সর্বশেষ

ঘাম ঝরিয়ে পাইনি কিছু আজো

মেদবহুল শরীর,
তার উপরে থাকা ব্রান্ডের জামা,
প্যান্টের নিচে পরা অন্তর্বাস,
অথবা নানা জাতের ব্রা,
দুর্গন্ধময় নষ্ট শরীরে মাখা পারফিউম,
পাজেরো কিংবা নোয়াহ,একটি বিএমডব্লিউ
অথবা রূপসী বাংলার দামী পতীতাগুলো,
টেলিভিশন চ্যানেল,পত্রিকা অফিস ও
নামী দামী যমুনা-বসুন্ধরা মার্কেট,
সেখানের বার,সিনেপ্রেক্স
এবং চাইনিজ-থাই খাদ্যের রেস্টুরেন্ট,
কত জাতের খাবারের সমারোহ !
ভারতীয় নায়িকার নগ্ন নৃত্য দেখে
বিকৃত যৌনাচার করার নির্জন জায়গা অথবা
পার্ক কিংবা উদ্যান,দূরপাল্লার গাড়ি,
সমুদ্র সৈকতের হোটেল
থেকে শুরু করে গণভবন,
এমপি হোস্টেল,
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবধ,
চাটুকারের স্তুতিতে ভেসে যাওয়া
জাতীয় নেতাদের সমাধি, কিংবা
অশ্রাব্য ভাষা অথবা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার
স্বীকৃত ব্যয়বহুল ভবন
'একটি জাতীয় সংসদ'
এই সব,সবই আমার ঘামঝরানো পরিশ্রমে গড়া।
আমার রক্ত পানি হয়ে যায়,
আমার শরীরের হাড় গোনা যায়,
আমার পেটে একটি পাঁচটাকার রূটি
ফুটপাথ থেকে স্থায়ী হয়,
আমার স্ত্রীর বুকগুলো শুকিয়ে যায়,
আমার সন্তান অনাহারে টোকাই হয়,
আমার বসবাসের অধিকার নেই
আমারই নির্মিত বহুতল ভবনে,
ডাক্তার আমায় চেনেনা,
আমার শরীরের ঘামে নাক শিঁটকিয়ে ওঠে
রিশিপশনিস্ট বৃহত্‍-বক্ষের নারীগুলো,
আমার গড়া ব্যাংকে আমার টাকা থাকেনা,
ইটভেঙ্গে,মাথায় সিমেন্ট নিয়ে
এখনো আমি ঘাম ঝরাই !
বহু গার্মেন্টেস হয়,সেখানে
ভোর রাত থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আমি থাকি।
কখনো আমার শরীর
নিয়ে খেলা করে বেজন্মা পুঁজিবাদী,
আমি কিছু বলতে পারিনা-
ঘামঝরানো মানুষদের জন্য আইন নেই।
বরং বিনিময়ে 'চাষা','কামলা'দিন মজুর'মুটে','এই খালি','ছোটলোক' নামক
শব্দগুলো পেয়েছি জীবনে।
মজদুর এখন 'এক' হয়ে গেছে,
তবুও গুটিকয়েক পশুর কাছে
আমার ঘাম বড়ই অস্বস্তিকর !
অকৃতজ্ঞরা ভুলে যায়,
আমার ঘামই সভ্যতার মৌলিক নির্মাতা।
ঘাম ঝরে বলেই আনন্দ আসে কিছু ক্ষণে-
ঘামবিহীন নষ্ট মানুষদের ঘরে।
সে কথা অবশ্য কেউ জানেনা!!!
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments