেট্রোপোলিতান পুলিশ' লিখেছে! এতো কম গবেষণা করে এ ধরনের সিনেমায় নামা উচিত হয়নি। বেনজির আহমেদ ক্লিন শেভড--তাকে হালকা দাঁড়ি দিলো কেন? মনিরুলও ক্লিনশেভড!
৩।
'Faraaz',  according to my understanding is not a good one if you search fact in the cinema. The cinema focused a privileged upper class family depriving the role of all the Other people!  Besides, there's a little attempt to portray the brutal terrorist Nibras slightly less villain than the other four ones after establishing the story that Faraaz and Nibras were once played soccer together and that's why Nibras was trying to let Faraaz escape! 

The film gets 2.5/5 from my corner.

'ফারাজ' কি সম্মিলিত প্রতিরোধকে ডিফোকাসড করে একজনকে চেরাগায়িত করার একটি প্রকল্প?
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments