ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে গতকাল ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) আয়োজিত 'ফ্যাসিবাদের জমানায় শিকারি সাংবাদিকতা' শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়৷
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. A-Al Mamun স্যার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
ড. মামুন মূলত Predatory Journalism এর বাংলা 'শিকারি সাংবাদিকতা' করেছেন।
একাডেমিক অঙ্গনে 'Predatory Journal'ধারণা আগেই ছিল৷ অর্থাৎ মানহীন জার্নাল যা অর্থের বিনিময়ে কোনো ধরনের 'নির্দয় পিয়ার রিভিউ' ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে কোনো গবেষণা প্রকাশ করে।
বিভিন্ন একাডেমিক যাদের দ্রুত প্রকাশনা দরকার অথবা মানসম্মত জাতীয় বা আন্তর্জাতিক প্রকাশনা নাই তারাই মূলত টার্গেট বা 'শিকার'।
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও শিকার করা হয়। অধ্যাপক মামুন এখানে মূলত সরকার, সরকারি গোয়েন্দা, ক্ষমতার স্বাদ নেওয়া গণমাধ্যমের মালিক এবং সাংবাদিকদের জোট (Nexus)কে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সাংবাদিকতাকে—যা ভিন্ন মতাদর্শের বা তুলনামূলক কম ক্ষমতাধরদের নাকানিচুবানি খাওয়াতে করা হয়—শিকারি সাংবাদিকতা বলেছেন৷
তিনি প্রবন্ধে চার (৪) টি ঘটনা অধ্যয়ন (Case Study) করেছেন যা আরো বিস্তৃত হতে পারে।
প্রথমটি, প্রথম আলোর Samsuzzaman Shams ভাইয়ের করা স্বাধীনতা দিবসের স্টোরিটা। এটির পরে একাত্তর টিভির শিকারি সাংবাদিকতার শিকার হন শামস ভাই এবং যার কারণে কারাগারে যান৷ অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর ভিত্তি করে সেট করা পলিটিকাল কারেক্টনেস মিটারের ছাঁকনিতে পড়ে যে কেউ শিকার হয়ে যেতে পারতেন!
দ্বিতীয়টি, হচ্ছে পুঁজিবাদী অসভ্য বসুন্ধরা গ্রুপের আনভীর বনাম মুনিয়ার ঘটনার কাভারেজ৷
এই ঘটনায় আনভীর স্পষ্ট অপরাধী হলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে মুনিয়াকে শিকার করা হয়। তার চরিত্র ও পারিবারিক নানা অপ্রাসঙ্গিক বিষয় এনে আনভীরকে নিরাপদ রাখা হয়৷ বিজ্ঞাপন বা অর্থের কাছে সাংবাদিকতা হেরে যায় এবং ভিক্টিমকেই অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়৷ আনভীর অবশ্য দ্রুতগতিতে খালাশও পায়! ক্রাইম রিপোর্টারদের সংগঠনসহ অনেকেই আনভীরকে ফুল দেয়৷ এখন শফিক রেহমান যেমন আনভীরের বাবাকে কেক খাওয়ান!
এ প্রসঙ্গে ড. মামুন হারম্যান ও চমস্কির মডেলের আলাপ করেন।
তৃতীয় ঘটনাটি, পরিমণির। এখানে ড. মামুন দাবি করেন পরিমণির সাথে যার ঝামেলা হয় সেই নাসির সাবেক পুলিশের আইজিপি বেনজিরের ঘনিষ্টজন হওয়ায় পরিমণিকে শিকার করে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ট সংবাদমাধ্যম। একের পর এক পরিমণিকে নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ হয়।
তবে ড. মামুনের সাথে এই উদাহরণে আমি একমত নই। কারণ, পরিমণি নিজেও ক্ষমতাকাঠামোর অংশ ছিল। তার সাথেও বেনজির ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতনদের দারুণ ''প্রেমপিরিতির সম্পর্কই" ছিল। সাকলায়েন নামের পুলিশের বিবাহিত এক কর্মকর্তার সাথে পরিমনির সেই চুম্বনের ভিডিও আজো অনলাইন নিউজপেপারে পাবেন৷
আবার, পরিমনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও 'মা' বলে ডাকতেন। এর অর্থ পরিমনিকে দুর্বল যেন আমরা না ভাবি৷ তিনি ফ্যাসিবাদী জমানার 'মধুফাঁদ' (Honey trap) টিমের সাথে যুক্ত বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর সেলেব্রেটি হিসেবেও তার সংবাদমাধ্যমে খবর হওয়া স্বাভাবিক।
তবে যে প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার ঘরে প্রবেশ করেছিল যা পরিমাণে লাইভ করেছিলেন তা যেকোনো নাগরিকদের সাথে হওয়াই নিন্দনীয়।
কিন্তু পরিমণি ক্ষমতাকাঠামোর অংশ ছিলো বলেই হাসিমুখে 'Don't ♥️me b-itch' লিখে কারাগার থেকে বের হতে পেরেছিল, শিকার অন্য কেউ এই সাহস দেখাতে পারেনি৷
চতুর্থ ঘটনা হিসেবে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের পর সারাদেশে ১৭জনকে হ-ত্যা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পেটোয়া বাহিনী।
এপ্রিলের ৩ তারিখ নারায়নগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হককে তাঁর 'দ্বিতীয় স্ত্রীর' সঙ্গে আটক করে পুলিশ।
সেই সময়ে মামুনুল হক তার প্রথম স্ত্রীকে ফোন দিয়ে যা বলেন সেই ঘটনা গোয়েন্দারা একাত্তর টিভি, সময় টিভিসহ প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমের হাতে ছড়িয়ে দেয়৷ এতে আমরা অনেকেও প্রভাবিত হই যে, এতোগুলা মানুষ মরে গেল অথচ জনাব মামুনুল এই কাণ্ড করলেন! ড. মামুন মনে করেন যে, মুন্সি মামুনুল হক্বও একজন শিকার।
এই আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ এবং তারেক রহমানের মধ্যে কথোপকথন সংবাদ মাধ্যমে কীভাবে এলো এবং কীভাবে শিকার হয়ে তিনি ভীষণ চাপের মধ্যে ছিলেন সেটি বর্ণনা করেন। এই অভিজ্ঞতাটা আমার মনে হয় কেস স্টাডিতে যুক্ত করা যায়৷ মামুন স্যারকে আমি জানাতে তিনি বললেন, করবো।
সঙ্গে মান্নার সেই ভাইবারের কল ফাঁস, ডা. মুরাদের কথোপকথন ফাঁস বা বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনার কথা ফাঁসের ঘটনাও আসতে পারে।
এতে কী মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো যুক্ত কী না সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। নাগরিকদের গোপনীয়তা ভঙ্গ করতে গোয়েন্দাদের কে কে জড়িত সেটি বের করা জরুরি যেমন, তেমনই কারা গোয়েন্দাদের রেকর্ডিং মোবাইল কোম্পানি থেকে সরবরাহ করতো আর কারা গণমাধ্যমে তা পৌঁছে দিতো সেটি বের হওয়াও জরুরি।
পুরো পত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইন্ডিংস হচ্ছে, বাংলাদেশে শিকারি সাংবাদিকতার সঙ্গে সরাসরি ভারতের দূতাবাসের একটি সংযুক্তি বা কোলাবোরেশান ছিল।
আমি এ বিষয়ে সরাসরি উদাহরণ দিতে বললে নিরাপত্তাজনিত কারণে ড. মামুন দেননি। তবে মনে হয়, মূল কাজ যখন প্রকাশ হবে তখন অবশ্যই এ সংক্তান্ত ঘটনা বা প্রমাণ সংযুক্ত করা হবে। কারণ, একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে জনমন দখল করতে অন্য কোনো দেশের এম্বাসি কার্যক্রম চালাতে পারেনা।
সার্বিক আলোচনা দেখে আমার মনে হয়েছে, 'শিকারি সাংবাদিকতা' বর্গ ইংরেজি ''প্রিডেটরি জার্নালিজম থেকে এলেও এটি মূলত 'অপপ্রচার' (Propaganda) এবং সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ দিয়ে একটি জগাখিচুড়ি যা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হয়৷ এটিকে Information Disorder (ক্লেয়ার ও হোসাইন, ২০১৭) এর তৃতীয়টি অর্থাৎ Malinformationও বলা যায়।
ড. মামুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একে তাত্ত্বিক একটি কাঠামো দিতে চেষ্টা করছেন।
তিনি ২০০৭ এর ১/১১ এর প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দাদের সাথে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এর সূচনা বলতে চান।
তবে ড. খোরশদ আলম বলেন, এর সূত্রপাত আরো আগে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে বা পরে থেকেই ক্ষমতাসীনরা বিপরীত মতের ওপর শিকারি দৃষ্টিভঙ্গিতে নজরদারি করে খবর প্রচার করে।
তবে, আগের সংবাদকর্মীরা কেউ কেউ ঠিক কী কারণে অন্তত মেরুদণ্ড ঠিক রেখেছিল এবং শেষ দেঢ় দশকে কী কারণে পনের আনা অমেরুদণ্ডী হয়ে গেলেন সেটি নিয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন।
খ আলম 'ফ্যাসিবাদের বয়ান বনাম গণমানুষের গণমাধ্যম' শীর্ষক সেমিনার নিবন্ধে বিগত সরকারের বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ারগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন৷
মামুন স্যার ও খোরশেদ স্যার দুটি কাজকে এক করে কোলাবোরেশান করে প্রকাশ করার কথা ভাবতে পারেন।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান - Salimullah Khan।
ড. খান ইংরেজি আর বাংলার মিশ্রণ নিয়ে দুঃখ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মামুন কেন নিজের সন্তানকে O Level পড়ান সেটি তার মুখের ওপর বলে দেন। তিনি ফ্যাসিবাদের নানা রূপ নিয়েও আলাপ করেন।
সেই সাথে সমস্ত দায় সাংবাদিকদের না দিয়ে অলথুসার বর্ণিত Ideological State Apparatuses (ISA) হিসেবে আরো যারা যুক্ত রয়েছেন তাদের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন৷ বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবর্গ তাদের বিচারের কথাও তিনি বলেন৷
তবে, ড. সলিমুল্লাহ খানের আলোচনা আরো বিস্তৃত হবে এই আশায় গিয়েছিলাম। কারণ, তিনি অনেক বিষয়ে বললেও এই প্রথম সরাসরি সাংবাদিকতা নিয়ে বলেছেন৷
তিনি তাঁর 'সত্য সাদ্দাম হোসেন ও স্রাজেরদৌলা' গ্রন্থের আলোকেও 'শিকারি সাংবাদিকতা' ব্যাখ্যা করতে পারতেন।
ঐ গ্রন্থে ড. খান ইরাকের সাদ্দাম হোসেনকে কীভাবে আমেরিকার মিডিয়া Weapons of Mass Destruction (WMD) এর নির্মাতা এবং বিশ্বের জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে শিকার করে সেটি উল্লেখ করেন।
সাদ্দামকে খলনায়ক বানিয়েই তার হাত থেকে উদ্ধারের জন্য আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদীরা ইরাকে আগ্রাসন চালায়—এই তো স্বাধীনতা ব্যবসায়। অপরের ত্রাতা হয়ে মজলুমকে মুক্ত করা বা সেইভ করার রাজনীতি (Savior politics) এর মূল হাতিয়ারই তো গণমাধ্যম তথা এর শিকারি সাংবাদিকতা তথা অপপ্রচার।
ড. সলিমুল্লাহ তাঁর গ্রন্থে বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশ দখলের আগে ও পরে ব্রিটিশ দখলদারদের মাধ্যমে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা তথা গোটা ভারতবর্ষের প্রধান স্বাধীন নবাবকে খলনায়ক বানানোর আলোচনাও করেন৷
তিনি দেখান, সেই সময়ে ব্রিটিশ বেতনভুক্তদের মাধ্যমে সিরাজকে শিকার করে ভুয়া ইতিহাস লেখে ব্রিটিশ দালাল শিকারিরা। এই ভুয়া ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে হালের কুশল বরণ চক্রবর্তী সিরাজের চরিত্রহনন করে যাচ্ছে। শিকারি সাংবাদিকতার আলাপে প্রফেসর খান এই বিষয়েও আলাপ করতে পারতেন।
পাশাপাশি, ড. মামুন ও ড. খান উভয়েই ভারতীয় মাধ্যম কীভাবে Chief Adviser GOB Mahfuj Alam Shafiqul Alam প্রমুখকে শিকার করছে সেটি নিয়েও খুবই প্রাসঙ্গিক আলোচনা করতে পারতেন৷ হয়তো বিস্তারিত কাজে ভারতীয় গণমাধ্যমের শিকার নিয়ে আলাপ থাকবে। এটাই প্রতিবয়ান: আলাপ-উন্মোচন-বিনির্মাণ।
আরেকটি বিষয় জানিয়ে রাখি। শিকারি সাংবাদিকতার শিকার কিন্তু প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ হচ্ছে, আগেও হয়েছে। যখন গণমাধ্যম গণের যা জানা দরকার তা না জানিয়ে অন্য বিষয়কে মানুষের মগজে ঢোকায়—বেন বাগডিকিয়ানের Media Monopoly পড়তে পারেন—তখন সেটিও জনগণকে শিকারই করা।
রবার্ট ম্যাকচেজনি বলেন, আপনি ভাবতেছেন আপনি পুঁজিবাদী সংবাদমাধ্যম বা খবরপত্র কিনছেন, এবং পত্রিকাটিই পণ্য। আদতে আপনি নিজেই তার পণ্য! আর মুনাফালোভীদের হাতে থাকা ইন্টারনেট ও এলগোরিদম এমনভাবেই কাজ করছে যা গণতন্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে (ম্যাকচেজনি, ২০১৩)।
নোয়াহ হারারি (২০২৪, ২০১৮) বলেন— 'নেক্সাসেও' এই আলাপ আছে—এই যুগে কেউ আপনাকে ফ্রি খবর দিচ্ছেন মানেই হচ্ছে আপনিই তার পুঁজি। আর সংবাদ বা তথ্য থেকে উদ্ভূত সত্যকে ক্ষমতায় রূপান্তরিত করাই হচ্ছে আধুনিক প্রভাবশালীদের উদ্দেশ্য (হারারি, ২০২৪)।
এর মানে হচ্ছে, আমরা সংবাদমাধ্যমের পুঁজিবাদীদের আগ্রাসী আচরণের শিকার। তারা আবেগ, যুক্তি, প্রেম, বিভেদ নানাভাবে আমাদের শিকার করে। মফিদুল হক (১৯৮৫) তথ্য সাম্রাজ্যবাদের ইতিবৃত্তিতে এই আলাপ করেন যদিও নিজেও শেষে একটি মনোজগত নিয়ন্ত্রণ চক্রের সাথেই মিলে ছিলেন।
তথ্য নৈরাজ্যের মাধ্যমে গণমাধ্যম কাজের কথা প্রকাশ না করে অকাজের বা অদরকারী জিনিসকে প্রকাশ করে। গণবিচ্ছিন্ন বা ক্ষমতার জন্য অনুকূল ছোট খবরকে বড় করে (Priming) প্রচার করে। ফ্রেমিং করে নিজেদের মত করে।
জেনেভাভিত্তিক Human Rights Information and Documentation System (HURIDOCS) এর মতে অপপ্রচার তিন ধরনের ক্ষতি করে, ১। সংশয়-সন্দেহ তৈরি করে ২। সমাজে বিভেদ তৈরি করে এবং ৩। আবেগ নিয়ে খেলা করে!
একটু ভেবে দেখলে দেখবো, শিকারি সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য বা কার্যক্রমও এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ, উপ-উপাচার্য মামুন আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. Khorshed Alam ও প্রবন্ধের শেষে আলাপ করেন।
সর্বশেষ প্রশ্নোত্তর পর্ব হয়।
সেখানে আমি তিনটি প্রশ্ন করি৷
ক) শিকারি সাংবাদিকতায় ভারতীয় দূতাবাসের সরাসরি সংযুক্তির প্রমাণ (নিরাপত্তাজনিত কারণে ড. মামুন এর উত্তর দেননি)
খ) আহমদ ছফা যে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ জিতলে কেবল আওয়ামী লীগ জেতে, তবে আওয়ামী লীগ হারলে গোটা বাংলাদেশ হারে—বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এর ব্যাখ্যা কী? (সম্ভবত আরো কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ায় এটির সরাসরি উত্তর দেননি ড. সলিমুল্লাহ খান)
গ) সলিমুল্লাহ খানকে কি প্রথম আলো বা অন্যান্য মিডিয়া গুম বা শিকার করেছিল কিনা (ড. খান আগেও বলেছেন তার লেখা প্রথম আলো ছাপতোনা। কিন্তু আমি জানতে চাচ্ছিলাম এর ব্যাখ্যা। সময় স্বল্পতার কারণে এর উত্তরও আসেনি)
PIB এর মহাপরিচালক Faruk Wasif ভাইকে ধন্যবাদ এমন আয়োজন করে আমাদের জানার পরিধিকে সমৃদ্ধ করার সুযোগটি আনার জন্য।
এর আগে এই দেশে পিআইবি বলে যে কিছু ছিল সেটি জানারও উপায় ছিলো না!
এখন আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো পিআইবির মত সক্রিয় হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করলে জাতির অনেক কিছু পাওয়ার আছে!
ছবি: Jaglul Asad ভাই যে সলিমুল্লাহ খানে লিখিত নতুন বই স্নেহুসহকারে আমাকে দিয়েছেন সেটির নাম 'আ মরি আহমদ ছফা: বিষয় বাঙালি মুসলমানের মন'।
এই বইয়েরই একটি কপিতে স্বাক্ষর দেওয়ার পর ছবি তোলার সময় অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ছবি তুলে কী হবে? আমি বললাম, ভীষণ শক্তিশালী স্মৃতি তৈরি হয়। তিনি বললেন, হয়েছে? বললাম, নিশ্চয়ই। পরে দুইজনেই হাসলেন।

0 Comments