সর্বশেষ

জাবিতে'ভাষা দিবস'পালন :একটি মূল্যায়ন

রাতা ১.৩৩ মিনিটে লিখছি।আল বেরুনী হল থেকে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে এলাম মাত্র।
শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে কয়েকদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলেও পুরো অনুষ্ঠানে যথেষ্ট পরিমার্জনের অভাব ছিল।
আজীবন ভাষা দিবসে যে গানটি শুনেছি তা ছিল 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি'।এবারই প্রথম কোন ভাষা দিবসে এই গানটির'অবমূল্যায়ন' দেখলাম !সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা পর্যন্ত একসাথে সুর মিলিয়ে প্রভাতফেরীর এই বিখ্যাত গানের চরণগুলো গাইছিল।তারপরও অনুষ্ঠান পরিচালনাকারীদের কাছে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো'গানটি কদর পায়নি।তারা 'একি মা তোমার','মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে 'ইত্যাদি ভাষা দিবসের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ গান বাজায়।এর সাথে উপস্থাপিকা এক নারীর সস্তা ন্যাকামীও সাধারণ ছাত্রদের মাঝে যথেষ্ট বিরক্তি সৃষ্টি করে।এই উপস্থাপিকা বারবার'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা'কবিতটি আবৃত্তি করছিলেন।অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে ঐ একটি কবিতার উপরই তিনি অতিমাত্রায় দ্ক্ষ।
এবার আসা যাক বেদীতে ফুল দেওয়া বিষয়ে।অনুষ্ঠানের শুরুতেই'বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের একটি সংগঠন"নিজেদের পুষ্পার্ঘ প্রকাশ্যে ছিড়ে ফেলে।পরে জানা যায়,একটি প্রভাবশালী সংগঠনকে তাদের নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বেদীতে ফুল দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার প্রতিবাদে তারা শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
এবারে একটু ভিন্ন বিষয় যদিও সেটা খুবই স্পর্শকাতর।আমি যথাসম্ভব নিরপেক্ষভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি।
বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।
একইভাবে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানেরও নব্য বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রয়েছে।আমরা এই জাতীয় নেতাদের সম্মান করি।
তবে অপ্রিয় সত্য হল এনারা ভাষা আন্দোলনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেননা।যারা ছিলেন তাদের আমরা সবাই চিনি।সালাম,বরকত,রফিক,জব্বার,শফিউর প্রমুখের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা বাঙালি,বাংলা আমাদের মাতৃভাষা।
কেন তবে সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে একটি দিন আমরা এই ভাষা শহীদদের নাম সমস্বরে উচ্চারণ করতে পারিনা।সারাটি বছর বঙ্গবন্ধু আর জিয়া,খালেদা আর হাসিনার স্তুতি করে যে স্লোগান মাতৃভাষায় দেই আমরা তার রূপকারদের এই অবমূল্যায়ন জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জিত করে।কেন একটি দিন,মাত্র একটি দিন সালাম আর জব্বার আমাদের স্লোগান হয়না?
কিসের আদর্শ নিয়ে এদেশের ছাত্র সংগঠনগুলো এতো দাপট দেখায়?নিজের ভাষার প্রতি যদি মমত্ববোধ থাকতো তবে ভাষা শহীদেরা এই দিনে অনেক বেশি আলোচিত হতো,কিন্তু তারা হয়না।তাদের অপরাধ তারা প্রচলিত কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলনা।এই হল আমাদের ভাষা ও ঐতিহ্যপ্রীতির একটা সাধারণ নমুনা।
দেশের একটি প্রথম শ্রেণীর সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাষা দিবস উদযাপনের বিবরণ লিখতে গিয়ে তাই আমার দুচোখ জলে ভরে ওঠে।
সেই জলভরা চোখে একটি বিশুদ্ধ চিন্তাধারা সমৃদ্ধ বাংলাদেশের আবছা প্রতিচ্ছায়াও উঁকি দেয়। !
[মঈনুল ইসলাম রাকীব
১ম বর্ষ,সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ]
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments